বিশ্বের ক্ষুদ্র কৃষকদের বাণিজ্যিকভাবে সফল করে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে ‘এগ্রিকানেক্ট’ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। এই উদ্যোগের আওতায় ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে কৃষির আধুনিক রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনে ক্ষুদ্র কৃষকের বড় অবদান
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক পারিবারিক খামারের সঙ্গে যুক্ত। এসব পরিবার বিশ্বের অধিকাংশ খাদ্য উৎপাদন করলেও তাদের বড় একটি অংশ দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। প্রচলিত কৃষিপদ্ধতির ওপর নির্ভরতার পাশাপাশি বাজার, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে সীমিত প্রবেশাধিকার তাদের বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা।
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, ক্ষুদ্র কৃষকদের বাণিজ্যিকভাবে সফল করে তোলা গেলে কর্মসংস্থান বাড়ানো, দারিদ্র্য কমানো এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।
কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে ১২০ কোটি তরুণ
আগামী এক দশকে বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে। একই সময়ে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্যের চাহিদা ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বাড়তি চাহিদা পূরণে কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত হিসেবে নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রায় ১০০০ কোটি মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ এবং একই সঙ্গে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে কৃষিভিত্তিক ব্যবসা বা এগ্রিবিজনেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
১০ দেশে শুরু হয়েছে এগ্রিকানেক্ট
এগ্রিকানেক্ট ইতোমধ্যে ১০টি দেশে কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশগুলো হলো—অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ঘানা, গিনি, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, পাপুয়া নিউগিনি, সেনেগাল ও টোগো। আরও কয়েকটি দেশ নিজস্ব চুক্তি বা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উদ্যোগটির আওতায় দেশভেদে কৃষকদের জন্য আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রাজিলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ পারিবারিক খামারকে এ উদ্যোগের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে জ্যামাইকায় ৭৫ হাজার পারিবারিক কৃষককে সহায়তার পাশাপাশি কৃষি খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কৃষিকে কর্মসংস্থানের শক্তিশালী খাত করার লক্ষ্য
বিশ্বব্যাংকের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র কৃষকদের বাজার, অর্থায়ন ও প্রযুক্তির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং কৃষিকে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির শক্তিশালী খাতে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, ভবিষ্যতের খাদ্যচাহিদা মোকাবিলা এবং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে কৃষিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এগ্রিকানেক্ট সেই রূপান্তরের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র কৃষক ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের এগ্রিকানেক্ট উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে বাণিজ্যিক কৃষির সঙ্গে যুক্ত করে কর্মসংস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















