১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

পাকিস্তানের বাজেটে কৃষিখাত উপেক্ষিত, ক্ষোভ কৃষক নেতাদের

পাকিস্তানের নতুন বাজেট ঘোষণার পর কৃষিখাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষক নেতারা। তাদের মতে, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষি খাতের জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রণোদনা বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

গবেষণা বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

কৃষি সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, গবেষণার জন্য ৪১৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হলেও সেই অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফলে গম, তুলা, ধান ও আখের মতো প্রধান ফসলের জন্য জলবায়ু সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল বীজ উদ্ভাবনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তারা সতর্ক করে বলেন, ধান, পেঁয়াজ ও মরিচের মতো ফসলে সংকর বীজের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে। সেই সঙ্গে গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থকে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে তুলা উৎপাদন পাঁচ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ |  The Business Standard

শীতল সংরক্ষণাগার প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ

বাজেটে শীতল সংরক্ষণাগার স্থাপনের জন্য ৭৩০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে কৃষি নেতাদের প্রশ্ন, এই অবকাঠামো কী ধরনের হবে এবং বরাদ্দ অর্থ কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা হবে। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

তুলা উৎপাদনে সংকট

কৃষি খাতের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দেশীয় তুলা উৎপাদন চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বস্ত্রশিল্প এখন আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। তারা স্থানীয় তুলা উৎপাদন পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রাণিসম্পদ খাতেও নেই বিশেষ গুরুত্ব

রপ্তানি কমলো টানা ২ মাস

সমালোচকদের মতে, কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রাণিসম্পদ খাতও বাজেটে প্রায় অনুল্লেখিত রয়ে গেছে। তাদের ধারণা, শীতল সংরক্ষণাগারের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহার করা হলে দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাংস উৎপাদন এবং রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হতে পারত।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও অসন্তোষ

অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ছোট শিল্প উদ্যোক্তারাও বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা কিছু কর ও অর্থনৈতিক সংস্কারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মনে করেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সহায়তা প্যাকেজের অভাব রয়েছে।

তাদের বক্তব্য, কর্মসংস্থান, স্থানীয় উৎপাদন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। অথচ স্বল্পসুদে ঋণ, শিল্প আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং রপ্তানি সহায়তার জন্য কার্যকর কোনো কর্মসূচি বাজেটে দেখা যায়নি।

রপ্তানি খাতের জন্য কর কাঠামোয় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি ছাড়া শিল্পখাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

পাকিস্তানের নতুন বাজেট ঘিরে তাই একদিকে সীমিত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকলেও কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতের বড় অংশই নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

পাকিস্তানের বাজেটে কৃষিখাত উপেক্ষিত, ক্ষোভ কৃষক নেতাদের

০২:১৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের নতুন বাজেট ঘোষণার পর কৃষিখাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষক নেতারা। তাদের মতে, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষি খাতের জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রণোদনা বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

গবেষণা বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

কৃষি সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, গবেষণার জন্য ৪১৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হলেও সেই অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফলে গম, তুলা, ধান ও আখের মতো প্রধান ফসলের জন্য জলবায়ু সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল বীজ উদ্ভাবনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তারা সতর্ক করে বলেন, ধান, পেঁয়াজ ও মরিচের মতো ফসলে সংকর বীজের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে। সেই সঙ্গে গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থকে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে তুলা উৎপাদন পাঁচ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ |  The Business Standard

শীতল সংরক্ষণাগার প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ

বাজেটে শীতল সংরক্ষণাগার স্থাপনের জন্য ৭৩০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে কৃষি নেতাদের প্রশ্ন, এই অবকাঠামো কী ধরনের হবে এবং বরাদ্দ অর্থ কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা হবে। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

তুলা উৎপাদনে সংকট

কৃষি খাতের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দেশীয় তুলা উৎপাদন চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বস্ত্রশিল্প এখন আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। তারা স্থানীয় তুলা উৎপাদন পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রাণিসম্পদ খাতেও নেই বিশেষ গুরুত্ব

রপ্তানি কমলো টানা ২ মাস

সমালোচকদের মতে, কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রাণিসম্পদ খাতও বাজেটে প্রায় অনুল্লেখিত রয়ে গেছে। তাদের ধারণা, শীতল সংরক্ষণাগারের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহার করা হলে দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাংস উৎপাদন এবং রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হতে পারত।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও অসন্তোষ

অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ছোট শিল্প উদ্যোক্তারাও বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা কিছু কর ও অর্থনৈতিক সংস্কারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মনে করেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সহায়তা প্যাকেজের অভাব রয়েছে।

তাদের বক্তব্য, কর্মসংস্থান, স্থানীয় উৎপাদন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। অথচ স্বল্পসুদে ঋণ, শিল্প আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং রপ্তানি সহায়তার জন্য কার্যকর কোনো কর্মসূচি বাজেটে দেখা যায়নি।

রপ্তানি খাতের জন্য কর কাঠামোয় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি ছাড়া শিল্পখাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

পাকিস্তানের নতুন বাজেট ঘিরে তাই একদিকে সীমিত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকলেও কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতের বড় অংশই নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে।