০৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত এনভিডিয়া–হাগিং ফেস চুক্তিতে বদলে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানের এআই কৌশল মেয়ের জন্মের স্মৃতি ধরে রাখতে টেলর সুইফটের প্রিয় গয়না-শিল্পীর অনন্য আংটি ১০–৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল, আপত্তি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মিসরের সামনে যোগ দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন কাঁচা সবুজ টমেটো সংরক্ষণ করুন শীতের জন্য, সহজেই তৈরি করুন মজাদার আচার ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করল মিসর আমেরিকার ২৫০ বছরে নেব্রাস্কা: ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংগ্রহের গল্প

স্বাক্ষরতা না রিডিং পড়া—কোনটা বেশি প্রয়োজনীয়?

  • স্বদেশ রায়
  • ০৮:১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 27

প্রফেসর আনিসুর রহমান শেষ জীবনে এসে যেমন রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া নিয়ে মেতে উঠেছিলেন, তেমনি তাঁর মাথায় ঢুকেছিল সহজে স্বাক্ষর করানো শেখানো। তিনি বয়স্কদের অক্ষর লেখা শেখানোর একটি মেথড বের করে কয়েকটি বইও তৈরি করে ফেলেন।

ওই সময়ে তাঁর মাথার ভেতর মানুষকে সহজে স্বাক্ষর করে তোলা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তখন রেগুলার রমনা পার্কে মর্নিং ওয়াক করতাম। প্রায় প্রতিদিন আনিসুর রহমান স্যারের সঙ্গে দেখা হতো। তারপরে এক সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে দুনিয়ার তাবৎ বিষয় থাকতে উনি ওনার ওই বয়স্ক মানুষকে স্বাক্ষর করে তোলার পদ্ধতি কোথায়, কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা বলতেন। সকালে ওই ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের আলোচনায় আনিসুর রহমান স্যারের ঠিক মন ভরত না। তাই কোন কোন দিন ওনার ন্যাপ শেষ হতেই আমার অফিসে আসতেন। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক সময় নিয়ে স্যার ওগুলো আলোচনা করে চলে যেতেন।

কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে আনিসুর রহমান স্যার বুঝতে পারেন আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নই। যারা বঙ্গবন্ধুর প্রথম প্লানিং কমিশনের মেম্বার আনিসুর রহমান স্যারের ছাত্র, বন্ধু ও পরিচিতজন তারা জানতেন, তিনি কতটা স্বচ্ছ মানুষ ছিলেন। আর স্বচ্ছ মানুষদের অনেকগুলো ভালো গুণের মধ্যে একটা হলো সব কিছু সরাসরি বলা।

 

উনি একদিন সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলেন, আমি কি তার বিষয়টিতে শতভাগ আগ্রহী নই? বিনয়ের সঙ্গে জানাই, স্যার, আমি মোটেই আগ্রহী নই। তবে আপনার প্রোগ্রাম সাকসেসফুল হতে আমার যা যা করা লাগে আমার সাধ্যের মধ্যে তা আমি করবো।

আনিসুর রহমান স্যার কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, কেন তুমি আগ্রহী নও?

আবারও বিনয়ের সঙ্গে স্যারকে বলি, স্যার আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় বয়স্কদের এই অক্ষর লেখা শেখানো ও স্বাক্ষর শেখানোর প্রয়োজন নেই। শুধু অক্ষরটি ছবির মতো করে চিনিয়ে তাদের রিডিং পড়তে শেখালেই বিষয়টি কাজে আসে।

আনিসুর রহমান স্যার একটু দ্রুত রেগে যেতেন ঠিকই, আবার কোন কিছু শোনার ধৈর্যও তাঁর ছিল অসীম। তিনি জানতে চাইলেন কেন অক্ষর লেখা শেখানোর প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি।

স্যারকে বলি, অক্ষর লেখা শেখাতে গেলে অনেক সময় লাগে। তার থেকে দ্রুত তাদের অক্ষরগুলো ছবির মতো করে শিখিয়ে রিডিং পড়ানো শেখানো যায়। এবং এটা আমি অনেক পিয়ন, দারোয়ান, বয় বেয়ারাদের করেছিও। এবং তাতে আমি বেশি লাভবান হয়েছি।

স্যার জানতে চাইলেন, কীভাবে লাভবান হয়েছি?

