১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

লেবাননের শেষ সুযোগ: হিজবুল্লাহকে চ্যালেঞ্জে রাষ্ট্র, ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে সতর্কবার্তা

লেবানন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে হিজবুল্লাহর প্রভাব ভেঙে ফেলার একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

হিজবুল্লাহর দুর্বলতা, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেছে

দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হিজবুল্লাহ এখন আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে তাদের অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে। তাদের প্রধান সমর্থক শক্তিও এখন নিজস্ব সংকটে ব্যস্ত।

একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞের পর পুনর্গঠন করতে না পারায় তাদের নিজস্ব সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। তবে এই দুর্বলতা সত্ত্বেও নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে উল্টো ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ইসরায়েলের হামলা ও নতুন সংকট

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই হামলা কেবল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো লেবাননের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি স্থল অভিযান শুরু হয়, তাহলে তা অতীতের মতো দীর্ঘমেয়াদি দখলদারিত্বে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতি হিজবুল্লাহকে আবারও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত

লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহর সব সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না, তবে সরকার চাইলে ধাপে ধাপে শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হিজবুল্লাহর আর্থিক নেটওয়ার্ক বন্ধ করা।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ

লেবাননের সেনাবাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। অস্ত্র পরিবহন ও যোদ্ধা চলাচলের পথ নিয়ন্ত্রণ করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে উপস্থিতি বাড়ানো জরুরি।

অতীতে গ্রেপ্তার হওয়া সশস্ত্র সদস্যদের সহজে জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। এই চিত্র বদলানো এখন সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে লেবাননকে সহায়তা করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে লেবাননের নেতৃত্বকেই।

যদি তারা দৃঢ়ভাবে এগোয়, তাহলে দীর্ঘদিনের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আর যদি আবারও দ্বিধায় পড়ে, তাহলে দেশটি নতুন করে ধ্বংসাত্মক দখলদারিত্বের মুখোমুখি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

লেবাননের শেষ সুযোগ: হিজবুল্লাহকে চ্যালেঞ্জে রাষ্ট্র, ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে সতর্কবার্তা

১২:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

লেবানন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে হিজবুল্লাহর প্রভাব ভেঙে ফেলার একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

হিজবুল্লাহর দুর্বলতা, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেছে

দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হিজবুল্লাহ এখন আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে তাদের অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে। তাদের প্রধান সমর্থক শক্তিও এখন নিজস্ব সংকটে ব্যস্ত।

একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞের পর পুনর্গঠন করতে না পারায় তাদের নিজস্ব সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। তবে এই দুর্বলতা সত্ত্বেও নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে উল্টো ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ইসরায়েলের হামলা ও নতুন সংকট

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই হামলা কেবল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো লেবাননের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি স্থল অভিযান শুরু হয়, তাহলে তা অতীতের মতো দীর্ঘমেয়াদি দখলদারিত্বে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতি হিজবুল্লাহকে আবারও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত

লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহর সব সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না, তবে সরকার চাইলে ধাপে ধাপে শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হিজবুল্লাহর আর্থিক নেটওয়ার্ক বন্ধ করা।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ

লেবাননের সেনাবাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। অস্ত্র পরিবহন ও যোদ্ধা চলাচলের পথ নিয়ন্ত্রণ করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে উপস্থিতি বাড়ানো জরুরি।

অতীতে গ্রেপ্তার হওয়া সশস্ত্র সদস্যদের সহজে জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। এই চিত্র বদলানো এখন সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে লেবাননকে সহায়তা করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে লেবাননের নেতৃত্বকেই।

যদি তারা দৃঢ়ভাবে এগোয়, তাহলে দীর্ঘদিনের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আর যদি আবারও দ্বিধায় পড়ে, তাহলে দেশটি নতুন করে ধ্বংসাত্মক দখলদারিত্বের মুখোমুখি হতে পারে।