১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের হিসাব জটিল করতে প্রতিরক্ষা জোট বাড়াচ্ছে জাপান দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের প্রধান কৌঁসুলির পদত্যাগ মেক্সিকোয় অস্ট্রেলীয় দুই সার্ফার ভাই হত্যার বিচার শুরু

স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণে ইতিহাস, উনাই সিমনের রেকর্ড ক্লিন শিটে বিশ্বকাপের ফাইনালে লা রোজা

গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং গোটা দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগের সৌজন্যে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে ষষ্ঠবারের মতো কোনো গোল না খেয়ে নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ডও গড়েছে তারা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় ফাইনাল। ১৬ বছর আগে একমাত্র শিরোপা জয়ের পর আবারও ট্রফির খুব কাছে পৌঁছে গেছে লা রোজা। আগামী রোববারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড।

উনাই সিমনের অবিশ্বাস্য মুহূর্ত

ম্যাচের শেষদিকে স্পেনের জয় ধরে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। গোলের খোঁজে মরিয়া ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের আগে দৌড়ে এসে তিনি বল ক্লিয়ার করেন।

তবে তাতেই বিপদ শেষ হয়নি। বলটি ফিরে পেয়ে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড ডিজায়ার দুয়ে সুযোগ তৈরি করতে এগিয়ে আসেন। গোলপোস্টের বাইরে চলে যাওয়া অবস্থান থেকে দ্রুত ফিরে এসে সিমন হাত ব্যবহার না করেই দারুণ এক ডিফ্লেকশনের মাধ্যমে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। পরে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্পেনের লিড অক্ষুণ্ন রাখেন।

Spain advances to World Cup final with 2-0 win over France | Eyewitness  News (WEHT/WTVW)

রক্ষণেই ম্যাচ জিতল স্পেন

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সকে পুরো ম্যাচে কার্যকর আক্রমণের সুযোগই দেয়নি স্পেন। এমবাপ্পে ম্যাচে মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছেন, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি ম্যাচ শেষে বলেন, দল হিসেবে সবাই অসাধারণ পরিশ্রম করেছে। তারা জানত প্রতিপক্ষের দলে দুর্দান্ত খেলোয়াড় রয়েছে, তবে নিজেদের দলেও সেই মানের ফুটবলার আছে। পুরো ৯০ মিনিট সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছে এবং সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমঁ স্বীকার করেন, স্পেন অসাধারণভাবে রক্ষণ সামলেছে। তারা সব জায়গা বন্ধ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি ফ্রান্সও কারিগরি ভুল করেছে, ফলে সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রেকর্ডের পর রেকর্ড

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত উনাই সিমন মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। সেটিও কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচের ৪১তম মিনিটে। সেই গোলের আগে তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েন।

Spain and goalkeeper Unai Simón post another shutout to reach the World Cup  final

ফ্রান্সের বিপক্ষে ক্লিন শিট স্পেনের টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ গোলশূন্য ম্যাচ। এর মাধ্যমে তারা ইতালি (১৯৯০) এবং সুইজারল্যান্ডের (২০০৬-১০) যৌথ রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাস গড়েছে।

এর আগে নকআউট পর্বের শুরুতে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে সিমন টানা ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার পুরোনো রেকর্ডও অতিক্রম করেছিলেন।

ফাইনালের অপেক্ষায় স্পেন

ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে জয় নিশ্চিত করে স্পেন এখন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। ফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড—যেই প্রতিপক্ষই আসুক, আত্মবিশ্বাসী স্পেন নিজেদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ও দলগত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা

স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণে ইতিহাস, উনাই সিমনের রেকর্ড ক্লিন শিটে বিশ্বকাপের ফাইনালে লা রোজা

০২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং গোটা দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগের সৌজন্যে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে ষষ্ঠবারের মতো কোনো গোল না খেয়ে নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ডও গড়েছে তারা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় ফাইনাল। ১৬ বছর আগে একমাত্র শিরোপা জয়ের পর আবারও ট্রফির খুব কাছে পৌঁছে গেছে লা রোজা। আগামী রোববারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড।

উনাই সিমনের অবিশ্বাস্য মুহূর্ত

ম্যাচের শেষদিকে স্পেনের জয় ধরে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। গোলের খোঁজে মরিয়া ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের আগে দৌড়ে এসে তিনি বল ক্লিয়ার করেন।

তবে তাতেই বিপদ শেষ হয়নি। বলটি ফিরে পেয়ে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড ডিজায়ার দুয়ে সুযোগ তৈরি করতে এগিয়ে আসেন। গোলপোস্টের বাইরে চলে যাওয়া অবস্থান থেকে দ্রুত ফিরে এসে সিমন হাত ব্যবহার না করেই দারুণ এক ডিফ্লেকশনের মাধ্যমে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। পরে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্পেনের লিড অক্ষুণ্ন রাখেন।

Spain advances to World Cup final with 2-0 win over France | Eyewitness  News (WEHT/WTVW)

রক্ষণেই ম্যাচ জিতল স্পেন

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সকে পুরো ম্যাচে কার্যকর আক্রমণের সুযোগই দেয়নি স্পেন। এমবাপ্পে ম্যাচে মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছেন, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি ম্যাচ শেষে বলেন, দল হিসেবে সবাই অসাধারণ পরিশ্রম করেছে। তারা জানত প্রতিপক্ষের দলে দুর্দান্ত খেলোয়াড় রয়েছে, তবে নিজেদের দলেও সেই মানের ফুটবলার আছে। পুরো ৯০ মিনিট সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছে এবং সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমঁ স্বীকার করেন, স্পেন অসাধারণভাবে রক্ষণ সামলেছে। তারা সব জায়গা বন্ধ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি ফ্রান্সও কারিগরি ভুল করেছে, ফলে সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রেকর্ডের পর রেকর্ড

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত উনাই সিমন মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। সেটিও কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচের ৪১তম মিনিটে। সেই গোলের আগে তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েন।

Spain and goalkeeper Unai Simón post another shutout to reach the World Cup  final

ফ্রান্সের বিপক্ষে ক্লিন শিট স্পেনের টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ গোলশূন্য ম্যাচ। এর মাধ্যমে তারা ইতালি (১৯৯০) এবং সুইজারল্যান্ডের (২০০৬-১০) যৌথ রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাস গড়েছে।

এর আগে নকআউট পর্বের শুরুতে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে সিমন টানা ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার পুরোনো রেকর্ডও অতিক্রম করেছিলেন।

ফাইনালের অপেক্ষায় স্পেন

ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে জয় নিশ্চিত করে স্পেন এখন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। ফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড—যেই প্রতিপক্ষই আসুক, আত্মবিশ্বাসী স্পেন নিজেদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ও দলগত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়।