০৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

০৭:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)