১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

হরমুজ সংকটে ইউরিয়া দামে আগুন, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার নজর ইন্দোনেশিয়ায়

বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ইউরিয়া এখন বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আর এই পরিস্থিতিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকছে।

সংকটের উৎস: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত
ইন্দোনেশিয়ার উপ-কৃষিমন্ত্রী সুদারিওনো জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ভারত, ফিলিপাইন, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া ইউরিয়া আমদানির জন্য জাকার্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

বিশ্বের মোট সার রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ৩৪ কিলোমিটার, যেখানে উত্তরে ইরান ও দক্ষিণে ওমান অবস্থান করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরান অধিকাংশ জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। ফলে ইউরিয়ার দাম দ্রুত বেড়ে টনপ্রতি প্রায় ৬০০-৭০০ ডলার থেকে ৯০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন প্রস্তাব ইরানের

ইন্দোনেশিয়ার বাড়তি উৎপাদন: সুযোগ ও সম্ভাবনা
এই অস্থির বাজারে ইন্দোনেশিয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। দেশটির ইউরিয়া উৎপাদন মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা অভ্যন্তরীণভাবে নিশ্চিত হওয়ায় সরবরাহে স্থিতিশীলতা রয়েছে।

বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৪.৫ মিলিয়ন টন, যা দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি। সরকার ২০২৬ সালে প্রায় ১৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা রপ্তানির জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে।

সুদারিওনো জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে এই অতিরিক্ত ইউরিয়া সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

 

রপ্তানিতে সতর্কতা: খাদ্য নিরাপত্তা অগ্রাধিকার
তবে সরকার রপ্তানি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে বা উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলে যাতে দেশের কৃষি খাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে সম্ভাব্য এল নিনোজনিত খরার মতো জলবায়ু ঝুঁকি মাথায় রেখে খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নীতিতে পরিবর্তন: বন্ধ হচ্ছে না কারখানা
বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। আগে কয়েকটি সার কারখানা বন্ধ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন তা বাতিল করা হয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দেশটি নতুন রপ্তানি সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।

Timesofbangla.com | টাইমস অব বাংলা

অস্ট্রেলিয়ার সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি
অস্ট্রেলিয়া সাধারণত তাদের ইউরিয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ২০২৫ সালে তাদের মোট আমদানির প্রায় ৬৫ শতাংশই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার থেকে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে গেছে। এপ্রিল মাসে ওই অঞ্চল থেকে মাত্র একটি জাহাজ পৌঁছেছে, আর বাকি চালান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে সরানো হয়েছে, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেই উল্লেখযোগ্য।

ভারতের চাপ: বড় টেন্ডার আহ্বান
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরিয়া আমদানিকারক ভারতও একই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। গ্যাসের সীমিত সরবরাহ ও চালান বিলম্বের কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত সম্প্রতি ২৫ লাখ টন ইউরিয়া আমদানির জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে, যা তাদের বার্ষিক আমদানি চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

টেন্ডারে সর্বনিম্ন দর ছিল টনপ্রতি প্রায় ৯৩৫ থেকে ৯৫৯ ডলার, যা বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করে।

সৌদি আরব থেকে আসবে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া । খবরের কাগজ

সার্বিক চিত্র
হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক সার বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ার উদ্বৃত্ত উৎপাদন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই দেশটির প্রধান লক্ষ্য হয়ে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

হরমুজ সংকটে ইউরিয়া দামে আগুন, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার নজর ইন্দোনেশিয়ায়

১১:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ইউরিয়া এখন বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আর এই পরিস্থিতিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকছে।

সংকটের উৎস: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত
ইন্দোনেশিয়ার উপ-কৃষিমন্ত্রী সুদারিওনো জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ভারত, ফিলিপাইন, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া ইউরিয়া আমদানির জন্য জাকার্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

বিশ্বের মোট সার রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ৩৪ কিলোমিটার, যেখানে উত্তরে ইরান ও দক্ষিণে ওমান অবস্থান করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরান অধিকাংশ জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। ফলে ইউরিয়ার দাম দ্রুত বেড়ে টনপ্রতি প্রায় ৬০০-৭০০ ডলার থেকে ৯০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন প্রস্তাব ইরানের

ইন্দোনেশিয়ার বাড়তি উৎপাদন: সুযোগ ও সম্ভাবনা
এই অস্থির বাজারে ইন্দোনেশিয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। দেশটির ইউরিয়া উৎপাদন মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা অভ্যন্তরীণভাবে নিশ্চিত হওয়ায় সরবরাহে স্থিতিশীলতা রয়েছে।

বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৪.৫ মিলিয়ন টন, যা দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি। সরকার ২০২৬ সালে প্রায় ১৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা রপ্তানির জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে।

সুদারিওনো জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে এই অতিরিক্ত ইউরিয়া সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

 

রপ্তানিতে সতর্কতা: খাদ্য নিরাপত্তা অগ্রাধিকার
তবে সরকার রপ্তানি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে বা উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলে যাতে দেশের কৃষি খাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে সম্ভাব্য এল নিনোজনিত খরার মতো জলবায়ু ঝুঁকি মাথায় রেখে খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নীতিতে পরিবর্তন: বন্ধ হচ্ছে না কারখানা
বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। আগে কয়েকটি সার কারখানা বন্ধ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন তা বাতিল করা হয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দেশটি নতুন রপ্তানি সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।

Timesofbangla.com | টাইমস অব বাংলা

অস্ট্রেলিয়ার সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি
অস্ট্রেলিয়া সাধারণত তাদের ইউরিয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ২০২৫ সালে তাদের মোট আমদানির প্রায় ৬৫ শতাংশই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার থেকে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে গেছে। এপ্রিল মাসে ওই অঞ্চল থেকে মাত্র একটি জাহাজ পৌঁছেছে, আর বাকি চালান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে সরানো হয়েছে, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেই উল্লেখযোগ্য।

ভারতের চাপ: বড় টেন্ডার আহ্বান
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরিয়া আমদানিকারক ভারতও একই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। গ্যাসের সীমিত সরবরাহ ও চালান বিলম্বের কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত সম্প্রতি ২৫ লাখ টন ইউরিয়া আমদানির জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে, যা তাদের বার্ষিক আমদানি চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

টেন্ডারে সর্বনিম্ন দর ছিল টনপ্রতি প্রায় ৯৩৫ থেকে ৯৫৯ ডলার, যা বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করে।

সৌদি আরব থেকে আসবে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া । খবরের কাগজ

সার্বিক চিত্র
হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক সার বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ার উদ্বৃত্ত উৎপাদন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই দেশটির প্রধান লক্ষ্য হয়ে রয়েছে।