যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত নবম দিনে গড়িয়েছে। সোমবারও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নতুন দফায় হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নতুন দফার হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানা গেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু
সাম্প্রতিক সংঘাতে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। উত্তর ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে সপ্তাহান্তে আরও দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং চার শতাধিক আহত হয়েছেন।
পাল্টা হামলায় ইরান
ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় শত্রুপক্ষের একটি বিশেষ অভিযান ঘাঁটিতে আকস্মিক হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করা হয়। একই সময়ে কুয়েতের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে আগুন লেগে যায়।

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে শঙ্কা
সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলেও এর কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা
এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর দুই পক্ষই ধারাবাহিকভাবে হামলা বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















