১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

ইরান সরকার পতনের ঝুঁকিতে নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ

ইরানজুড়ে টানা সামরিক হামলা এবং উত্তেজনার মধ্যেও দেশটির সরকার এখনই পতনের ঝুঁকিতে নেই বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক একাধিক গোপন প্রতিবেদনে একই ধরনের মূল্যায়ন উঠে এসেছে—ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে নেতৃত্ব।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার কোনো তাত্ক্ষণিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সূত্রের মতে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ধারাবাহিক বিশ্লেষণ একই দিকে ইঙ্গিত করছে—বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের শাসকগোষ্ঠী এখনো ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম।

হামলার পরও অটুট নেতৃত্ব

ইরানে সাম্প্রতিক সংঘাতে দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং শিয়া ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করেছে।

এই পরিষদ ইতোমধ্যে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে শাসকগোষ্ঠীর ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে বলে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ নিরাপত্তা কাঠামোর বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং দেশজুড়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

US intelligence says Iran government is not at risk of collapse despite  weeks of US,

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি

এই সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন নেতৃত্ব ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য সরাসরি ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা নয়।

এদিকে হামলায় ইরানের বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতির পরও নিরাপত্তা কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইরানের সরকারকে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। কারণ তখনই দেশের ভেতরে ব্যাপক গণবিক্ষোভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কুর্দি গোষ্ঠীর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছে। প্রতিবেশী ইরাকভিত্তিক কিছু কুর্দি সংগঠন ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে।

কুর্দি নেতারা দাবি করেছেন, প্রয়োজনে হাজার হাজার তরুণ অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার কারণে কুর্দি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর দুর্বলতার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠীর কাছে পর্যাপ্ত যোদ্ধা ও শক্তিশালী অস্ত্র নেই, যা দিয়ে তারা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালাতে পারবে।

এই কারণেই কুর্দি বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ইরানের ভেতরে বড় ধরনের বিদ্রোহ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ইরানের কুর্দীরা কেন জোট তৈরি করেছে? - BBC News বাংলা

পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। যদিও বর্তমানে সরকার স্থিতিশীল বলে মনে হচ্ছে, তবু যুদ্ধের গতিপথ বদলালে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পাল্টে যেতে পারে।

অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

ইরান সরকার পতনের ঝুঁকিতে নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ

১১:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ইরানজুড়ে টানা সামরিক হামলা এবং উত্তেজনার মধ্যেও দেশটির সরকার এখনই পতনের ঝুঁকিতে নেই বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক একাধিক গোপন প্রতিবেদনে একই ধরনের মূল্যায়ন উঠে এসেছে—ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে নেতৃত্ব।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার কোনো তাত্ক্ষণিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সূত্রের মতে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ধারাবাহিক বিশ্লেষণ একই দিকে ইঙ্গিত করছে—বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের শাসকগোষ্ঠী এখনো ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম।

হামলার পরও অটুট নেতৃত্ব

ইরানে সাম্প্রতিক সংঘাতে দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং শিয়া ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করেছে।

এই পরিষদ ইতোমধ্যে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে শাসকগোষ্ঠীর ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে বলে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ নিরাপত্তা কাঠামোর বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং দেশজুড়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

US intelligence says Iran government is not at risk of collapse despite  weeks of US,

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি

এই সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন নেতৃত্ব ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য সরাসরি ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা নয়।

এদিকে হামলায় ইরানের বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতির পরও নিরাপত্তা কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইরানের সরকারকে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। কারণ তখনই দেশের ভেতরে ব্যাপক গণবিক্ষোভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কুর্দি গোষ্ঠীর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছে। প্রতিবেশী ইরাকভিত্তিক কিছু কুর্দি সংগঠন ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে।

কুর্দি নেতারা দাবি করেছেন, প্রয়োজনে হাজার হাজার তরুণ অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার কারণে কুর্দি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর দুর্বলতার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠীর কাছে পর্যাপ্ত যোদ্ধা ও শক্তিশালী অস্ত্র নেই, যা দিয়ে তারা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালাতে পারবে।

এই কারণেই কুর্দি বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ইরানের ভেতরে বড় ধরনের বিদ্রোহ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ইরানের কুর্দীরা কেন জোট তৈরি করেছে? - BBC News বাংলা

পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। যদিও বর্তমানে সরকার স্থিতিশীল বলে মনে হচ্ছে, তবু যুদ্ধের গতিপথ বদলালে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পাল্টে যেতে পারে।

অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।