যুক্তরাষ্ট্রে লেটুসে সাইক্লোস্পোরা পরজীবী থাকার আশঙ্কা ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পরীক্ষায় পাওয়া একটি ইতিবাচক ফল ভুল ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে আগে ঘোষণা করা লেটুস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।
ভুল পরীক্ষার ফল নিয়ে নতুন তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, মেক্সিকো থেকে সরবরাহ করা একটি লেটুসের নমুনায় সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হওয়ার আগের ফলাফল পুনরায় যাচাই করে দেখা যায়, সেটি প্রকৃত সংক্রমণের প্রমাণ নয়। পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় ভুল সংকেত তৈরি হওয়ায় এই ফলকে ভুল ইতিবাচক ফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, ১৯ জুলাই পর্যন্ত সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হওয়ার কোনো নিশ্চিত পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি।
প্রত্যাহার করা পণ্যের বিষয়ে সতর্কতা
ভুল পরীক্ষার তথ্য সামনে এলেও মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চল থেকে আনা আইসবার্গ লেটুসের স্বেচ্ছা প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিবর্তন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাজারে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই লেটুস কয়েকটি বড় খাদ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি জনপ্রিয় খাবারের চেইনেও সরবরাহ করা হয়েছিল। অসুস্থতার ঘটনার তদন্তের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর লেটুস ব্যবহার বন্ধ করে দেয়।
রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
চলতি বছরের মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের প্রায় সাত হাজার ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে বা তদন্তের আওতায় রয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হলে পানির মতো পাতলা পায়খানা, দুর্বলতা এবং ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত করার পরীক্ষা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। পরীক্ষাগারে এই জীবাণু নিয়ে কাজ করাও সহজ নয়। তাই কোনো পরীক্ষার ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য ও সতর্ক ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষায় সতর্কতার প্রয়োজন
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পণ্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করার সিদ্ধান্ত অনেক সময় জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়। তবে পরীক্ষার ফল ভুল প্রমাণিত হলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ঘটনার উৎস খুঁজে বের করতে কাজ করছে। ভোক্তাদেরও খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















