১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে কথা বলায় হামলা, ২১ দিনের লড়াই শেষে শিক্ষকের মৃত্যু

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম মারা গেছেন। ঢাকার হাসপাতালে তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ৩৫ বছর বয়সী আরিফুল লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী গান্ধামারুয়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।

মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার

মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগ নেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গঠিত এই আন্দোলনের কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষকরা রয়েছেন।

এই আন্দোলনের লক্ষ্য অনুযায়ী নিজ গ্রামের একটি বড় অনলাইন জুয়া ও মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন আরিফুল। অভিযোগ অনুযায়ী, রোহিদুল ইসলাম, হাসান আলী, মেহেদী হাসান, পারভেজ, মোমিন মিয়া ও হৃদয় মিয়াসহ কয়েকজন ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আরিফুল তাঁদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, তা না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানাবেন।

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলা, হাসপাতালে প্রাণ গেল শিক্ষকের

কলেজ থেকে ফেরার পথে হামলা

এরপর গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, রোহিদুলের নেতৃত্বাধীন একটি দল তাঁকে পথরোধ করে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ায় আরিফুলকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একাধিক হাসপাতালে ২১ দিন চিকিৎসা ও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।

নবজাতক ছেলের মুখ দেখা হলো না

আরিফুলের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। হামলার পাঁচ দিন পর, ৬ আগস্ট তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পরও আরিফুল সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নবজাতক ছেলের মুখ দেখার সুযোগ না পেয়েই তাঁকে চলে যেতে হলো।

হামলার ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আরিফুলের বাবা। ২ আগস্ট আদিতমারী থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার আট আসামি আদালত থেকে জামিন পান। তবে প্রধান আসামি রোহিদুল পালিয়ে ছিলেন। পরে র‌্যাব ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার হাতিরঝিলের নয়াটোলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

শিক্ষকের মৃত্যুর পর উত্তেজনা

আরিফুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার রাতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুস সাকিব সাজিব।

মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এক শিক্ষকের ওপর হামলা, দীর্ঘ চিকিৎসার পর তাঁর মৃত্যু এবং এরপর গ্রামে উত্তেজনা—ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে কথা বলায় হামলা, ২১ দিনের লড়াই শেষে শিক্ষকের মৃত্যু

১১:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম মারা গেছেন। ঢাকার হাসপাতালে তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ৩৫ বছর বয়সী আরিফুল লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী গান্ধামারুয়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।

মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার

মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগ নেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গঠিত এই আন্দোলনের কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষকরা রয়েছেন।

এই আন্দোলনের লক্ষ্য অনুযায়ী নিজ গ্রামের একটি বড় অনলাইন জুয়া ও মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন আরিফুল। অভিযোগ অনুযায়ী, রোহিদুল ইসলাম, হাসান আলী, মেহেদী হাসান, পারভেজ, মোমিন মিয়া ও হৃদয় মিয়াসহ কয়েকজন ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আরিফুল তাঁদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, তা না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানাবেন।

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলা, হাসপাতালে প্রাণ গেল শিক্ষকের

কলেজ থেকে ফেরার পথে হামলা

এরপর গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, রোহিদুলের নেতৃত্বাধীন একটি দল তাঁকে পথরোধ করে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ায় আরিফুলকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একাধিক হাসপাতালে ২১ দিন চিকিৎসা ও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।

নবজাতক ছেলের মুখ দেখা হলো না

আরিফুলের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। হামলার পাঁচ দিন পর, ৬ আগস্ট তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পরও আরিফুল সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নবজাতক ছেলের মুখ দেখার সুযোগ না পেয়েই তাঁকে চলে যেতে হলো।

হামলার ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আরিফুলের বাবা। ২ আগস্ট আদিতমারী থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার আট আসামি আদালত থেকে জামিন পান। তবে প্রধান আসামি রোহিদুল পালিয়ে ছিলেন। পরে র‌্যাব ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার হাতিরঝিলের নয়াটোলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

শিক্ষকের মৃত্যুর পর উত্তেজনা

আরিফুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার রাতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুস সাকিব সাজিব।

মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এক শিক্ষকের ওপর হামলা, দীর্ঘ চিকিৎসার পর তাঁর মৃত্যু এবং এরপর গ্রামে উত্তেজনা—ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।