চুল ধোয়ার প্রচলিত নিয়মে আগে শ্যাম্পু, পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করা হয়। তবে এখন সৌন্দর্যচর্চায় নতুন একটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে কন্ডিশনার এবং পরে শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক চুলের ধরন হলে এই কৌশল চুলকে মসৃণ রাখার পাশাপাশি গোড়ায় স্বাভাবিক ভলিউম ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কী এই নতুন পদ্ধতি?
চুল ধোয়ার এই কৌশলকে বলা হয় উল্টোভাবে চুল ধোয়া। এতে প্রথমে চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করা হয়। এরপর মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ায় শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডিশনার আগে ব্যবহার করলে চুলের বাইরের স্তরে সাময়িক একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি হয়। ফলে শ্যাম্পু ব্যবহারের সময় চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে শ্যাম্পু কন্ডিশনারের অতিরিক্ত অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করে দেওয়ায় চুল ভারী অনুভূত হয় না।
কার জন্য বেশি উপকারী?
এই পদ্ধতি বিশেষ করে পাতলা, নরম বা সহজেই ভারী হয়ে যাওয়া চুলের জন্য উপকারী হতে পারে। যাদের হালকা ঢেউ খেলানো চুল রয়েছে, তারাও এতে ভালো ফল পেতে পারেন।
অন্যদিকে খুব মোটা, রুক্ষ বা অতিরিক্ত কোঁকড়ানো চুলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মে আগে শ্যাম্পু এবং পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ এমন চুলে দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়।
.jpg)
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রথমে চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগিয়ে দুই থেকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর মাথার ত্বক ও গোড়ায় শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু ধোয়ার সময় এর ফেনা স্বাভাবিকভাবেই চুলের বাকি অংশ পরিষ্কার করবে, তাই আগার অংশে অতিরিক্ত ঘষাঘষির প্রয়োজন নেই।
যাদের চুল অতিরিক্ত শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা চাইলে শেষে একটি গভীর পরিচর্যার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ফিরতে সহায়তা করতে পারে।
চুল শুকানোর সময়ও দরকার সতর্কতা
চুল ধোয়ার পর জোরে ঘষে মুছার পরিবর্তে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি শুষে নেওয়া ভালো। ভেজা চুলে অযথা টানাটানি বা শক্তভাবে আঁচড়ানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে চুল ভাঙার ঝুঁকি কমে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সবার জন্য নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি সবার জন্য সমান কার্যকর নয়। চুলের ঘনত্ব, গঠন, শুষ্কতা এবং দৈনন্দিন পরিচর্যার ধরন অনুযায়ী ফল ভিন্ন হতে পারে। তাই নতুন কোনো পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করার আগে নিজের চুলের ধরন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চুলে ভলিউম বাড়াতে উল্টোভাবে চুল ধোয়ার পদ্ধতি কতটা কার্যকর, কার জন্য উপযোগী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন—জেনে নিন সহজ ভাষায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















