১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

পদ্মায় বাস ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু, ঈদ ফেরত যাত্রীদের করুণ পরিণতি

দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে এক যাত্রীবাহী বাস রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। ২৫ মার্চ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মায় পড়ে যায়। রাজধানী থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরের এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে সাত শিশু এবং ১১ জন নারী। বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। বাস উল্টে নদীতে পড়ে যাওয়ার পর সেটি প্রায় ৮০ ফুট গভীরে ডুবে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৩৫ বছর বয়সী নুর জাহান বেগম জানিয়েছেন, বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল, হঠাৎ সেটি নদীতে পড়ে যায়।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, ১০ জন ডুবুরি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ডুবন্ত বাসটি পানির উপরে তুলতে সক্ষম হয়। বাসের ভেতর থেকে ২৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়, বাকি দুজন উদ্ধারের পর হাসপাতালে মারা যান। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আখতার জানিয়েছেন, মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তদন্তের জন্য দুটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃষ্টি ও স্রোতের কারণে রাতের উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে আরও যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন।

বাংলাদেশে সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনার বিপজ্জনক চিত্র

বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক ও নৌপথে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, এবারের ঈদের ছুটিতেই সড়ক দুর্ঘটনায় ২০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছেন। একটি ঘটনায় ট্রেনের ধাক্কায় বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রতি বছর পাঁচ হাজার সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যু নথিভুক্ত হলেও প্রকৃত সংখ্যা এর ছয়গুণেরও বেশি হতে পারে। দেশের নদীবহুল ভূগোলে ফেরিঘাটগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। রাস্তার খারাপ অবস্থা, পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং চালকদের বেপরোয়া আচরণকে এই দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঈদের মৌসুমে যাত্রী চাপ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ফেরিঘাটগুলোতে আধুনিক পন্টুন ব্যবস্থা এবং যানবাহনের জন্য গাইড রেল স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

পদ্মায় বাস ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু, ঈদ ফেরত যাত্রীদের করুণ পরিণতি

০৮:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে এক যাত্রীবাহী বাস রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। ২৫ মার্চ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মায় পড়ে যায়। রাজধানী থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরের এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে সাত শিশু এবং ১১ জন নারী। বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। বাস উল্টে নদীতে পড়ে যাওয়ার পর সেটি প্রায় ৮০ ফুট গভীরে ডুবে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৩৫ বছর বয়সী নুর জাহান বেগম জানিয়েছেন, বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল, হঠাৎ সেটি নদীতে পড়ে যায়।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, ১০ জন ডুবুরি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ডুবন্ত বাসটি পানির উপরে তুলতে সক্ষম হয়। বাসের ভেতর থেকে ২৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়, বাকি দুজন উদ্ধারের পর হাসপাতালে মারা যান। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আখতার জানিয়েছেন, মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তদন্তের জন্য দুটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃষ্টি ও স্রোতের কারণে রাতের উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে আরও যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন।

বাংলাদেশে সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনার বিপজ্জনক চিত্র

বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক ও নৌপথে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, এবারের ঈদের ছুটিতেই সড়ক দুর্ঘটনায় ২০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছেন। একটি ঘটনায় ট্রেনের ধাক্কায় বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রতি বছর পাঁচ হাজার সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যু নথিভুক্ত হলেও প্রকৃত সংখ্যা এর ছয়গুণেরও বেশি হতে পারে। দেশের নদীবহুল ভূগোলে ফেরিঘাটগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। রাস্তার খারাপ অবস্থা, পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং চালকদের বেপরোয়া আচরণকে এই দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঈদের মৌসুমে যাত্রী চাপ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ফেরিঘাটগুলোতে আধুনিক পন্টুন ব্যবস্থা এবং যানবাহনের জন্য গাইড রেল স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।