স্যারকে বলি, স্যার স্বাক্ষর সাধারণত অশিক্ষিত লোকের দুটি কাজে লাগে। অশিক্ষিত লোক যদি কখনও কোন অফিস আদালতে যোগ দেয় তখন তার বেতন তোলার জন্য আর কোন কিছু সই করে গ্রহণ করার জন্য বা দেওয়ার জন্য। আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার জন্যে কোন সম্পত্তি কেনা বেচার ক্ষেত্রে। এই ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর হলেও তাকে টিপ সই দিতে হবে। কারণ এটা সব থেকে অথেনটিক ও সায়েন্টিফিক। বুড়ো আঙুলের এই রেখা সকলেরই ভিন্ন ভিন্ন। তাই এখানে নকল হবার কোন সুযোগ নেই। এ কারণে অফিস থেকে ব্যাংক অবধি টিপ সই চালু করে মেশিন রিডিংয়ের ব্যবস্থা করলে বিষয়টি অনেক সহজ ও কম খরচের।

অন্যদিকে যদি ছবির মতো অক্ষরগুলো চিনিয়ে তাকে রিডিং পড়তে শেখান তাহলে তারও যেমন ব্যক্তি জীবনে অনেক উপকার হবে। অফিসের কাজটিও যথাযথ হবে। কারণ সে যদি রিডিং পড়তে পারে তাহলে খামের ওপরের কার নাম লেখা সেটা সে বুঝতে পারবে সেভাবেই সে চিঠি ডেসপাস করতে পারবে। অফিসের নোটিসও সে পড়তে পারবে।

অন্যদিকে স্বাক্ষর করতে পারে কিন্তু রিডিং পড়তে পারে না এর ফল যে কত করুণ তার একটা অভিজ্ঞতা স্যারকে জানাই। জীবনের এক জটিল অধ্যায়ে একবার পুলিশ ফাঁড়িতে দুই মাস থাকতে হয়েছিল। সে সময়ে সেপাই কেন হাবিলদারও শুধু বেতন নেবার জন্য স্বাক্ষর করতে পারতেন। এর বেশি লেখাপড়া জানার প্রয়োজন হতো না। তাদের ভেতর শুধুমাত্র “মুন্সী” পড়তে ও লিখতে পারতেন। বেচারা হয়তো ক্লাস ফোর বা ফাইভ অবধি পড়েছেন।

মুন্সীর একটা বাড়তি ইনকাম ছিল, তার সহকর্মী অন্যান্য সেপাইদের বাড়ি থেকে যে চিঠি আসতো সেটা পড়ে দেয়ার পারিশ্রমিক। যার ফলে ওই বেচারাদের স্ত্রী বা মা গ্রামের কাউকে দিয়ে যে চিঠিটি লিখিয়েছেন তাদের সংসারের বা ব্যক্তি জীবনের বিষয়গুলো উল্লেখ করে তা থানার পুলিশ ফাঁড়ির অনেকেই জেনে যেতো।

সরি বউ কাবিন নামায় টিপসই দেওয়ার আগে ব্যালট পেপারে টিপসই দিয়ে ফেললাম 😁

স্যারকে নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতার কথা বলে বলি, তার পর থেকে কর্ম জীবনে প্রবেশ করে অনেক যোগ্য অফিস সহকারী পেয়েছি যারা স্বাক্ষর করতে পারতো, কিন্তু রিডিং পড়তে পারতো না। নিজের সময় ব্যয় করে কয়েক মাসের মধ্যে তাদের ছবির মতো করে অক্ষর চিনিয়ে রিডিং পড়া শিখিয়ে নিয়েছি। এবং তাতে শুধু আমি নই, অফিসও উপকৃত হয়েছে।

অধ্যাপক আনিসুর রহমান এ বিষয়ে আর কোনদিন আলাপ করেননি। তবে তিনি তাঁর প্রজেক্ট থেকে সরে আসেননি। পরে অবশ্য রবীন্দ্র সঙ্গীতে বেশি মনোযোগী হওয়ায় এ প্রজেক্ট তাঁর মাথায় থাকেনি।

আজ বিশ্ব স্বাক্ষরতা দিবস। সম্পাদকীয় লিখতে বসে মনে হলো অতীতের এই স্মৃতি ও স্বাক্ষরতার বিপরীতে নিতান্ত ক্ষুদ্র একজন সাংবাদিকের ভিন্ন ধারণাটাই লিখি। এ কারণেই স্বাক্ষরতা দিবসের সম্পাদকীয়র বদলে এই মতামত লেখা, অন্য কোন কারণে নয়।

লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, সম্পাদক, সারাক্ষণ ও The Present World।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে

স্বাক্ষরতা না রিডিং পড়া—কোনটা বেশি প্রয়োজনীয়?

