০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি ভেনিসে আবারও আলোচনায় ব্রুকলিন-নিকোলা, পুরোনো বিরতির পর ফিরলেন আলোয়

ইরান যুদ্ধে সমর্থন কমছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৩ শতাংশেই আটকে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন আরও কমেছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার প্রতি অনুমোদনের হারও ৩৩ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের জনমত জরিপগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের।

চার দিনের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন। মার্চে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ এবং চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৩৪ শতাংশ। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

রিপাবলিকানদের মধ্যেও কমেছে সমর্থন

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি কমেছে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে। মার্চে যেখানে ৭৭ শতাংশ রিপাবলিকান সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন, এখন সেই হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ শতাংশে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার ৩৩ শতাংশেই রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে জ্বালানির বাজারে

ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে ঠেকাতে সামরিক অভিযান প্রয়োজন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। এরপর প্রায় ছয় মাস ধরে এর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি লড়াই কিছুটা কমলেও ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে আঞ্চলিক তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রতি গ্যালনে এক ডলারের বেশি বেড়েছে এবং তা প্রায় সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইরানের ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ সময় চলবে। চলতি মাসের শুরুতে এমন ধারণা পোষণ করেছিলেন ৮০ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের আস্থা আরও কমেছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসে অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন লড়াই করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেস নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থী সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ১৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন। দেশব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে ১ হাজার ২১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই

ইরান যুদ্ধে সমর্থন কমছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৩ শতাংশেই আটকে

০৬:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন আরও কমেছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার প্রতি অনুমোদনের হারও ৩৩ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের জনমত জরিপগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের।

চার দিনের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন। মার্চে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ এবং চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৩৪ শতাংশ। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

রিপাবলিকানদের মধ্যেও কমেছে সমর্থন

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি কমেছে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে। মার্চে যেখানে ৭৭ শতাংশ রিপাবলিকান সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন, এখন সেই হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ শতাংশে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার ৩৩ শতাংশেই রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে জ্বালানির বাজারে

ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে ঠেকাতে সামরিক অভিযান প্রয়োজন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। এরপর প্রায় ছয় মাস ধরে এর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি লড়াই কিছুটা কমলেও ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে আঞ্চলিক তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রতি গ্যালনে এক ডলারের বেশি বেড়েছে এবং তা প্রায় সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইরানের ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ সময় চলবে। চলতি মাসের শুরুতে এমন ধারণা পোষণ করেছিলেন ৮০ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের আস্থা আরও কমেছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসে অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন লড়াই করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেস নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থী সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ১৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন। দেশব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে ১ হাজার ২১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।