০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত এনভিডিয়া–হাগিং ফেস চুক্তিতে বদলে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানের এআই কৌশল মেয়ের জন্মের স্মৃতি ধরে রাখতে টেলর সুইফটের প্রিয় গয়না-শিল্পীর অনন্য আংটি ১০–৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল, আপত্তি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মিসরের সামনে যোগ দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন কাঁচা সবুজ টমেটো সংরক্ষণ করুন শীতের জন্য, সহজেই তৈরি করুন মজাদার আচার ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করল মিসর আমেরিকার ২৫০ বছরে নেব্রাস্কা: ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংগ্রহের গল্প

সরবরাহ সংকটের পরও কেন ১০০ ডলার ছাড়াচ্ছে না তেলের দাম?

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হলেও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠছে না আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়া, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি কমে যাওয়ার পরও বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত।

এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলেও বিকল্প পথে তেল পরিবহন, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের বাড়তি উৎপাদন এবং বিশেষ করে চীনের তেল চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে।

হরমুজ দিয়ে এখনও কিছু তেল যাচ্ছে

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছিল। তবে ৩০ আগস্ট নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রবাহ ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে।

তবুও সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে চলাচল করছে। ফলে বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ প্রবাহ থাকায় ব্রেন্ট তেলের ন্যায্য বাজারদর প্রায় ৯৫ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। এর আগে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাময়িক শান্তি চুক্তির সময় হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।

বিকল্প পথ ব্যবহার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো

হরমুজ প্রণালিতে বাধা তৈরি হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পরিবহনপথ ও পদ্ধতি ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রণালির বাইরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে রপ্তানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি রস তানুরা বন্দর থেকে আবারও তেল তোলা শুরু করেছে। তবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের রপ্তানি এখনও চাপের মুখে রয়েছে। আগস্টে ইয়ানবু থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যা আগের তিন মাসের গড় ৩৯ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে মিসরের সিদি কেরির বন্দর দিয়ে আগস্টে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ৩৯ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। ইরাকের রপ্তানিও আগস্টে বেড়ে প্রায় ২৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি জুলাই ও আগস্টে প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল এবং কুয়েতের রপ্তানি প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

অন্য দেশগুলো বাড়াচ্ছে উৎপাদন

মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতি সামাল দিতে অন্য উৎপাদক দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানার মতো ওপেকের বাইরের দেশগুলো চলতি বছর সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন আরও প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে।

রাশিয়ার তেল রপ্তানিও জুলাই ও আগস্টে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল ছিল। যদিও জুনের সর্বোচ্চ ৬৪ লাখ ব্যারেলের তুলনায় তা কম।

তবে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির তেল পরিশোধন কমেছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের তেল উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়ে ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে মস্কো।

সবচেয়ে বড় বিষয় চাহিদা কমে যাওয়া

তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকার অন্যতম বড় কারণ হলো বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা।

বিশেষ করে পরিবহন জ্বালানি ও পেট্রোরসায়ন খাতে তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে এই চাহিদা হ্রাসের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি কমেছে চীনে।

পরিবহন ব্যবস্থায় বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়া এবং কয়লাভিত্তিক রাসায়নিক উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে চীনের তেলের ওপর নির্ভরতা কমছে।

বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক চীন জুলাই ও আগস্টে সমুদ্রপথে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। ফেব্রুয়ারিতে এই পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি।

চীনের বিশাল তেল মজুতও বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। দেশটির মজুত প্রায় ১১৭ কোটি ব্যারেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।Why isn't oil above $100 despite supply disruptions? | The Daily Star

বাস্তব বাজারে কিন্তু তেলের সংকট স্পষ্ট

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকাশ্য দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকলেও সরাসরি তেল কেনাবেচার বাজারে পরিস্থিতি অনেক বেশি উত্তপ্ত।

দুবাই ও ওমানের তেলের তাৎক্ষণিক বাজারদর নভেম্বরে সরবরাহযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৯ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। সোমবার ওমানের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম ছিল প্রায় ১০৪ ডলার ৫৪ সেন্ট এবং দুবাইয়ের নগদ বাজারদর ছিল প্রায় ১০৫ ডলার ১০ সেন্ট।

অর্থাৎ কাগজে-কলমে ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকলেও বাস্তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহযোগ্য তেলের বাজারে দাম ইতোমধ্যে ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতোমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সামনে আবার ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে তেল

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি শোধনাগারগুলো ডিজেল উৎপাদন বাড়ালে অপরিশোধিত তেলের চাহিদাও বাড়বে।

এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান তেলের দাম নিয়ে তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। মর্গান স্ট্যানলি ধারণা করছে, চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসও ডিসেম্বর ২০২৬ এবং ২০২৭ সালের জন্য তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। তাদের নতুন হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৬-এ ব্রেন্টের দাম প্রায় ৮৫ ডলার এবং পশ্চিম টেক্সাসের তেলের দাম প্রায় ৮০ ডলার হতে পারে। ২০২৭ সালের জন্য এই পূর্বাভাস যথাক্রমে ৮০ ও ৭৫ ডলার।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে সরবরাহ সংকট থাকলেও চাহিদা কমে যাওয়া, বিকল্প পরিবহনপথ, অন্য দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদন এবং চীনের বিশাল মজুত দামকে এখনো ১০০ ডলারের নিচে আটকে রেখেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও দীর্ঘ হলে এই ভারসাম্য দ্রুত বদলে যেতে পারে।

তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করবে কি না, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির সরবরাহ পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা দীর্ঘায়িত হয় তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে

সরবরাহ সংকটের পরও কেন ১০০ ডলার ছাড়াচ্ছে না তেলের দাম?

