০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি ভেনিসে আবারও আলোচনায় ব্রুকলিন-নিকোলা, পুরোনো বিরতির পর ফিরলেন আলোয়

হাঙ্গুতে সেনা অভিযানে ক্যাপ্টেন শহীদ, নিহত ৭ ‘সন্ত্রাসী’

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এক সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। এ সময় সাতজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

শুক্রবার হাঙ্গুতে এ অভিযান চালানো হয়। শনিবার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, এলাকায় নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। পাকিস্তান সরকার টিটিপি সদস্যদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত করে।

মসজিদে আশ্রয়, বন্দুকযুদ্ধে ৭ নিহত

আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করে। একপর্যায়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী একটি মসজিদের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে গোলাগুলিতে সাতজন নিহত হয়।

নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতরা নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।

অভিযানে ২৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন হামজা আকরামও শহীদ হন। তিনি পাঞ্জাবের নারোয়াল জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আইএসপিআর জানায়, তিনি সামনে থেকে নিজের সদস্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং সন্ত্রাসীদের অনুসরণ করছিলেন।

এলাকায় চলছে তল্লাশি অভিযান

আইএসপিআর জানিয়েছে, হাঙ্গু এলাকায় অন্য কোনো সন্ত্রাসী অবস্থান করছে কি না, তা শনাক্ত ও নির্মূল করতে অভিযান-পরবর্তী তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।

ক্যাপ্টেন হামজা আকরামের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি নিহত সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ক্যাপ্টেন আকরামের সাহস ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে শোক প্রকাশ করেছেন। সরকারি বার্তা সংস্থা এপিপি জানায়, তিনি সাত সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন এবং সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’-এর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও নিহত সেনা কর্মকর্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ৭ সন্ত্রাসী নিহত

খাইবার পাখতুনখোয়ায় আরও অভিযান

এর এক দিন আগে আইএসপিআর জানিয়েছিল, খাইবার পাখতুনখোয়ার দুটি পৃথক সংঘর্ষে ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আজম ওয়ারসাক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে হামলার চেষ্টা করলে আটজন নিহত হয়। অন্যদিকে দির জেলায় আরেক সংঘর্ষে আরও দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়।

এ ছাড়া প্রদেশটির বান্নু জেলার জানি খেল এলাকায় পৃথক এক অভিযানে জামিদুল্লাহ নামে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসী কমান্ডার নিহত হয়েছে বলে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, জামিদুল্লাহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং কোয়াডকপ্টার পরিচালনায় দক্ষ হিসেবে পরিচিত ছিল।

জুলাই ছিল ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস

ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওই মাসে ২০৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১১২ জন ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৬ সালের মধ্যে জুলাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই

হাঙ্গুতে সেনা অভিযানে ক্যাপ্টেন শহীদ, নিহত ৭ ‘সন্ত্রাসী’

০৮:১২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এক সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। এ সময় সাতজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

শুক্রবার হাঙ্গুতে এ অভিযান চালানো হয়। শনিবার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, এলাকায় নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। পাকিস্তান সরকার টিটিপি সদস্যদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত করে।

মসজিদে আশ্রয়, বন্দুকযুদ্ধে ৭ নিহত

আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করে। একপর্যায়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী একটি মসজিদের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে গোলাগুলিতে সাতজন নিহত হয়।

নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতরা নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।

অভিযানে ২৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন হামজা আকরামও শহীদ হন। তিনি পাঞ্জাবের নারোয়াল জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আইএসপিআর জানায়, তিনি সামনে থেকে নিজের সদস্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং সন্ত্রাসীদের অনুসরণ করছিলেন।

এলাকায় চলছে তল্লাশি অভিযান

আইএসপিআর জানিয়েছে, হাঙ্গু এলাকায় অন্য কোনো সন্ত্রাসী অবস্থান করছে কি না, তা শনাক্ত ও নির্মূল করতে অভিযান-পরবর্তী তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।

ক্যাপ্টেন হামজা আকরামের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি নিহত সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ক্যাপ্টেন আকরামের সাহস ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে শোক প্রকাশ করেছেন। সরকারি বার্তা সংস্থা এপিপি জানায়, তিনি সাত সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন এবং সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’-এর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও নিহত সেনা কর্মকর্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ৭ সন্ত্রাসী নিহত

খাইবার পাখতুনখোয়ায় আরও অভিযান

এর এক দিন আগে আইএসপিআর জানিয়েছিল, খাইবার পাখতুনখোয়ার দুটি পৃথক সংঘর্ষে ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আজম ওয়ারসাক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে হামলার চেষ্টা করলে আটজন নিহত হয়। অন্যদিকে দির জেলায় আরেক সংঘর্ষে আরও দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়।

এ ছাড়া প্রদেশটির বান্নু জেলার জানি খেল এলাকায় পৃথক এক অভিযানে জামিদুল্লাহ নামে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসী কমান্ডার নিহত হয়েছে বলে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, জামিদুল্লাহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং কোয়াডকপ্টার পরিচালনায় দক্ষ হিসেবে পরিচিত ছিল।

জুলাই ছিল ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস

ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওই মাসে ২০৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১১২ জন ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৬ সালের মধ্যে জুলাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস।