বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটি অ্যাপল অবশেষে তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুও উন্মোচন করেছে, যা বহু বছর ধরে গুঞ্জনে থাকা একটি পণ্যের বাস্তব রূপ। নতুন ফোনটি আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্সের পাশাপাশি উন্মোচিত হয়েছে এবং এটি খুলে গেলে সাত দশমিক ছয় ইঞ্চি পর্দায় রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হচ্ছে প্রায় দুই হাজার ডলার থেকে, যা সর্বোচ্চ সংস্করণে তিন হাজার দুইশ ডলার পর্যন্ত ওঠে। ভারতে ফোনটির দাম রাখা হয়েছে প্রায় তিন লাখ রুপি, যা একে দেশটির অন্যতম ব্যয়বহুল স্মার্টফোন করে তুলেছে। প্রযুক্তি পর্যালোচকদের মতে এটি অ্যাপলের এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে পাতলা ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফ্ল্যাগশিপ মডেল, যাতে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রজন্মের এ টোয়েন্টি প্রো চিপসেট। ফোনটি খোলা ও বন্ধ অবস্থার মধ্যে মসৃণ রূপান্তরের সুবিধা দেয় বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইফোন ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি এবং প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রসহ সত্তরটিরও বেশি দেশে ফোনটি বিক্রি শুরু হবে মাসের শেষ সপ্তাহে। দ্বিতীয় দফায় আরও আটাশটি দেশে ফোনটি পৌঁছাবে অক্টোবরের শেষ দিকে। ভারতে অবশ্য প্রি-অর্ডার শুরু হচ্ছে আরও আগে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই। ফোনটি দুটি রঙে পাওয়া যাবে, স্টার হোয়াইট এবং নাইট স্কাই। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের ওপর অ্যাপলের এই যন্ত্র কতটা নির্ভরশীল, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে ব্যাপকভাবে।

চীনের বাজারে অ্যাপলের এই প্রবেশ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সেখানে হুয়াওয়ে ও শাওমির মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান আগেই নিজস্ব ভাঁজযোগ্য ফোন নিয়ে বাজার দখল করে রেখেছে। আইফোন ডুওতে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ ডুয়াল ইসিম প্রযুক্তি, অর্থাৎ কোনো ভৌত সিম কার্ডের প্রয়োজন নেই। তবে চীনে মুঠোফোন নিবন্ধনের কঠোর নিয়ম এই প্রযুক্তিকে অনেকের জন্য ঝামেলাপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে সমালোচকরা মনে করছেন। এরপরও উন্মোচনের পরপরই
দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তিবাজারের জন্য এই ঘটনা বাড়তি গুরুত্ব বহন করে। ভারতে উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের বাজার ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং আইফোন ডুওর মতো পণ্য সেই প্রবণতাকে আরও জোরদার করবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রেমী ক্রেতাদের কাছেও এই ফোন কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠবে, যদিও সরকারি আমদানি শুল্ক ও উচ্চ দামের কারণে এটি এখনই ব্যাপক আকারে দেশের বাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।
ভাঁজযোগ্য ফোনের প্রযুক্তি এখন আর কেবল পরীক্ষামূলক ধারণা নয়, বরং স্মার্টফোন শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অ্যাপলের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে বাজারে দেরিতে প্রবেশ করেও প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সম্ভব, যদি প্রযুক্তিগত পরিমার্জনায় যথেষ্ট সময় নেওয়া হয়। আগামী কয়েক মাসে বিক্রয় পরিসংখ্যানই বলে দেবে অ্যাপল সত্যিই হুয়াওয়ে ও শাওমির প্রতিষ্ঠিত আধিপত্যে ফাটল ধরাতে পেরেছে কিনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