০৫:২০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হলেও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠছে না আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়া, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি কমে যাওয়ার পরও বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত।

এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলেও বিকল্প পথে তেল পরিবহন, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের বাড়তি উৎপাদন এবং বিশেষ করে চীনের তেল চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে।

হরমুজ দিয়ে এখনও কিছু তেল যাচ্ছে

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছিল। তবে ৩০ আগস্ট নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রবাহ ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে।

তবুও সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে চলাচল করছে। ফলে বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ প্রবাহ থাকায় ব্রেন্ট তেলের ন্যায্য বাজারদর প্রায় ৯৫ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। এর আগে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাময়িক শান্তি চুক্তির সময় হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।

বিকল্প পথ ব্যবহার করছে উপসাগরীয় দেশগুলো

হরমুজ প্রণালিতে বাধা তৈরি হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পরিবহনপথ ও পদ্ধতি ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রণালির বাইরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে রপ্তানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি রস তানুরা বন্দর থেকে আবারও তেল তোলা শুরু করেছে। তবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের রপ্তানি এখনও চাপের মুখে রয়েছে। আগস্টে ইয়ানবু থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যা আগের তিন মাসের গড় ৩৯ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে মিসরের সিদি কেরির বন্দর দিয়ে আগস্টে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ৩৯ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। ইরাকের রপ্তানিও আগস্টে বেড়ে প্রায় ২৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি জুলাই ও আগস্টে প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল এবং কুয়েতের রপ্তানি প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

অন্য দেশগুলো বাড়াচ্ছে উৎপাদন

মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতি সামাল দিতে অন্য উৎপাদক দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানার মতো ওপেকের বাইরের দেশগুলো চলতি বছর সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন আরও প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে।

রাশিয়ার তেল রপ্তানিও জুলাই ও আগস্টে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল ছিল। যদিও জুনের সর্বোচ্চ ৬৪ লাখ ব্যারেলের তুলনায় তা কম।

তবে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির তেল পরিশোধন কমেছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের তেল উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়ে ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে মস্কো।

সবচেয়ে বড় বিষয় চাহিদা কমে যাওয়া

তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকার অন্যতম বড় কারণ হলো বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা।

বিশেষ করে পরিবহন জ্বালানি ও পেট্রোরসায়ন খাতে তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে এই চাহিদা হ্রাসের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি কমেছে চীনে।

পরিবহন ব্যবস্থায় বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়া এবং কয়লাভিত্তিক রাসায়নিক উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে চীনের তেলের ওপর নির্ভরতা কমছে।

বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক চীন জুলাই ও আগস্টে সমুদ্রপথে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। ফেব্রুয়ারিতে এই পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি।

চীনের বিশাল তেল মজুতও বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। দেশটির মজুত প্রায় ১১৭ কোটি ব্যারেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।Why isn't oil above $100 despite supply disruptions? | The Daily Star

বাস্তব বাজারে কিন্তু তেলের সংকট স্পষ্ট

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকাশ্য দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকলেও সরাসরি তেল কেনাবেচার বাজারে পরিস্থিতি অনেক বেশি উত্তপ্ত।

দুবাই ও ওমানের তেলের তাৎক্ষণিক বাজারদর নভেম্বরে সরবরাহযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৯ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। সোমবার ওমানের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম ছিল প্রায় ১০৪ ডলার ৫৪ সেন্ট এবং দুবাইয়ের নগদ বাজারদর ছিল প্রায় ১০৫ ডলার ১০ সেন্ট।

অর্থাৎ কাগজে-কলমে ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকলেও বাস্তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহযোগ্য তেলের বাজারে দাম ইতোমধ্যে ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতোমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সামনে আবার ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে তেল

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি শোধনাগারগুলো ডিজেল উৎপাদন বাড়ালে অপরিশোধিত তেলের চাহিদাও বাড়বে।

এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান তেলের দাম নিয়ে তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। মর্গান স্ট্যানলি ধারণা করছে, চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসও ডিসেম্বর ২০২৬ এবং ২০২৭ সালের জন্য তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। তাদের নতুন হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৬-এ ব্রেন্টের দাম প্রায় ৮৫ ডলার এবং পশ্চিম টেক্সাসের তেলের দাম প্রায় ৮০ ডলার হতে পারে। ২০২৭ সালের জন্য এই পূর্বাভাস যথাক্রমে ৮০ ও ৭৫ ডলার।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে সরবরাহ সংকট থাকলেও চাহিদা কমে যাওয়া, বিকল্প পরিবহনপথ, অন্য দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদন এবং চীনের বিশাল মজুত দামকে এখনো ১০০ ডলারের নিচে আটকে রেখেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও দীর্ঘ হলে এই ভারসাম্য দ্রুত বদলে যেতে পারে।

তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করবে কি না, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির সরবরাহ পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা দীর্ঘায়িত হয় তার ওপর।