০৮:১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রফেসর আনিসুর রহমান শেষ জীবনে এসে যেমন রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া নিয়ে মেতে উঠেছিলেন, তেমনি তাঁর মাথায় ঢুকেছিল সহজে স্বাক্ষর করানো শেখানো। তিনি বয়স্কদের অক্ষর লেখা শেখানোর একটি মেথড বের করে কয়েকটি বইও তৈরি করে ফেলেন।

ওই সময়ে তাঁর মাথার ভেতর মানুষকে সহজে স্বাক্ষর করে তোলা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তখন রেগুলার রমনা পার্কে মর্নিং ওয়াক করতাম। প্রায় প্রতিদিন আনিসুর রহমান স্যারের সঙ্গে দেখা হতো। তারপরে এক সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে দুনিয়ার তাবৎ বিষয় থাকতে উনি ওনার ওই বয়স্ক মানুষকে স্বাক্ষর করে তোলার পদ্ধতি কোথায়, কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা বলতেন। সকালে ওই ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের আলোচনায় আনিসুর রহমান স্যারের ঠিক মন ভরত না। তাই কোন কোন দিন ওনার ন্যাপ শেষ হতেই আমার অফিসে আসতেন। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক সময় নিয়ে স্যার ওগুলো আলোচনা করে চলে যেতেন।

কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে আনিসুর রহমান স্যার বুঝতে পারেন আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নই। যারা বঙ্গবন্ধুর প্রথম প্লানিং কমিশনের মেম্বার আনিসুর রহমান স্যারের ছাত্র, বন্ধু ও পরিচিতজন তারা জানতেন, তিনি কতটা স্বচ্ছ মানুষ ছিলেন। আর স্বচ্ছ মানুষদের অনেকগুলো ভালো গুণের মধ্যে একটা হলো সব কিছু সরাসরি বলা।

 

উনি একদিন সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলেন, আমি কি তার বিষয়টিতে শতভাগ আগ্রহী নই? বিনয়ের সঙ্গে জানাই, স্যার, আমি মোটেই আগ্রহী নই। তবে আপনার প্রোগ্রাম সাকসেসফুল হতে আমার যা যা করা লাগে আমার সাধ্যের মধ্যে তা আমি করবো।

আনিসুর রহমান স্যার কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, কেন তুমি আগ্রহী নও?

আবারও বিনয়ের সঙ্গে স্যারকে বলি, স্যার আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় বয়স্কদের এই অক্ষর লেখা শেখানো ও স্বাক্ষর শেখানোর প্রয়োজন নেই। শুধু অক্ষরটি ছবির মতো করে চিনিয়ে তাদের রিডিং পড়তে শেখালেই বিষয়টি কাজে আসে।

আনিসুর রহমান স্যার একটু দ্রুত রেগে যেতেন ঠিকই, আবার কোন কিছু শোনার ধৈর্যও তাঁর ছিল অসীম। তিনি জানতে চাইলেন কেন অক্ষর লেখা শেখানোর প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি।

স্যারকে বলি, অক্ষর লেখা শেখাতে গেলে অনেক সময় লাগে। তার থেকে দ্রুত তাদের অক্ষরগুলো ছবির মতো করে শিখিয়ে রিডিং পড়ানো শেখানো যায়। এবং এটা আমি অনেক পিয়ন, দারোয়ান, বয় বেয়ারাদের করেছিও। এবং তাতে আমি বেশি লাভবান হয়েছি।

স্যার জানতে চাইলেন, কীভাবে লাভবান হয়েছি?

