০৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত এনভিডিয়া–হাগিং ফেস চুক্তিতে বদলে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানের এআই কৌশল মেয়ের জন্মের স্মৃতি ধরে রাখতে টেলর সুইফটের প্রিয় গয়না-শিল্পীর অনন্য আংটি ১০–৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল, আপত্তি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মিসরের সামনে যোগ দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন কাঁচা সবুজ টমেটো সংরক্ষণ করুন শীতের জন্য, সহজেই তৈরি করুন মজাদার আচার ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করল মিসর আমেরিকার ২৫০ বছরে নেব্রাস্কা: ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংগ্রহের গল্প

বুড়ো কৃষকের ভারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি: উন্নয়নের সামনে নতুন সতর্কবার্তা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একসময় যে নীতির লক্ষ্য ছিল কৃষিকে পেছনে ফেলে শিল্প ও শহরমুখী কর্মসংস্থান, এখন সেই অঞ্চলই পড়েছে নতুন দুশ্চিন্তায়। কৃষিতে কর্মরত মানুষের বয়স দ্রুত বাড়ছে। মালয়েশিয়ায় গড় কৃষকের বয়স এখন প্রায় ষাট, ফিলিপাইনে ছাপ্পান্ন। গোটা অঞ্চলে কৃষিশ্রমিকদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পঞ্চান্ন বছরের বেশি বয়সী, যা এক দশক আগের তুলনায় অনেক বেশি।

এই প্রবণতার পেছনে আছে দুই রকম বাস্তবতা। একদিকে শহরে ভালো কাজের সুযোগ পেয়ে তরুণরা গ্রাম ছাড়ছে। অন্যদিকে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে মানুষ আগের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকছে। কিন্তু এই বয়স বাড়ার বাস্তবতা এখন কৃষিখাতের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কৃষির উৎপাদনশীলতায় বয়সের ছাপ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে কৃষি এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয় এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের কর্মসংস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের কর্মক্ষমতা কমছে। শুধু শারীরিক সীমাবদ্ধতাই নয়, নতুন বীজ, আধুনিক যন্ত্র বা প্রযুক্তি গ্রহণে প্রবীণ কৃষকেরা তুলনামূলকভাবে অনীহা দেখান। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি গ্রহণের হার কমে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদনে।

খাদ্যনিরাপত্তার আশঙ্কা
অঞ্চলটি এখনো খাদ্যের ঘাটতিতে ভুগছে না। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকায় খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কৃষির ভিত যদি দুর্বল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই চাপ আরও গভীর হতে পারে।

Southeast Asia's young farmers dig in for the future in 'call to return to  the land' | South China Morning Post

প্রবীণ কৃষকের জন্য সমাধান খোঁজা
অনেক দেশে কৃষকের জমি এতটাই ছোট যে আধুনিক যন্ত্রে বিনিয়োগ করা কঠিন। সহজ ঋণ, যন্ত্র ভাড়া ব্যবস্থার বিস্তার এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রবীণ কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বয়স বাড়লেও সঠিক সহায়তা পেলে কৃষক কার্যকরভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

তরুণদের ফেরানো কি বাস্তবসম্মত
সরকারগুলো তরুণদের কৃষিতে ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো শহরের চাকরি শুধু বেশি আয় নয়, সামাজিক মর্যাদাও দেয়। অনেক বাবা-মা নিজেরাই চান না সন্তান কৃষিকাজে যুক্ত হোক। ফলে শুধু আহ্বান জানিয়ে তরুণদের মাঠে ফেরানো সহজ নয়।

বড় খামারই হতে পারে ভবিষ্যৎ
কৃষিকে আকর্ষণীয় করতে হলে আকারে বড় খামার দরকার। জমি একত্র হলে যান্ত্রিকীকরণ সহজ হয়, আয় বাড়ে। জাপানে জমি একীকরণের মাধ্যমে প্রবীণ কৃষকের সমস্যার আংশিক সমাধান হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জমির খণ্ডিত মালিকানা, সামাজিক নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং পেনশনের অভাব এই পথে বড় বাধা।

