১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

একদিনে এভারেস্ট জয়ে রেকর্ড ২৭৪ আরোহী, বাড়ছে ভিড় ও ঝুঁকির শঙ্কা

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে একদিনে সবচেয়ে বেশি আরোহীর চূড়ায় পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়েছে নেপাল। বুধবার নেপালের দিক থেকে একদিনে ২৭৪ জন পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছেন, যা এখন পর্যন্ত একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে অবস্থিত। সাধারণত দুই দিক থেকেই আরোহীরা শীর্ষে ওঠার সুযোগ পান। তবে এবার তিব্বতের দিক থেকে কোনো আরোহী ওঠেননি বলে জানা গেছে। কারণ চীনা কর্তৃপক্ষ এবার সেই দিকের জন্য অনুমতি দেয়নি।

আগের রেকর্ড ভাঙল নেপাল

নেপালের অভিযাত্রী সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে নেপালের দিক থেকে একদিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী ২০১৯ সালের ২২ মে এভারেস্ট জয় করেছিলেন। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো।

তবে কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ অনেক আরোহী এখনো বেসক্যাম্পে ফিরে নিজেদের সফলতার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি।

নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরোহীরা ফিরে এসে ছবি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেওয়ার পরই চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের সনদ দেওয়া হবে।

Long Queues At Mount Everest A Risk For Climate And Climbers | Outlook India

মৃত্যু অঞ্চলে বাড়ছে চাপ

এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষের কাছাকাছি “মৃত্যু অঞ্চল” হিসেবে পরিচিত এলাকায় অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা বা যানজটে আটকে পড়া প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা বলছেন, একসঙ্গে অতিরিক্ত মানুষ ওঠার কারণে অনেক সময় সরু পথে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুমতির ফি বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা যাচাইয়ে নতুন নিয়ম।

এবার এভারেস্টে ওঠার জন্য নেপাল মোট ৪৯৪টি অনুমতি দিয়েছে। প্রতিটি অনুমতির জন্য আরোহীদের গুনতে হয়েছে ১৫ হাজার ডলার।

অভিযান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

অভিযান আয়োজকদের একটি অংশ মনে করছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ থাকলে বড় সংখ্যক আরোহীও নিরাপদে অভিযান চালাতে পারেন।

এক অভিযাত্রী সংগঠকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দল বড় ভিড়ের পেছনে অবস্থান করায় তারা সমস্যায় পড়েনি। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকলে এই সংখ্যা খুব বড় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, এভারেস্টে বাণিজ্যিক অভিযানের সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই নিরাপত্তা ও পরিবেশগত চাপ নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

একদিনে এভারেস্ট জয়ে রেকর্ড ২৭৪ আরোহী, বাড়ছে ভিড় ও ঝুঁকির শঙ্কা

০৭:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে একদিনে সবচেয়ে বেশি আরোহীর চূড়ায় পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়েছে নেপাল। বুধবার নেপালের দিক থেকে একদিনে ২৭৪ জন পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছেন, যা এখন পর্যন্ত একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে অবস্থিত। সাধারণত দুই দিক থেকেই আরোহীরা শীর্ষে ওঠার সুযোগ পান। তবে এবার তিব্বতের দিক থেকে কোনো আরোহী ওঠেননি বলে জানা গেছে। কারণ চীনা কর্তৃপক্ষ এবার সেই দিকের জন্য অনুমতি দেয়নি।

আগের রেকর্ড ভাঙল নেপাল

নেপালের অভিযাত্রী সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে নেপালের দিক থেকে একদিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী ২০১৯ সালের ২২ মে এভারেস্ট জয় করেছিলেন। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো।

তবে কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ অনেক আরোহী এখনো বেসক্যাম্পে ফিরে নিজেদের সফলতার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি।

নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরোহীরা ফিরে এসে ছবি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেওয়ার পরই চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের সনদ দেওয়া হবে।

Long Queues At Mount Everest A Risk For Climate And Climbers | Outlook India

মৃত্যু অঞ্চলে বাড়ছে চাপ

এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষের কাছাকাছি “মৃত্যু অঞ্চল” হিসেবে পরিচিত এলাকায় অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা বা যানজটে আটকে পড়া প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা বলছেন, একসঙ্গে অতিরিক্ত মানুষ ওঠার কারণে অনেক সময় সরু পথে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুমতির ফি বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা যাচাইয়ে নতুন নিয়ম।

এবার এভারেস্টে ওঠার জন্য নেপাল মোট ৪৯৪টি অনুমতি দিয়েছে। প্রতিটি অনুমতির জন্য আরোহীদের গুনতে হয়েছে ১৫ হাজার ডলার।

অভিযান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

অভিযান আয়োজকদের একটি অংশ মনে করছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ থাকলে বড় সংখ্যক আরোহীও নিরাপদে অভিযান চালাতে পারেন।

এক অভিযাত্রী সংগঠকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দল বড় ভিড়ের পেছনে অবস্থান করায় তারা সমস্যায় পড়েনি। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকলে এই সংখ্যা খুব বড় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, এভারেস্টে বাণিজ্যিক অভিযানের সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই নিরাপত্তা ও পরিবেশগত চাপ নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।