মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া ২৬২ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত একটি বিশাল বনাঞ্চলে সোনা অনুসন্ধান ও খননের অধিকার দিয়েছে চীনা মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি চীনা খনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।
নিকারাগুয়ার খনি নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ‘জেড’ নামে পরিচিত ওই খনি এলাকায় সোনা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য ২৫ বছরের অনুমোদন পেয়েছে লিনজে এক্সেলেন্তে মিনেরিয়া। বিশাল এলাকাটি ২৬২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত, যা আয়তনের হিসাবে হংকংয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।
পুরোনো সোনার খনি অঞ্চল
জেড নামে পরিচিত এলাকাটি নিকারাগুয়ার এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে উনিশ শতকের শেষ দিক থেকেই সোনার সন্ধান পাওয়া যায়। ১৮৮০ সালে সেখানে প্রথম সোনা পাওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটি খনিজ অনুসন্ধানের জন্য পরিচিত।
নতুন অনুমোদনের ফলে ওই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সোনা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কোম্পানিটির পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবসায়িক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মাত্র গত বছর নিবন্ধিত কোম্পানি
নিকারাগুয়ার সরকারি খনি নিবন্ধনে লিনজে এক্সেলেন্তে মিনেরিয়া নামের কোম্পানিটি মাত্র গত বছর তালিকাভুক্ত হয়েছে। নিবন্ধনের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ২৬২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২৫ বছরের জন্য সোনা অনুসন্ধান ও খননের অধিকার পেয়েছে।
কোম্পানিটির মালিকানা ও কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্য একটি চীনা খনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্কও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
একই আইনগত প্রতিনিধি
করপোরেট নথিতে লিজুন দংকে লিনজে এক্সেলেন্তে মিনেরিয়া এবং নিকারাগুয়া শিনশিন লিনজে মিনেরিয়া গ্রুপ—দুই প্রতিষ্ঠানের আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিকারাগুয়া শিনশিন লিনজে মিনেরিয়া গ্রুপকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।
তবে একই আইনগত প্রতিনিধি থাকার তথ্যের ভিত্তিতে লিনজে এক্সেলেন্তে মিনেরিয়াকেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। বরং এই তথ্য দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক বা সাংগঠনিক যোগাযোগের প্রশ্ন সামনে আনে।
অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষরকারীর ভূমিকাও আলোচনায়
জেড খনি এলাকার অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন শিলিয়াং ইয়াং। নথিতে তাকেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা নিকারাগুয়া শিনশিন লিনজে মিনেরিয়া গ্রুপের আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে একই ব্যক্তি ও পেশাগত সম্পর্কের মাধ্যমে নতুন খনি অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিটির সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে এসব নথি থেকে সরাসরি বলা যায় না যে লিনজে এক্সেলেন্তে মিনেরিয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানেরই অংশ, সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা বিকল্প নামে পরিচালিত কোনো কোম্পানি। এ ধরনের সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও মালিকানা ও আর্থিক তথ্য প্রয়োজন।
চীন-নিকারাগুয়া সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
নিকারাগুয়া ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নিকারাগুয়ার গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে চীনা মালিকানাধীন একটি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি সোনা অনুসন্ধান ও খননের অধিকার পাওয়া অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ করে নতুন কোম্পানিটির সঙ্গে এমন ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে নিকারাগুয়ার খনিজ সম্পদে চীনা বিনিয়োগের বিস্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা—দুই বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য নথিতে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা মূলত ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগসূত্রের বিষয়টি তুলে ধরে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নতুন অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিটিকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কোনো মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















