০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি ভেনিসে আবারও আলোচনায় ব্রুকলিন-নিকোলা, পুরোনো বিরতির পর ফিরলেন আলোয়

নিয়মিত ঘুমের রহস্য: সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কীভাবে গড়ে ওঠে প্রতিদিনের ঘুমের ছন্দে

ঘুম আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলেও “নিয়মিত ঘুম” বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম মানে পুরোপুরি একই রকম ঘুম নয়, বরং এমন একটি ছন্দ যেখানে প্রতিদিনের ঘুমের সময় কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সেটি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থাকে।

নিয়মিত ঘুম আসলে কী

মানুষের ঘুম স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অনিয়মিত। এটি একটানা নয়, বরং ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে ঘটে। এই অংশগুলো সাধারণত রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে, যা শরীরের দৈনিক জৈব ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই জৈব ছন্দের কারণে প্রতিদিন ঘুমের সময় সামান্য পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রতিরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময়ের পার্থক্য থাকলে সেটিকে অস্বাভাবিক ধরা হয়।

15 Proven Tips to Sleep Better at Night

আলো-অন্ধকার ও ঘুমের সম্পর্ক

ঘুমের সময় নির্ধারণে আলো ও অন্ধকারের বড় ভূমিকা রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পর্যাপ্ত আলো পাওয়া এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর অন্ধকারে থাকা ঘুমকে নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ঘুমের সময় অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘুমের ছন্দকে ভেঙে দিতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের কারণ

অনেক সময় বেশি সময় বিছানায় কাটানো, নির্দিষ্ট সময় না মেনে ঘুমানো বা জেগে ওঠা, কিংবা রাতে দেরিতে খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাস ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। এর ফলে ঘুমের ভেতরে জেগে থাকার সময় বাড়ে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা কমে যায়।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম আরও বেশি দেখা যায়। নবজাতকরা সারাদিনে বিভিন্ন সময়ে ঘুমায়, আর বয়স্কদের মধ্যে ঘুমের ছন্দ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

রোগ ও ঘুমের অনিয়ম

কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। বিষণ্নতা, দ্বিমুখী মানসিক অবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্থির পা সমস্যা কিংবা শ্বাসকষ্টজনিত ঘুমের সমস্যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময়সূচি বেশি অনিয়মিত হলে ওজন বৃদ্ধি, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি: সঠিক উপায়ে ঘুম ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

কীভাবে বজায় রাখবেন নিয়মিত ঘুম

নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। রাতের বেলায় অতিরিক্ত খাওয়া বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার কমানো উচিত। ঘুমের সময়ের চেয়ে বেশি সময় বিছানায় না কাটানো এবং রাতে জেগে উঠলে মোবাইল বা পর্দা ব্যবহার এড়িয়ে চলা ঘুমকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

ভবিষ্যতের সুস্থতার জন্য কেন জরুরি

গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুম শুধু দৈনন্দিন স্বস্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। যদিও ঘুমের ওষুধ ঘুমকে নিয়মিত করতে পারে, তবে এর প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই

নিয়মিত ঘুমের রহস্য: সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কীভাবে গড়ে ওঠে প্রতিদিনের ঘুমের ছন্দে

০৩:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঘুম আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলেও “নিয়মিত ঘুম” বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম মানে পুরোপুরি একই রকম ঘুম নয়, বরং এমন একটি ছন্দ যেখানে প্রতিদিনের ঘুমের সময় কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সেটি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থাকে।

নিয়মিত ঘুম আসলে কী

মানুষের ঘুম স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অনিয়মিত। এটি একটানা নয়, বরং ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে ঘটে। এই অংশগুলো সাধারণত রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে, যা শরীরের দৈনিক জৈব ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই জৈব ছন্দের কারণে প্রতিদিন ঘুমের সময় সামান্য পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রতিরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময়ের পার্থক্য থাকলে সেটিকে অস্বাভাবিক ধরা হয়।

15 Proven Tips to Sleep Better at Night

আলো-অন্ধকার ও ঘুমের সম্পর্ক

ঘুমের সময় নির্ধারণে আলো ও অন্ধকারের বড় ভূমিকা রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পর্যাপ্ত আলো পাওয়া এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর অন্ধকারে থাকা ঘুমকে নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ঘুমের সময় অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘুমের ছন্দকে ভেঙে দিতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের কারণ

অনেক সময় বেশি সময় বিছানায় কাটানো, নির্দিষ্ট সময় না মেনে ঘুমানো বা জেগে ওঠা, কিংবা রাতে দেরিতে খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাস ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। এর ফলে ঘুমের ভেতরে জেগে থাকার সময় বাড়ে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা কমে যায়।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম আরও বেশি দেখা যায়। নবজাতকরা সারাদিনে বিভিন্ন সময়ে ঘুমায়, আর বয়স্কদের মধ্যে ঘুমের ছন্দ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

রোগ ও ঘুমের অনিয়ম

কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। বিষণ্নতা, দ্বিমুখী মানসিক অবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্থির পা সমস্যা কিংবা শ্বাসকষ্টজনিত ঘুমের সমস্যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময়সূচি বেশি অনিয়মিত হলে ওজন বৃদ্ধি, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি: সঠিক উপায়ে ঘুম ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

কীভাবে বজায় রাখবেন নিয়মিত ঘুম

নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। রাতের বেলায় অতিরিক্ত খাওয়া বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার কমানো উচিত। ঘুমের সময়ের চেয়ে বেশি সময় বিছানায় না কাটানো এবং রাতে জেগে উঠলে মোবাইল বা পর্দা ব্যবহার এড়িয়ে চলা ঘুমকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

ভবিষ্যতের সুস্থতার জন্য কেন জরুরি

গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুম শুধু দৈনন্দিন স্বস্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। যদিও ঘুমের ওষুধ ঘুমকে নিয়মিত করতে পারে, তবে এর প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।