১২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা

দক্ষিণ লেবাননের বহু মানুষ যুদ্ধ, ধ্বংস আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি ছেড়ে যেতে চাননি। প্রতিদিনের জীবন কঠিন হয়ে উঠলেও তারা মনে করছেন, নিজেদের ভূমিতে থাকা মানেই অস্তিত্ব ধরে রাখা।

দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন, আরকুব ও আশপাশের এলাকায় একসময় ছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কৃষিকাজ, ব্যবসা আর পারিবারিক আড্ডায় ব্যস্ত থাকতেন মানুষ। কিন্তু চলমান সংঘাত সেই পরিচিত জীবনকে বদলে দিয়েছে। অনেক দোকান বন্ধ, বাড়ির দরজায় তালা, রাস্তায় নীরবতা। তবুও কিছু মানুষ নিজেদের জায়গা আঁকড়ে থেকে গেছেন।

যুদ্ধের মধ্যেও জমির প্রতি টান

৭৩ বছর বয়সী হিকমত ফারহা বলেন, তারা নিজেদের জমিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এখন তাদের শহর অনেকটা জনশূন্য হয়ে গেছে। তিনি জানান, তারা শান্তি চান, তবে নিজেদের শিকড় ছেড়ে যেতে চান না।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের ভয় শুধু বর্তমান সংঘাত নিয়ে নয়, অতীতের স্মৃতিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘদিনের দখল, হামলা ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতা আবার ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের আশঙ্কা

বাসিন্দারা বলছেন, সাময়িকভাবে ঘর ছাড়ার ঘটনা যেন স্থায়ী বিচ্ছেদে পরিণত না হয়। অনেক পরিবার মনে করছে, একবার এলাকা ছেড়ে গেলে হয়তো আর নিজেদের বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফিরতে পারবে না।

৮০ বছর বয়সী সাঈদ জাহের বলেন, দক্ষিণ লেবাননের মানুষ বহু দশক ধরে যুদ্ধের মূল্য দিয়ে আসছে। তাদের জমি ও জীবন বারবার সংকটের মুখে পড়েছে।

In southern Lebanon, 'the war goes on and residents cannot return home'

ভেঙে পড়ছে স্বাভাবিক জীবন

সংঘাতের কারণে স্কুল বন্ধ হয়েছে, চিকিৎসাসেবা কমেছে এবং জ্বালানি, পানি ও কৃষিপণ্যের সংকট বেড়েছে। কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না, অনেক ফসল সময়মতো সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দক্ষিণ লেবানন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হলেও হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও চলাচলের সীমাবদ্ধতায় কৃষিকাজ বড় ধাক্কা খেয়েছে। অনেক কৃষক জমি ও গবাদিপশুর দেখাশোনা করতে পারছেন না।

সহায়তা কম, সংকট বেশি

সরকারি সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা পৌঁছালেও স্থানীয়দের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে নিয়মিত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

যারা থেকে গেছেন, তারা বলছেন, প্রতিদিনের জীবন এখন ভয় আর অপেক্ষার মধ্যে কাটছে। রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণের শব্দ, আশপাশের এলাকার ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা তাদের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বাস্তুচ্যুত মানুষ

যারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের অনেকেই ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। কিন্তু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি, নিরাপত্তার শঙ্কা এবং চলমান উত্তেজনা তাদের ফেরাকে কঠিন করে তুলেছে।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের কাছে নিজেদের জমি শুধু সম্পত্তি নয়, এটি তাদের পরিচয়, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের প্রতীক। তাই যুদ্ধের মাঝেও অনেকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মাটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা

০৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননের বহু মানুষ যুদ্ধ, ধ্বংস আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি ছেড়ে যেতে চাননি। প্রতিদিনের জীবন কঠিন হয়ে উঠলেও তারা মনে করছেন, নিজেদের ভূমিতে থাকা মানেই অস্তিত্ব ধরে রাখা।

দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন, আরকুব ও আশপাশের এলাকায় একসময় ছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কৃষিকাজ, ব্যবসা আর পারিবারিক আড্ডায় ব্যস্ত থাকতেন মানুষ। কিন্তু চলমান সংঘাত সেই পরিচিত জীবনকে বদলে দিয়েছে। অনেক দোকান বন্ধ, বাড়ির দরজায় তালা, রাস্তায় নীরবতা। তবুও কিছু মানুষ নিজেদের জায়গা আঁকড়ে থেকে গেছেন।

যুদ্ধের মধ্যেও জমির প্রতি টান

৭৩ বছর বয়সী হিকমত ফারহা বলেন, তারা নিজেদের জমিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এখন তাদের শহর অনেকটা জনশূন্য হয়ে গেছে। তিনি জানান, তারা শান্তি চান, তবে নিজেদের শিকড় ছেড়ে যেতে চান না।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের ভয় শুধু বর্তমান সংঘাত নিয়ে নয়, অতীতের স্মৃতিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘদিনের দখল, হামলা ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতা আবার ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের আশঙ্কা

বাসিন্দারা বলছেন, সাময়িকভাবে ঘর ছাড়ার ঘটনা যেন স্থায়ী বিচ্ছেদে পরিণত না হয়। অনেক পরিবার মনে করছে, একবার এলাকা ছেড়ে গেলে হয়তো আর নিজেদের বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফিরতে পারবে না।

৮০ বছর বয়সী সাঈদ জাহের বলেন, দক্ষিণ লেবাননের মানুষ বহু দশক ধরে যুদ্ধের মূল্য দিয়ে আসছে। তাদের জমি ও জীবন বারবার সংকটের মুখে পড়েছে।

In southern Lebanon, 'the war goes on and residents cannot return home'

ভেঙে পড়ছে স্বাভাবিক জীবন

সংঘাতের কারণে স্কুল বন্ধ হয়েছে, চিকিৎসাসেবা কমেছে এবং জ্বালানি, পানি ও কৃষিপণ্যের সংকট বেড়েছে। কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না, অনেক ফসল সময়মতো সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দক্ষিণ লেবানন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হলেও হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও চলাচলের সীমাবদ্ধতায় কৃষিকাজ বড় ধাক্কা খেয়েছে। অনেক কৃষক জমি ও গবাদিপশুর দেখাশোনা করতে পারছেন না।

সহায়তা কম, সংকট বেশি

সরকারি সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা পৌঁছালেও স্থানীয়দের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে নিয়মিত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

যারা থেকে গেছেন, তারা বলছেন, প্রতিদিনের জীবন এখন ভয় আর অপেক্ষার মধ্যে কাটছে। রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণের শব্দ, আশপাশের এলাকার ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা তাদের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বাস্তুচ্যুত মানুষ

যারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের অনেকেই ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। কিন্তু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি, নিরাপত্তার শঙ্কা এবং চলমান উত্তেজনা তাদের ফেরাকে কঠিন করে তুলেছে।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের কাছে নিজেদের জমি শুধু সম্পত্তি নয়, এটি তাদের পরিচয়, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের প্রতীক। তাই যুদ্ধের মাঝেও অনেকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মাটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।