০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)

কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা

মাংস টক দই বাটা সাদা রসুনে ভিজিয়ে রাখা হতো। এরপর পেঁয়াজ দিয়ে তা ভাজা হতো। পরপর মাংস ও এসব উপকরণ কাঁচা পেঁয়াজ বেটে মিশিয়ে দম দেয়া হতো। দইয়ের পানি শুকিয়ে গেলে কম জ্বালে জ্বালিয়ে রাখা হতো।

দম দেয়া শেষ হলে এর সঙ্গে মেশানো হতো জাফরান, গোলাপ জল, বাদাম, পেস্তার কুচি, কিসমিশ ইত্যাদি। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন ঢাকাবাসীরা মাংস কম ভালোবাসত। সে কারণে মাছের রেজালা পছন্দ করত। রেজালা এখনও চালু, সব সম্প্রদায়ের সব মানুষের জন্য তবে মুঘল আমলের মতো এত উপাদান আর দেয়া হয় না।

নকুলদানা 

এবার আসি কাবাব প্রসঙ্গে। কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ‘ঢাকাই’ কোনটা সেটি নির্দিষ্ট করেননি। ঢাকার কাবাবের বৈশিষ্ট্য, মাছ মাংস দুটি দিয়েই কাবাবকোফতা হতো। আমার মনে হয়েছে মাংসের একটি এবং মাছের কাবাবকে ঢাকাইয়া বলা যেতে পারে।

ইলিশ, চিংড়ি, গজাল, রুই ও শোলমাছের কাবাব হতো। কিন্তু এই কাবাব তৈরির প্রক্রিয়া কি তার উল্লেখ কোথাও নেই। মাংসের মতো কেটে মসলা দিয়েই কি আগুনে সেঁকা হতো? হতে পারে। তবে, হাকিম হাবিবের বইয়ের অনুবাদক হাশেম সুফি ইলিশ কাবাব সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। ভাপা ইলিশ বা ‘স্মোকড’ ইলিশকেই হাকিম কাবাব বুঝিয়েছেন। ‘স্মোকড হিলসা’ এখনও উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রিয়, ঘরোয়া নেমন্তন্ত্রের জন্য।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)

০৭:০০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা

মাংস টক দই বাটা সাদা রসুনে ভিজিয়ে রাখা হতো। এরপর পেঁয়াজ দিয়ে তা ভাজা হতো। পরপর মাংস ও এসব উপকরণ কাঁচা পেঁয়াজ বেটে মিশিয়ে দম দেয়া হতো। দইয়ের পানি শুকিয়ে গেলে কম জ্বালে জ্বালিয়ে রাখা হতো।

দম দেয়া শেষ হলে এর সঙ্গে মেশানো হতো জাফরান, গোলাপ জল, বাদাম, পেস্তার কুচি, কিসমিশ ইত্যাদি। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন ঢাকাবাসীরা মাংস কম ভালোবাসত। সে কারণে মাছের রেজালা পছন্দ করত। রেজালা এখনও চালু, সব সম্প্রদায়ের সব মানুষের জন্য তবে মুঘল আমলের মতো এত উপাদান আর দেয়া হয় না।

নকুলদানা 

এবার আসি কাবাব প্রসঙ্গে। কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ‘ঢাকাই’ কোনটা সেটি নির্দিষ্ট করেননি। ঢাকার কাবাবের বৈশিষ্ট্য, মাছ মাংস দুটি দিয়েই কাবাবকোফতা হতো। আমার মনে হয়েছে মাংসের একটি এবং মাছের কাবাবকে ঢাকাইয়া বলা যেতে পারে।

ইলিশ, চিংড়ি, গজাল, রুই ও শোলমাছের কাবাব হতো। কিন্তু এই কাবাব তৈরির প্রক্রিয়া কি তার উল্লেখ কোথাও নেই। মাংসের মতো কেটে মসলা দিয়েই কি আগুনে সেঁকা হতো? হতে পারে। তবে, হাকিম হাবিবের বইয়ের অনুবাদক হাশেম সুফি ইলিশ কাবাব সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। ভাপা ইলিশ বা ‘স্মোকড’ ইলিশকেই হাকিম কাবাব বুঝিয়েছেন। ‘স্মোকড হিলসা’ এখনও উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রিয়, ঘরোয়া নেমন্তন্ত্রের জন্য।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)