১২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

বাংলাদেশ কৃষকের গুদাম ভাঙার পর সারের অনিয়ম ধরা পড়ল, ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকেরা একটি গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে স্থানীয় এক সার ডিলারের নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এসব অনিয়মের পর ওই ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

সময়মতো সার না দেওয়ায় জমে কৃষকের ভিড়

উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ঢালডাঙ্গা বাজার এলাকায় শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামে গত রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের বেড়া ভেঙে সেখানে থাকা ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান।

ঘটনার পর ২৩ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরদিন সন্ধ্যায় কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃতা দেবনাথের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্তে শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের ডিলার তাইফুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসংগতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে সার বিতরণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ডিলার তা শুরু করতে দেরি করেন। এতে গুদামের সামনে বিপুলসংখ্যক কৃষক জড়ো হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সময়মতো সার বিতরণ শুরু হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল বলে তদন্ত কমিটি মনে করেছে।

কৃষকের বদলে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগ

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ না করে অন্য ব্যবসায়িক মাধ্যমে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ডিলারের বিরুদ্ধে।

নগদ বিক্রির রসিদ ও বিভিন্ন নিবন্ধন খাতাতেও অসংগতি পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃষকদের সার নেই বলে জানালেও অন্য দোকানিদের কাছে সার বিক্রি করতেন ডিলার।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ডিলার লিখিত জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।

বাতিলের সুপারিশ গেল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে

পরে উপজেলা পর্যায়ের এক সভায় ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সেই সুপারিশ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পর্যায়ের সারসংক্রান্ত তদারকি কমিটির সিদ্ধান্তের পর সুপারিশটি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। সেখানেই ডিলারশিপ বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সার না পাওয়া এবং বিতরণে অনিয়মের কারণেই পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তদন্তে ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় এখন তার ব্যবসায়িক অনুমোদন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ২২৫ বস্তা সার কৃষকদের নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে ডিলারের অনিয়ম ধরা পড়েছে। ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

বাংলাদেশ কৃষকের গুদাম ভাঙার পর সারের অনিয়ম ধরা পড়ল, ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ

০৭:৪১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকেরা একটি গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে স্থানীয় এক সার ডিলারের নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এসব অনিয়মের পর ওই ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

সময়মতো সার না দেওয়ায় জমে কৃষকের ভিড়

উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ঢালডাঙ্গা বাজার এলাকায় শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামে গত রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের বেড়া ভেঙে সেখানে থাকা ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান।

ঘটনার পর ২৩ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরদিন সন্ধ্যায় কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃতা দেবনাথের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্তে শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের ডিলার তাইফুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসংগতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে সার বিতরণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ডিলার তা শুরু করতে দেরি করেন। এতে গুদামের সামনে বিপুলসংখ্যক কৃষক জড়ো হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সময়মতো সার বিতরণ শুরু হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল বলে তদন্ত কমিটি মনে করেছে।

কৃষকের বদলে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগ

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ না করে অন্য ব্যবসায়িক মাধ্যমে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ডিলারের বিরুদ্ধে।

নগদ বিক্রির রসিদ ও বিভিন্ন নিবন্ধন খাতাতেও অসংগতি পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃষকদের সার নেই বলে জানালেও অন্য দোকানিদের কাছে সার বিক্রি করতেন ডিলার।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ডিলার লিখিত জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।

বাতিলের সুপারিশ গেল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে

পরে উপজেলা পর্যায়ের এক সভায় ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সেই সুপারিশ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পর্যায়ের সারসংক্রান্ত তদারকি কমিটির সিদ্ধান্তের পর সুপারিশটি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। সেখানেই ডিলারশিপ বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সার না পাওয়া এবং বিতরণে অনিয়মের কারণেই পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তদন্তে ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় এখন তার ব্যবসায়িক অনুমোদন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ২২৫ বস্তা সার কৃষকদের নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে ডিলারের অনিয়ম ধরা পড়েছে। ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করেছে উপজেলা প্রশাসন।