০৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি ভেনিসে আবারও আলোচনায় ব্রুকলিন-নিকোলা, পুরোনো বিরতির পর ফিরলেন আলোয়

বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাড়ছে চাপ, অর্থনীতিতে নতুন দুশ্চিন্তা

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঋণ পরিশোধে বড় অঙ্কের ব্যয়

জুলাই থেকে মার্চ—এই নয় মাসে বাংলাদেশ মোট ৩.৫২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে মূলধন পরিশোধ হয়েছে প্রায় ২.২৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ বাবদ গেছে প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে দেশে এসেছে প্রায় ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার।

এই ঋণগুলো মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়। তবে পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকায় অর্থনীতির ওপর চাপও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভ্যন্তরীণ ঋণও বাড়ছে

বিদেশি ঋণের বিপরীতে বাড়ছে পরিশোধের দায়

বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও বেড়েছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। আংশিক পরিশোধের পর বর্তমানে নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যা সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে পরিশোধের চাপ

গত কয়েক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। আগের অর্থবছরে প্রথমবারের মতো এই খাতে ব্যয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই অর্থবছরের শেষে তা ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের অবদান

নয় মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ ও সহায়তা এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে রাশিয়া, প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যারা দিয়েছে প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৬১০ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া চীন থেকে এসেছে প্রায় ৫২০ মিলিয়ন ডলার, ভারত দিয়েছে ২৪০ মিলিয়ন ডলার এবং জাপান দিয়েছে প্রায় ৩১০ মিলিয়ন ডলার।

ডলার-সংকটের মধ্যেই বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে

ঋণ চুক্তিতে কিছুটা ধীরগতি

তবে নতুন ঋণ চুক্তির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে মোট প্রতিশ্রুত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

এদিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে, যা অর্থনীতিতে স্বস্তি আনলেও ভবিষ্যতে পরিশোধের চাপ আরও বাড়াতে পারে।

বিদেশি ঋণ, অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং বাড়তে থাকা সুদের বোঝা—সব মিলিয়ে অর্থনীতির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই

বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাড়ছে চাপ, অর্থনীতিতে নতুন দুশ্চিন্তা

০১:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঋণ পরিশোধে বড় অঙ্কের ব্যয়

জুলাই থেকে মার্চ—এই নয় মাসে বাংলাদেশ মোট ৩.৫২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে মূলধন পরিশোধ হয়েছে প্রায় ২.২৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ বাবদ গেছে প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে দেশে এসেছে প্রায় ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার।

এই ঋণগুলো মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়। তবে পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকায় অর্থনীতির ওপর চাপও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভ্যন্তরীণ ঋণও বাড়ছে

বিদেশি ঋণের বিপরীতে বাড়ছে পরিশোধের দায়

বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও বেড়েছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। আংশিক পরিশোধের পর বর্তমানে নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যা সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে পরিশোধের চাপ

গত কয়েক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। আগের অর্থবছরে প্রথমবারের মতো এই খাতে ব্যয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই অর্থবছরের শেষে তা ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের অবদান

নয় মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ ও সহায়তা এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে রাশিয়া, প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যারা দিয়েছে প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৬১০ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া চীন থেকে এসেছে প্রায় ৫২০ মিলিয়ন ডলার, ভারত দিয়েছে ২৪০ মিলিয়ন ডলার এবং জাপান দিয়েছে প্রায় ৩১০ মিলিয়ন ডলার।

ডলার-সংকটের মধ্যেই বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে

ঋণ চুক্তিতে কিছুটা ধীরগতি

তবে নতুন ঋণ চুক্তির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে মোট প্রতিশ্রুত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

এদিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে, যা অর্থনীতিতে স্বস্তি আনলেও ভবিষ্যতে পরিশোধের চাপ আরও বাড়াতে পারে।

বিদেশি ঋণ, অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং বাড়তে থাকা সুদের বোঝা—সব মিলিয়ে অর্থনীতির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।