০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি ভেনিসে আবারও আলোচনায় ব্রুকলিন-নিকোলা, পুরোনো বিরতির পর ফিরলেন আলোয়

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফিরছেন মারিন ল্য পেন, বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ

ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, দীর্ঘ আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেন আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। আপিল আদালতের রায়ে তার দণ্ড বহাল থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা কার্যত শেষ হওয়ায় তিনি আবার রাজনৈতিক ময়দানে ফিরেছেন। ফলে আগামী নির্বাচনের হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

আদালতের রায়ে খুলল নির্বাচনের পথ

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ দলীয় কাজে ব্যবহারের অভিযোগে আগের রায়ে মারিন ল্য পেনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে সর্বশেষ আপিলের রায়ে তার সাজা কিছুটা কমানো হয়েছে।

রায় অনুযায়ী, তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই বছর স্থগিত থাকবে এবং এক বছর ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় কাটাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনে অযোগ্য থাকার মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করায় তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে ল্য পেন এখনও নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন এবং সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Marine Le Pen's redemption story

প্রার্থিতা ঘোষণার পর নতুন বার্তা

রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারিন ল্য পেন জানান, তিনিই আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল, তার পরিবর্তে দলের তরুণ নেতা জর্দান বারদেলা প্রার্থী হতে পারেন।

ল্য পেনের ভাষ্য, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের জন্য বড় সমস্যা ছিল। সেই বাধা দূর হওয়ায় এখন জনগণই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

দলের নেতৃত্বে আবার ল্য পেন

ল্য পেনের প্রত্যাবর্তনের ফলে তার দলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। এখন তিনি নিজেই দলের নির্বাচনী কৌশল, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রচারণার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন।

অবসর গ্রহণের সর্বনিম্ন বয়স কমানোসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতিতে তিনি আগের অবস্থান বজায় রেখেছেন। এর মাধ্যমে শ্রমজীবী ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।

বারদেলার সঙ্গে সমীকরণ

Le Pen extends lead in French election poll after court ruling | Fortune

ল্য পেনের প্রার্থী হওয়ার ফলে দলের সভাপতি জর্দান বারদেলা আবার দ্বিতীয় সারিতে চলে গেলেও দুজনই একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

ল্য পেন জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে বারদেলাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী কৌশল ও অর্থনৈতিক নীতিতে দুজনের কিছু মতপার্থক্য ভবিষ্যতে চাপ তৈরি করতে পারে।

জনমত জরিপে এগিয়ে

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রথম দফার ভোটে মারিন ল্য পেন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে আছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই তাকে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে নির্বাচন এখনও কয়েক মাস দূরে থাকায় বর্তমান জরিপই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

Marine Le Pen's presidential ambitions hinge on appeal court ruling - RFI

বিরোধীদের সমালোচনা

ল্য পেনের প্রার্থিতা ঘোষণার পর বিরোধীরা দ্রুত সমালোচনায় মুখর হয়েছে। তাদের দাবি, দুটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

অন্যদিকে ল্য পেনের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো নয় এবং ভোটাররা বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পারবেন।

ফলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বিচারব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও জনমতের সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ফ্রান্সের রাজনীতিতে মারিন ল্য পেনের প্রত্যাবর্তন তাই আগামী কয়েক মাসে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফিরছেন মারিন ল্য পেন, বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ

১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, দীর্ঘ আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেন আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। আপিল আদালতের রায়ে তার দণ্ড বহাল থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা কার্যত শেষ হওয়ায় তিনি আবার রাজনৈতিক ময়দানে ফিরেছেন। ফলে আগামী নির্বাচনের হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

আদালতের রায়ে খুলল নির্বাচনের পথ

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ দলীয় কাজে ব্যবহারের অভিযোগে আগের রায়ে মারিন ল্য পেনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে সর্বশেষ আপিলের রায়ে তার সাজা কিছুটা কমানো হয়েছে।

রায় অনুযায়ী, তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই বছর স্থগিত থাকবে এবং এক বছর ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় কাটাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনে অযোগ্য থাকার মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করায় তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে ল্য পেন এখনও নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন এবং সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Marine Le Pen's redemption story

প্রার্থিতা ঘোষণার পর নতুন বার্তা

রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারিন ল্য পেন জানান, তিনিই আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল, তার পরিবর্তে দলের তরুণ নেতা জর্দান বারদেলা প্রার্থী হতে পারেন।

ল্য পেনের ভাষ্য, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের জন্য বড় সমস্যা ছিল। সেই বাধা দূর হওয়ায় এখন জনগণই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

দলের নেতৃত্বে আবার ল্য পেন

ল্য পেনের প্রত্যাবর্তনের ফলে তার দলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। এখন তিনি নিজেই দলের নির্বাচনী কৌশল, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রচারণার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন।

অবসর গ্রহণের সর্বনিম্ন বয়স কমানোসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতিতে তিনি আগের অবস্থান বজায় রেখেছেন। এর মাধ্যমে শ্রমজীবী ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।

বারদেলার সঙ্গে সমীকরণ

Le Pen extends lead in French election poll after court ruling | Fortune

ল্য পেনের প্রার্থী হওয়ার ফলে দলের সভাপতি জর্দান বারদেলা আবার দ্বিতীয় সারিতে চলে গেলেও দুজনই একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

ল্য পেন জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে বারদেলাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী কৌশল ও অর্থনৈতিক নীতিতে দুজনের কিছু মতপার্থক্য ভবিষ্যতে চাপ তৈরি করতে পারে।

জনমত জরিপে এগিয়ে

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রথম দফার ভোটে মারিন ল্য পেন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে আছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই তাকে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে নির্বাচন এখনও কয়েক মাস দূরে থাকায় বর্তমান জরিপই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

Marine Le Pen's presidential ambitions hinge on appeal court ruling - RFI

বিরোধীদের সমালোচনা

ল্য পেনের প্রার্থিতা ঘোষণার পর বিরোধীরা দ্রুত সমালোচনায় মুখর হয়েছে। তাদের দাবি, দুটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

অন্যদিকে ল্য পেনের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো নয় এবং ভোটাররা বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পারবেন।

ফলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বিচারব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও জনমতের সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ফ্রান্সের রাজনীতিতে মারিন ল্য পেনের প্রত্যাবর্তন তাই আগামী কয়েক মাসে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।