১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

আমর একুশে বইমেলা ২০২৬: রমজানে শুরু নিয়ে প্রকাশকদের বিতর্ক

বাংলাদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের প্রতীক্ষিত আয়োজন, আমার একুশে বইমেলা ২০২৬, নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে। তবে রমজান মাসে মেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ৩০০-এর বেশি প্রকাশক ইতিমধ্যেই মেলার বয়কটের হুমকি দিয়েছেন, আর মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি তাদের সিদ্ধান্তে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

প্রস্তুতি সম্পন্ন, স্টল বরাদ্দ চূড়ান্ত

ডক্টর মোঃ সেলিম রেজা, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব, জানান, স্টল ও প্যাভিলিয়নের লটারি সম্পন্ন হয়েছে এবং বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়েছে। এবার মোট ৬৬২টি স্টল বরাদ্দ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ১৩৩টি বেশি। নতুন ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও প্রথমবারের মতো স্টল পেয়েছে। মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ২৩টি, যার মধ্যে ১১টি স্থাপিত এবং ১২টি নতুন প্রকাশকের জন্য। স্টল বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য বাংলা একাডেমি পেমেন্টের সময়সীমা ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।

প্রকাশকদের বয়কট হুমকি

রমজান মাসে মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রকাশকরা প্রবল আপত্তি তুলেছেন। অসংখ্য প্রকাশক জানিয়েছেন, দিনের কাজের সময় কমে যাওয়া এবং ভোক্তা ব্যয়ের হ্রাস বই বিক্রির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকাশকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সমতুল্য হবে।

তারিক রহমানের কাছে প্রকাশক মহলের আবেদন

প্রকাশক সংস্থা প্রকাশক ঐক্য তারিক রহমানের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করেন রমজান মাসে মেলায় অংশ নেওয়া ‘বাণিজ্যিক আত্মহত্যা’র সমান। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত এক বছর ধরে শিল্পক্ষেত্রে চাপ বেড়েছে। কাগজের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচও প্রকাশকদের আর্থিক দিক থেকে আরও দুর্বল করেছে।

মেলার সাফল্যের জন্য স্থগিতকরণের প্রস্তাব

প্রকাশকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা বইমেলার বিরোধী নয়। বরং তারা চান একটি সফল ও সমন্বিত অনুষ্ঠান, যা ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ধরে রাখবে। তারা প্রস্তাব করেছেন, রমজান ও নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে মেলা ঈদের পর আয়োজন করা হোক। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকার এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করলে প্রকাশনা শিল্পের বড় ক্ষতি রোধ হবে এবং আমার একুশে বইমেলার ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।

বর্তমানে, মেলার আয়োজন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা আয়োজক ও প্রকাশকদের মধ্যে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ঐতিহ্য রক্ষার সংঘর্ষের মঞ্চ তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

আমর একুশে বইমেলা ২০২৬: রমজানে শুরু নিয়ে প্রকাশকদের বিতর্ক

০৭:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের প্রতীক্ষিত আয়োজন, আমার একুশে বইমেলা ২০২৬, নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে। তবে রমজান মাসে মেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ৩০০-এর বেশি প্রকাশক ইতিমধ্যেই মেলার বয়কটের হুমকি দিয়েছেন, আর মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি তাদের সিদ্ধান্তে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

প্রস্তুতি সম্পন্ন, স্টল বরাদ্দ চূড়ান্ত

ডক্টর মোঃ সেলিম রেজা, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব, জানান, স্টল ও প্যাভিলিয়নের লটারি সম্পন্ন হয়েছে এবং বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়েছে। এবার মোট ৬৬২টি স্টল বরাদ্দ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ১৩৩টি বেশি। নতুন ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও প্রথমবারের মতো স্টল পেয়েছে। মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ২৩টি, যার মধ্যে ১১টি স্থাপিত এবং ১২টি নতুন প্রকাশকের জন্য। স্টল বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য বাংলা একাডেমি পেমেন্টের সময়সীমা ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।

প্রকাশকদের বয়কট হুমকি

রমজান মাসে মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রকাশকরা প্রবল আপত্তি তুলেছেন। অসংখ্য প্রকাশক জানিয়েছেন, দিনের কাজের সময় কমে যাওয়া এবং ভোক্তা ব্যয়ের হ্রাস বই বিক্রির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকাশকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সমতুল্য হবে।

তারিক রহমানের কাছে প্রকাশক মহলের আবেদন

প্রকাশক সংস্থা প্রকাশক ঐক্য তারিক রহমানের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করেন রমজান মাসে মেলায় অংশ নেওয়া ‘বাণিজ্যিক আত্মহত্যা’র সমান। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত এক বছর ধরে শিল্পক্ষেত্রে চাপ বেড়েছে। কাগজের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচও প্রকাশকদের আর্থিক দিক থেকে আরও দুর্বল করেছে।

মেলার সাফল্যের জন্য স্থগিতকরণের প্রস্তাব

প্রকাশকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা বইমেলার বিরোধী নয়। বরং তারা চান একটি সফল ও সমন্বিত অনুষ্ঠান, যা ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ধরে রাখবে। তারা প্রস্তাব করেছেন, রমজান ও নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে মেলা ঈদের পর আয়োজন করা হোক। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকার এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করলে প্রকাশনা শিল্পের বড় ক্ষতি রোধ হবে এবং আমার একুশে বইমেলার ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।

বর্তমানে, মেলার আয়োজন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা আয়োজক ও প্রকাশকদের মধ্যে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ঐতিহ্য রক্ষার সংঘর্ষের মঞ্চ তৈরি করছে।