১২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

রংপুরে শিশুদের সুরক্ষায় সীসা দূষণ বন্ধের দাবিতে তরুণদের জোরালো আহ্বান

রংপুরে সীসা দূষণের ভয়াবহতা থেকে শিশুদের রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তরুণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবেশকর্মীরা। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি ভাঙা ও পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমের কারণে মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত সীসা শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ বিকাশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে জানান তারা।

রংপুর নগরীতে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সীসা দূষণ একটি নীরব বিপদ, যা ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও পরিবেশের ক্ষতি করে। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সীসা দূষণ রোধে তরুণদের উদ্যোগ

তরুণদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সকালে রংপুর নগরীর চন্দ্র মোড় থেকে শুরু হওয়া সচেতনতামূলক যাত্রা বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়।

অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সীসা দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবি জানান।

অনিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারে বাড়ছে ঝুঁকি

বক্তারা বলেন, পুরোনো সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ভাঙা ও পুনর্ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত সীসা চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শুধু শ্রমিকরাই নয়, আশপাশের শিশু ও সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

তারা বলেন, সীসাকে বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে বিবেচনা করে কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ ব্যাটারি সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ

কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক শিশু ক্ষতিকর মাত্রার সীসার সংস্পর্শে রয়েছে। এই দূষণ শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি পরিবেশগত ন্যায়ের বিষয়ও। কারণ দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী অনেক সময় এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়।

অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সীসা দূষণ একটি নীরব বিষ, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও প্রকৃতির ক্ষতি করে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তরুণদের সংগঠনের প্রতিনিধি সোহানুর রহমান বলেন, অনিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

সীসা দূষণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।

রংপুরে সীসা দূষণ বন্ধে তরুণদের আন্দোলন ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষার দাবি নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।

সীসা দূষণের কারণে রংপুরের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, তাই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তরুণরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

রংপুরে শিশুদের সুরক্ষায় সীসা দূষণ বন্ধের দাবিতে তরুণদের জোরালো আহ্বান

০৮:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

রংপুরে সীসা দূষণের ভয়াবহতা থেকে শিশুদের রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তরুণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবেশকর্মীরা। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি ভাঙা ও পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমের কারণে মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত সীসা শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ বিকাশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে জানান তারা।

রংপুর নগরীতে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সীসা দূষণ একটি নীরব বিপদ, যা ধীরে ধীরে মানুষের শরীর ও পরিবেশের ক্ষতি করে। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সীসা দূষণ রোধে তরুণদের উদ্যোগ

তরুণদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সকালে রংপুর নগরীর চন্দ্র মোড় থেকে শুরু হওয়া সচেতনতামূলক যাত্রা বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়।

অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সীসা দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবি জানান।

অনিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারে বাড়ছে ঝুঁকি

বক্তারা বলেন, পুরোনো সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ভাঙা ও পুনর্ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত সীসা চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শুধু শ্রমিকরাই নয়, আশপাশের শিশু ও সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

তারা বলেন, সীসাকে বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে বিবেচনা করে কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ ব্যাটারি সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ

কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক শিশু ক্ষতিকর মাত্রার সীসার সংস্পর্শে রয়েছে। এই দূষণ শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি পরিবেশগত ন্যায়ের বিষয়ও। কারণ দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী অনেক সময় এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়।

অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সীসা দূষণ একটি নীরব বিষ, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও প্রকৃতির ক্ষতি করে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তরুণদের সংগঠনের প্রতিনিধি সোহানুর রহমান বলেন, অনিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

সীসা দূষণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।

রংপুরে সীসা দূষণ বন্ধে তরুণদের আন্দোলন ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষার দাবি নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।

সীসা দূষণের কারণে রংপুরের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, তাই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তরুণরা।