১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ, কর্মসংস্থান এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ক্ষোভ

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হচ্ছে এবং গ্যাসেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

কর্মসংস্থান নিয়েও প্রশ্ন

রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা বর্তমানে চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে, সেটিও অনিশ্চিত।

১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে সমালোচনা

সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন রুমিন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা ছিল এসব অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্যতম।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রুমিনের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো ব্যঙ্গ করেন, আবার কখনো ‘বাকচাতুর্য’ দিয়ে পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের চাপ

বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনও দেখা যাচ্ছে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে জ্বালানি, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও নিত্যপণ্যের মূল্য—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। তার দাবি, এসব ক্ষেত্রে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব ইস্যুকে সামনে রেখে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন।

জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সংসদে তিনি গ্যাস-বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, চাকরি হারানো, কারখানা বন্ধ ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা

০৯:১৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ, কর্মসংস্থান এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ক্ষোভ

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হচ্ছে এবং গ্যাসেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

কর্মসংস্থান নিয়েও প্রশ্ন

রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা বর্তমানে চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে, সেটিও অনিশ্চিত।

১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে সমালোচনা

সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন রুমিন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা ছিল এসব অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্যতম।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রুমিনের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো ব্যঙ্গ করেন, আবার কখনো ‘বাকচাতুর্য’ দিয়ে পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের চাপ

বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনও দেখা যাচ্ছে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে জ্বালানি, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও নিত্যপণ্যের মূল্য—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। তার দাবি, এসব ক্ষেত্রে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব ইস্যুকে সামনে রেখে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন।

জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সংসদে তিনি গ্যাস-বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, চাকরি হারানো, কারখানা বন্ধ ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরেন।