চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে তাহমিদুল হাসান হামীম (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কেরানীহাট সিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত মো. রোহান উদ্দিন (১৯)কে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। এর জেরেই হামীম হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ববিরোধ থেকেই বিরোধের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে আমিরাবাদ এলাকায় হামীমের সঙ্গে কয়েকজনের মারামারি হয়। ওই সময় রোহান মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে হামীমের ধারণা ছিল, রোহানের ইন্ধনেই তাকে মারধর করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি রোহানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

মঙ্গলবার রাতে ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য রোহান, হামীমসহ কয়েকজন কেরানীহাট সিটি সেন্টারে জড়ো হন। সেখানে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
রডের আঘাতের পর ছুরিকাঘাত
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে হামীম লোহার রড দিয়ে রোহানের হাতে আঘাত করেন। এরপর রোহান ছুরি দিয়ে হামীমের পেটে একাধিকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হামীমকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর রোহানকে আটক
ঘটনার পর স্থানীয়রা রোহানকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। গণপিটুনির পর ধারণ করা একটি ভিডিও বক্তব্যে রোহান দাবি করেন, হামীমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। রড দিয়ে আঘাত করার পর রাগের মাথায় তিনি ছুরিকাঘাত করেন বলে জানান তিনি।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রোহানকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নিহত হামীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে অন্য কারও সম্পৃক্ততা
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে বিরোধের মূল কারণ কী এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা বা ইন্ধন ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















