০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৪)

সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না।

ক্যাপিটাল প্রেস

একুশের [১৯৫২] প্রথম লিফলেটটি ছাপা হয়েছিল জেলখানার কাছে ক্যাপিটাল প্রেস থেকে। লিখেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। লিখেছেন তিনি- “গুলি চলার ঠিক পরের ঘটনা। আমি আমীর আলী আর একজন আমার সঙ্গে ছিল, আমরা তিনজন মধুর ক্যান্টিনে ফিরে আসি এবং জেলখানার উল্টোদিকে ক্যাপিটাল প্রেসে চলে যাই। সেখানে বসে একটা লিফলেট লিখি।

খুলনার ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে সংরক্ষিত ক্যাপিটাল প্রেস

এ সময় আমি স্বেচ্ছায় লিফলেট লেখার চেষ্টা করে প্রেসে যাই। সেখানে ঘণ্টা দু’তিনেক এর মধ্যে প্রুফ দেখে লিফলেটটি ছাপিয়ে আনি। এর হেডলাইন ছিল ‘মন্ত্রী সফিজউদ্দিন এর আদেশে গুলি’, লিফলেট ১/১৬ সাইজ ছিল। প্রেসটি আমাদের সর্বাত্মক সাহায্য করেছিল। চারটা সাড়ে চারটার দিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসি। লিফলেট প্রায় দু’তিন হাজার ছিল। চকবাজার, নাজিরা বাজার ও বিভিন্ন দিকে লিফলেটগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয়।”

ক্যাপিটাল প্রেসটির ঠিকানা ৫০-৫১ নং বেগম বাজার। মালিক ছিলেন ও মোঃ খলিল খান ও মোঃ শফি খান। তাঁরা দুজনই ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সমর্থক। সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না। প্রেসটি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে খুলনায় প্রতিষ্ঠিত ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে’।

খাজা আফযাল (জ. ১৮৭৫]

উনিশ শতকে ঢাকার উর্দু ফার্সি কবিদের একটি বড় অংশ ঢাকার নবাব খাজা পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। যদিও উর্দু-ফার্সির আবেদন ছিল স্বল্প, তা সত্ত্বেও বলা যায় এটি ছিল ঢাকার বৈচিত্র্যের একটি অংশ।

খাজা আফযাল উর্দু ও ফার্সি ভাষায় কাব্যচর্চা করতেন। তাঁর পিতা খাজা পরিবারের বিশিষ্ট নবাব খাজা ইউসুফ জান। ১৮৯৪ সালে ঢাকার মাদ্রাসার অ্যাংলো-পার্শিয়ান বিভাগ থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। উল্লেখ্য, তিনিই খাজা পরিবারের প্রথম ম্যাট্রিকুলেট। বেশ কিছুদিন ছিলেন ঢাকার অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট। ১৯২১-২৮, ১৯৩২-৩৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন বঙ্গীয় প্রাদেশিক ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ছিলেন সচেষ্ট।

কানিজ বাতুল লিখছেন, তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ তারিখ রচয়িতা (ক্রনোগ্রাম রাইটার)।

তাঁর রচিত একটি গানের বাংলা অনুবাদ করেছেন কানিজ বাতুল-

“তার কাছে পৃথিবীতে
কেউ কিছু আশা করতে পারে না,
সে প্রেম করেনি
তাই পৃথিবীতে সে কারো প্রতি অকৃতজ্ঞ নয়।
সে আমার রক্তপাত করে
প্রাণভয়ে হাসছে আর বলছে যে
এটা হলো হত্যা প্রতিশোধ।।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৪)

০৭:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না।

ক্যাপিটাল প্রেস

একুশের [১৯৫২] প্রথম লিফলেটটি ছাপা হয়েছিল জেলখানার কাছে ক্যাপিটাল প্রেস থেকে। লিখেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। লিখেছেন তিনি- “গুলি চলার ঠিক পরের ঘটনা। আমি আমীর আলী আর একজন আমার সঙ্গে ছিল, আমরা তিনজন মধুর ক্যান্টিনে ফিরে আসি এবং জেলখানার উল্টোদিকে ক্যাপিটাল প্রেসে চলে যাই। সেখানে বসে একটা লিফলেট লিখি।

খুলনার ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে সংরক্ষিত ক্যাপিটাল প্রেস

এ সময় আমি স্বেচ্ছায় লিফলেট লেখার চেষ্টা করে প্রেসে যাই। সেখানে ঘণ্টা দু’তিনেক এর মধ্যে প্রুফ দেখে লিফলেটটি ছাপিয়ে আনি। এর হেডলাইন ছিল ‘মন্ত্রী সফিজউদ্দিন এর আদেশে গুলি’, লিফলেট ১/১৬ সাইজ ছিল। প্রেসটি আমাদের সর্বাত্মক সাহায্য করেছিল। চারটা সাড়ে চারটার দিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসি। লিফলেট প্রায় দু’তিন হাজার ছিল। চকবাজার, নাজিরা বাজার ও বিভিন্ন দিকে লিফলেটগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয়।”

ক্যাপিটাল প্রেসটির ঠিকানা ৫০-৫১ নং বেগম বাজার। মালিক ছিলেন ও মোঃ খলিল খান ও মোঃ শফি খান। তাঁরা দুজনই ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সমর্থক। সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না। প্রেসটি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে খুলনায় প্রতিষ্ঠিত ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে’।

খাজা আফযাল (জ. ১৮৭৫]

উনিশ শতকে ঢাকার উর্দু ফার্সি কবিদের একটি বড় অংশ ঢাকার নবাব খাজা পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। যদিও উর্দু-ফার্সির আবেদন ছিল স্বল্প, তা সত্ত্বেও বলা যায় এটি ছিল ঢাকার বৈচিত্র্যের একটি অংশ।

খাজা আফযাল উর্দু ও ফার্সি ভাষায় কাব্যচর্চা করতেন। তাঁর পিতা খাজা পরিবারের বিশিষ্ট নবাব খাজা ইউসুফ জান। ১৮৯৪ সালে ঢাকার মাদ্রাসার অ্যাংলো-পার্শিয়ান বিভাগ থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। উল্লেখ্য, তিনিই খাজা পরিবারের প্রথম ম্যাট্রিকুলেট। বেশ কিছুদিন ছিলেন ঢাকার অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট। ১৯২১-২৮, ১৯৩২-৩৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন বঙ্গীয় প্রাদেশিক ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ছিলেন সচেষ্ট।

কানিজ বাতুল লিখছেন, তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ তারিখ রচয়িতা (ক্রনোগ্রাম রাইটার)।

তাঁর রচিত একটি গানের বাংলা অনুবাদ করেছেন কানিজ বাতুল-

“তার কাছে পৃথিবীতে
কেউ কিছু আশা করতে পারে না,
সে প্রেম করেনি
তাই পৃথিবীতে সে কারো প্রতি অকৃতজ্ঞ নয়।
সে আমার রক্তপাত করে
প্রাণভয়ে হাসছে আর বলছে যে
এটা হলো হত্যা প্রতিশোধ।।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)