স্যারকে বলি, স্যার স্বাক্ষর সাধারণত অশিক্ষিত লোকের দুটি কাজে লাগে। অশিক্ষিত লোক যদি কখনও কোন অফিস আদালতে যোগ দেয় তখন তার বেতন তোলার জন্য আর কোন কিছু সই করে গ্রহণ করার জন্য বা দেওয়ার জন্য। আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার জন্যে কোন সম্পত্তি কেনা বেচার ক্ষেত্রে। এই ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর হলেও তাকে টিপ সই দিতে হবে। কারণ এটা সব থেকে অথেনটিক ও সায়েন্টিফিক। বুড়ো আঙুলের এই রেখা সকলেরই ভিন্ন ভিন্ন। তাই এখানে নকল হবার কোন সুযোগ নেই। এ কারণে অফিস থেকে ব্যাংক অবধি টিপ সই চালু করে মেশিন রিডিংয়ের ব্যবস্থা করলে বিষয়টি অনেক সহজ ও কম খরচের।

অন্যদিকে যদি ছবির মতো অক্ষরগুলো চিনিয়ে তাকে রিডিং পড়তে শেখান তাহলে তারও যেমন ব্যক্তি জীবনে অনেক উপকার হবে। অফিসের কাজটিও যথাযথ হবে। কারণ সে যদি রিডিং পড়তে পারে তাহলে খামের ওপরের কার নাম লেখা সেটা সে বুঝতে পারবে সেভাবেই সে চিঠি ডেসপাস করতে পারবে। অফিসের নোটিসও সে পড়তে পারবে।

অন্যদিকে স্বাক্ষর করতে পারে কিন্তু রিডিং পড়তে পারে না এর ফল যে কত করুণ তার একটা অভিজ্ঞতা স্যারকে জানাই। জীবনের এক জটিল অধ্যায়ে একবার পুলিশ ফাঁড়িতে দুই মাস থাকতে হয়েছিল। সে সময়ে সেপাই কেন হাবিলদারও শুধু বেতন নেবার জন্য স্বাক্ষর করতে পারতেন। এর বেশি লেখাপড়া জানার প্রয়োজন হতো না। তাদের ভেতর শুধুমাত্র “মুন্সী” পড়তে ও লিখতে পারতেন। বেচারা হয়তো ক্লাস ফোর বা ফাইভ অবধি পড়েছেন।

মুন্সীর একটা বাড়তি ইনকাম ছিল, তার সহকর্মী অন্যান্য সেপাইদের বাড়ি থেকে যে চিঠি আসতো সেটা পড়ে দেয়ার পারিশ্রমিক। যার ফলে ওই বেচারাদের স্ত্রী বা মা গ্রামের কাউকে দিয়ে যে চিঠিটি লিখিয়েছেন তাদের সংসারের বা ব্যক্তি জীবনের বিষয়গুলো উল্লেখ করে তা থানার পুলিশ ফাঁড়ির অনেকেই জেনে যেতো।

সরি বউ কাবিন নামায় টিপসই দেওয়ার আগে ব্যালট পেপারে টিপসই দিয়ে ফেললাম 😁

স্যারকে নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতার কথা বলে বলি, তার পর থেকে কর্ম জীবনে প্রবেশ করে অনেক যোগ্য অফিস সহকারী পেয়েছি যারা স্বাক্ষর করতে পারতো, কিন্তু রিডিং পড়তে পারতো না। নিজের সময় ব্যয় করে কয়েক মাসের মধ্যে তাদের ছবির মতো করে অক্ষর চিনিয়ে রিডিং পড়া শিখিয়ে নিয়েছি। এবং তাতে শুধু আমি নই, অফিসও উপকৃত হয়েছে।

অধ্যাপক আনিসুর রহমান এ বিষয়ে আর কোনদিন আলাপ করেননি। তবে তিনি তাঁর প্রজেক্ট থেকে সরে আসেননি। পরে অবশ্য রবীন্দ্র সঙ্গীতে বেশি মনোযোগী হওয়ায় এ প্রজেক্ট তাঁর মাথায় থাকেনি।

আজ বিশ্ব স্বাক্ষরতা দিবস। সম্পাদকীয় লিখতে বসে মনে হলো অতীতের এই স্মৃতি ও স্বাক্ষরতার বিপরীতে নিতান্ত ক্ষুদ্র একজন সাংবাদিকের ভিন্ন ধারণাটাই লিখি। এ কারণেই স্বাক্ষরতা দিবসের সম্পাদকীয়র বদলে এই মতামত লেখা, অন্য কোন কারণে নয়।

লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, সম্পাদক, সারাক্ষণ ও The Present World।