১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

চাঁদের পথে আমেরিকার নতুন দৌড়, অর্ধশতাব্দী পর আবার মানুষ ফিরছে মহাকাশ অভিযানে

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের পথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শেষবার মানুষের পা পড়েছিল চাঁদের মাটিতে উনিশশো বাহাত্তর সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারিত রয়েছে আর্টেমিস টু মিশনের যাত্রা, যা চাঁদে অবতরণ না করলেও মানুষসহ মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা, লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে

এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারদিকে ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে তারা এক ধরনের ঘূর্ণিপথে যাত্রা করবেন, যা সফল হলে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের পথ আরও মসৃণ হবে। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য মানুষ নিয়ে নতুন রকেট ব্যবস্থা ও ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা।

রাজনীতি থেকে প্রতিযোগিতা

শুরুতে এই কর্মসূচি ছিল মূলত দেশীয় মহাকাশ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে, ত্রিশ সালের মধ্যে তারা মানুষকে চাঁদে পাঠাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অভিযান এখন কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, কৌশলগত ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও বহন করছে।

For the first time in half a century, astronauts are going back to the Moon  | The Economist

বিলম্ব ও ঝুঁকির ছায়া

এই মিশনের পথে রয়েছে একাধিক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তাপঢালে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যদিও সংশোধিত পথে পুনঃপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

চাঁদে নামার লড়াই

পরবর্তী ধাপে পরিকল্পিত আর্টেমিস থ্রি অভিযানে চাঁদে মানুষের অবতরণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে চীনের কর্মসূচি তুলনামূলক সরল ও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই প্রতিযোগিতায় কারা আগে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে, তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

চাঁদের পর কী

চাঁদে ফেরা শুধু শুরু। উভয় দেশই ভবিষ্যতে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার কথা বলছে। এমনকি চাঁদের কক্ষপথে নতুন মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অতীতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষকে চাঁদে ধরে রাখার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

চাঁদের পথে আমেরিকার নতুন দৌড়, অর্ধশতাব্দী পর আবার মানুষ ফিরছে মহাকাশ অভিযানে

০৭:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের পথে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শেষবার মানুষের পা পড়েছিল চাঁদের মাটিতে উনিশশো বাহাত্তর সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারিত রয়েছে আর্টেমিস টু মিশনের যাত্রা, যা চাঁদে অবতরণ না করলেও মানুষসহ মহাকাশযানের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা, লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে

এই অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারদিকে ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে তারা এক ধরনের ঘূর্ণিপথে যাত্রা করবেন, যা সফল হলে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের পথ আরও মসৃণ হবে। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য মানুষ নিয়ে নতুন রকেট ব্যবস্থা ও ক্যাপসুলের কার্যকারিতা যাচাই করা।

রাজনীতি থেকে প্রতিযোগিতা

শুরুতে এই কর্মসূচি ছিল মূলত দেশীয় মহাকাশ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে, ত্রিশ সালের মধ্যে তারা মানুষকে চাঁদে পাঠাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অভিযান এখন কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, কৌশলগত ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও বহন করছে।

For the first time in half a century, astronauts are going back to the Moon  | The Economist

বিলম্ব ও ঝুঁকির ছায়া

এই মিশনের পথে রয়েছে একাধিক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তাপঢালে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যদিও সংশোধিত পথে পুনঃপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

চাঁদে নামার লড়াই

পরবর্তী ধাপে পরিকল্পিত আর্টেমিস থ্রি অভিযানে চাঁদে মানুষের অবতরণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে চীনের কর্মসূচি তুলনামূলক সরল ও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই প্রতিযোগিতায় কারা আগে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে, তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

চাঁদের পর কী

চাঁদে ফেরা শুধু শুরু। উভয় দেশই ভবিষ্যতে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার কথা বলছে। এমনকি চাঁদের কক্ষপথে নতুন মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অতীতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার প্রতিযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষকে চাঁদে ধরে রাখার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।