বৃহত্তর বার্ধক্য সংকেত
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে, আয়ু বাড়ছে। ফলে শুধু কৃষি নয়, সামনে অন্য খাতেও একই বার্ধক্য চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। কৃষিখাতে এই সংকট যেভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিই ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে

বুড়ো কৃষকের ভারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি: উন্নয়নের সামনে নতুন সতর্কবার্তা

০৬:৫০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একসময় যে নীতির লক্ষ্য ছিল কৃষিকে পেছনে ফেলে শিল্প ও শহরমুখী কর্মসংস্থান, এখন সেই অঞ্চলই পড়েছে নতুন দুশ্চিন্তায়। কৃষিতে কর্মরত মানুষের বয়স দ্রুত বাড়ছে। মালয়েশিয়ায় গড় কৃষকের বয়স এখন প্রায় ষাট, ফিলিপাইনে ছাপ্পান্ন। গোটা অঞ্চলে কৃষিশ্রমিকদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পঞ্চান্ন বছরের বেশি বয়সী, যা এক দশক আগের তুলনায় অনেক বেশি।

এই প্রবণতার পেছনে আছে দুই রকম বাস্তবতা। একদিকে শহরে ভালো কাজের সুযোগ পেয়ে তরুণরা গ্রাম ছাড়ছে। অন্যদিকে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে মানুষ আগের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকছে। কিন্তু এই বয়স বাড়ার বাস্তবতা এখন কৃষিখাতের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কৃষির উৎপাদনশীলতায় বয়সের ছাপ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে কৃষি এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয় এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের কর্মসংস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের কর্মক্ষমতা কমছে। শুধু শারীরিক সীমাবদ্ধতাই নয়, নতুন বীজ, আধুনিক যন্ত্র বা প্রযুক্তি গ্রহণে প্রবীণ কৃষকেরা তুলনামূলকভাবে অনীহা দেখান। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি গ্রহণের হার কমে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদনে।

খাদ্যনিরাপত্তার আশঙ্কা
অঞ্চলটি এখনো খাদ্যের ঘাটতিতে ভুগছে না। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকায় খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কৃষির ভিত যদি দুর্বল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই চাপ আরও গভীর হতে পারে।

Southeast Asia's young farmers dig in for the future in 'call to return to  the land' | South China Morning Post

প্রবীণ কৃষকের জন্য সমাধান খোঁজা
অনেক দেশে কৃষকের জমি এতটাই ছোট যে আধুনিক যন্ত্রে বিনিয়োগ করা কঠিন। সহজ ঋণ, যন্ত্র ভাড়া ব্যবস্থার বিস্তার এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রবীণ কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বয়স বাড়লেও সঠিক সহায়তা পেলে কৃষক কার্যকরভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

তরুণদের ফেরানো কি বাস্তবসম্মত
সরকারগুলো তরুণদের কৃষিতে ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো শহরের চাকরি শুধু বেশি আয় নয়, সামাজিক মর্যাদাও দেয়। অনেক বাবা-মা নিজেরাই চান না সন্তান কৃষিকাজে যুক্ত হোক। ফলে শুধু আহ্বান জানিয়ে তরুণদের মাঠে ফেরানো সহজ নয়।

বড় খামারই হতে পারে ভবিষ্যৎ
কৃষিকে আকর্ষণীয় করতে হলে আকারে বড় খামার দরকার। জমি একত্র হলে যান্ত্রিকীকরণ সহজ হয়, আয় বাড়ে। জাপানে জমি একীকরণের মাধ্যমে প্রবীণ কৃষকের সমস্যার আংশিক সমাধান হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জমির খণ্ডিত মালিকানা, সামাজিক নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং পেনশনের অভাব এই পথে বড় বাধা।

বৃহত্তর বার্ধক্য সংকেত
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে, আয়ু বাড়ছে। ফলে শুধু কৃষি নয়, সামনে অন্য খাতেও একই বার্ধক্য চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। কৃষিখাতে এই সংকট যেভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিই ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে উঠবে।