চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটরদের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে যাচ্ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। বিশেষ করে ৫জি অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় শেষ হওয়ায় এবং আয় ও মুনাফা বৃদ্ধির গতি থেমে যাওয়ায় এই খাতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
বিনিয়োগ ১৫ বছরের সর্বনিম্নে নামার পথে
চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম, চায়না ইউনিকম এবং চায়না টাওয়ার—এই চার প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনী ব্যয় ২০২৫ সালে দাঁড়ায় ৩১৫ বিলিয়ন ইউয়ানে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি কম। ২০২৬ সালে এটি আরও কমে ২৮৯ বিলিয়ন ইউয়ানে নামতে পারে, যা প্রায় ২০১১ সালের পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্ক নির্মাণের সময় ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছিল, তবে এখন সেই ধারা শেষ হয়ে এসেছে। ফলে বিনিয়োগ ধীরে ধীরে কমছে।
ব্যয়ের ফোকাস বদলে যাচ্ছে
টেলিকম কোম্পানিগুলো এখন অবকাঠামো নির্মাণ থেকে সরে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
চায়না টেলিকম ইতোমধ্যে ব্যয় কমিয়েছে এবং আগামী বছরেও আরও কাটছাঁটের পরিকল্পনা করেছে। চায়না ইউনিকমও কম খরচে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
আয় ও মুনাফায় স্থবিরতা
তিন বড় টেলিকম কোম্পানির আয় ও মুনাফা বৃদ্ধির হার খুবই কম—কিছু ক্ষেত্রে ১ শতাংশেরও নিচে। চায়না মোবাইলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও খুব সামান্য রাজস্ব বৃদ্ধি দেখেছে, এমনকি মুনাফা কমেছে।

লভ্যাংশ বাড়ছে, সরকারের চাপ
অদ্ভুতভাবে, আয় কমলেও কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ বাড়াচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা SASAC-এর চাপ, যারা এসব কোম্পানির প্রধান শেয়ারহোল্ডার।
এই খাত থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্বও পায়। ফলে সরকার চায় কোম্পানিগুলো নিয়মিত বেশি লভ্যাংশ প্রদান করুক।
সরঞ্জাম নির্মাতাদের ওপর চাপ
টেলিকম কোম্পানির বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বড় ধাক্কা খাচ্ছে জেডটিই-এর মতো সরঞ্জাম প্রস্তুতকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা এক বছরে ৩৩ শতাংশ কমেছে। যদিও মোট আয় কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু মূল ব্যবসা—ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেডটিই জানিয়েছে, ৫জি নির্মাণ পর্ব শেষ হওয়ায় দেশীয় বাজারে চাপ বেড়েছে।
বিদেশমুখী কৌশল
দেশে চাহিদা কমে যাওয়ায় জেডটিই এখন বিদেশি বাজারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে তারা নতুন প্রকল্পে কাজ করছে।
বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশেও তারা বাজার সম্প্রসারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি
জেডটিই অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল এবং এখনো আইনি চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে কোম্পানির বৈশ্বিক কার্যক্রমেও কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমার প্রবণতা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। ২০২৬ ও ২০২৭ সালেও এই দুর্বলতা থাকতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা প্রবৃদ্ধি এই ক্ষতি আংশিকভাবে পুষিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 








