০৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি ভেনিসে আবারও আলোচনায় ব্রুকলিন-নিকোলা, পুরোনো বিরতির পর ফিরলেন আলোয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে শেষ মিশনের আগে পাইলটের আবেগঘন বার্তা নাড়িয়ে দিল দেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর দুই সদস্যের মৃত্যুর খবরে শোকাহত পুরো দেশ। দায়িত্ব পালনকালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ক্যাপ্টেন পাইলট সাঈদ রশিদ হামাদ আল বালুশি এবং ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট পাইলট আলি সালেহ ইসমাইল আল তুনাইজি। দুর্ঘটনার আগে আলি আল তুনাইজির পাঠানো একটি কণ্ঠবার্তা দেশজুড়ে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে।

দায়িত্ব পালনের শেষ মিশনের আগে পরিবারকে পাঠানো একটি কণ্ঠবার্তায় পাইলট আলি আল তুনাইজি বলেছিলেন, যদি শহীদ হওয়ার লিখন থাকে তবে সেটিই হবে, আর যদি জীবন থাকে তবে প্রিয়জনদের শান্তিতে থাকার খবরই তার জন্য যথেষ্ট। এই বার্তাই এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে শোক আর গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শেষ মিশনের আগে আবেগঘন বার্তা

দুর্ঘটনার আগে পাঠানো কণ্ঠবার্তায় আলি আল তুনাইজি বলেন, সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকেই সর্বোচ্চ প্রতিদান আসে। যদি আমাদের ভাগ্যে শহীদ হওয়া লেখা থাকে তবে আমরা শহীদ হব। আর যদি জীবন দান করেন, তবে আমাদের জন্য যথেষ্ট যে তোমরা ভালো আছো, শান্তিতে ঘুমাচ্ছো।

এই বার্তায় দায়িত্ববোধ, বিশ্বাস এবং আত্মত্যাগের যে গভীর অনুভূতি ফুটে উঠেছে তা দেশজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ এই বার্তা শেয়ার করে দুই পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যু

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় দায়িত্ব পালনকালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়। সেই দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান ক্যাপ্টেন পাইলট সাঈদ রশিদ হামাদ আল বালুশি এবং ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট পাইলট আলি সালেহ ইসমাইল আল তুনাইজি।

মন্ত্রণালয় নিহত দুই সদস্যের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেছে। একই সঙ্গে পরিবারগুলোর জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর রাস আল খাইমাহর আল রামস এলাকার আবদুল্লাহ আল আমাশী মসজিদে আলি আল তুনাইজির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আল আইনের আল মুয়াতারেদ আল কাবির মসজিদে একই সময় ক্যাপ্টেন সাঈদ রশিদ হামাদ আল বালুশির জানাজা সম্পন্ন হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত এসব জানাজায় স্থানীয় মানুষ ও কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং দুই পাইলটের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

আঞ্চলিক সংহতি ও সমবেদনা

এই দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করে দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া ওমান, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ একাধিক দেশও এই ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ক্ষতি

এই দুই কর্মকর্তার মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল যখন অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। তবুও এসব হামলায় কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই

সংযুক্ত আরব আমিরাতে শেষ মিশনের আগে পাইলটের আবেগঘন বার্তা নাড়িয়ে দিল দেশ

০৫:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর দুই সদস্যের মৃত্যুর খবরে শোকাহত পুরো দেশ। দায়িত্ব পালনকালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ক্যাপ্টেন পাইলট সাঈদ রশিদ হামাদ আল বালুশি এবং ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট পাইলট আলি সালেহ ইসমাইল আল তুনাইজি। দুর্ঘটনার আগে আলি আল তুনাইজির পাঠানো একটি কণ্ঠবার্তা দেশজুড়ে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে।

দায়িত্ব পালনের শেষ মিশনের আগে পরিবারকে পাঠানো একটি কণ্ঠবার্তায় পাইলট আলি আল তুনাইজি বলেছিলেন, যদি শহীদ হওয়ার লিখন থাকে তবে সেটিই হবে, আর যদি জীবন থাকে তবে প্রিয়জনদের শান্তিতে থাকার খবরই তার জন্য যথেষ্ট। এই বার্তাই এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে শোক আর গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শেষ মিশনের আগে আবেগঘন বার্তা

দুর্ঘটনার আগে পাঠানো কণ্ঠবার্তায় আলি আল তুনাইজি বলেন, সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকেই সর্বোচ্চ প্রতিদান আসে। যদি আমাদের ভাগ্যে শহীদ হওয়া লেখা থাকে তবে আমরা শহীদ হব। আর যদি জীবন দান করেন, তবে আমাদের জন্য যথেষ্ট যে তোমরা ভালো আছো, শান্তিতে ঘুমাচ্ছো।

এই বার্তায় দায়িত্ববোধ, বিশ্বাস এবং আত্মত্যাগের যে গভীর অনুভূতি ফুটে উঠেছে তা দেশজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ এই বার্তা শেয়ার করে দুই পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যু

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় দায়িত্ব পালনকালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়। সেই দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান ক্যাপ্টেন পাইলট সাঈদ রশিদ হামাদ আল বালুশি এবং ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট পাইলট আলি সালেহ ইসমাইল আল তুনাইজি।

মন্ত্রণালয় নিহত দুই সদস্যের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেছে। একই সঙ্গে পরিবারগুলোর জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর রাস আল খাইমাহর আল রামস এলাকার আবদুল্লাহ আল আমাশী মসজিদে আলি আল তুনাইজির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আল আইনের আল মুয়াতারেদ আল কাবির মসজিদে একই সময় ক্যাপ্টেন সাঈদ রশিদ হামাদ আল বালুশির জানাজা সম্পন্ন হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত এসব জানাজায় স্থানীয় মানুষ ও কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং দুই পাইলটের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

আঞ্চলিক সংহতি ও সমবেদনা

এই দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করে দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া ওমান, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ একাধিক দেশও এই ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ক্ষতি

এই দুই কর্মকর্তার মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল যখন অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। তবুও এসব হামলায় কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।