বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মার্কিন ডলার আবারও নিরাপদ বিনিয়োগের প্রধান আশ্রয় হিসেবে ফিরে এসেছে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
ডলারের পুনরুত্থান ও বৈশ্বিক প্রভাব
এক সময় দুর্বল হয়ে পড়া ডলার এখন আবার বেশিরভাগ মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ডলারের প্রতি আস্থা পুনরায় বেড়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তার কারণে ডলার দুর্বল হয়েছিল। সেই সময় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প হিসেবে সোনা ও অন্যান্য মুদ্রায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন।
তবে বর্তমানে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে দ্বিধায় পড়বে—এমন প্রত্যাশাই ডলারকে শক্তিশালী করছে।
সোনা ও অন্যান্য মুদ্রার পতন
ডলারের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সোনার দাম কমতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
একইভাবে সুইস ফ্রাঁসহ অন্যান্য জনপ্রিয় ‘সেফ হ্যাভেন’ মুদ্রাও প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। জি-১০ দেশগুলোর প্রায় সব মুদ্রাই ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে।

ব্রিটিশ পাউন্ড তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও তা-ও কিছুটা কমেছে। কানাডিয়ান ডলার ও নরওয়ের ক্রোনাও ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে।
উদীয়মান বাজারে চাপ
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। গত এক মাসে এসব দেশের মুদ্রা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।
তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কলম্বিয়ান পেসো ও আর্জেন্টাইন পেসো কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। চীনের রেনমিনবিও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার র্যান্ড সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয়েছে, যা প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখেছে।
বিনিয়োগকারীদের কৌশল পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী ডলারভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF), স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিল এবং মানি মার্কেট ফান্ড এখন তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলে নগদ বা স্বল্পমেয়াদি নিরাপদ বিনিয়োগে থাকা একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 








