ভারতে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) লেনদেনে সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে কোনো চার্জ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি সপ্তাহে লোকসভায় পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭ সংশোধনের প্রস্তাব পাস হওয়ার পর ইউপিআই লেনদেনে ফি আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ইউপিআইয়ের বিপুলসংখ্যক লেনদেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ী—উভয়ের জন্যই বিনা খরচে থাকবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনে ভবিষ্যতে নামমাত্র ফি আরোপের সুযোগ রাখা হতে পারে।
গ্রাহকের ইউপিআই পেমেন্টে থাকবে না চার্জ
ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ভোক্তারা অর্থ পরিশোধ করলে তাদের কোনো লেনদেন ফি দিতে হবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পি-টু-পি লেনদেনও আগের মতোই বিনা খরচে চলবে।
তবে নির্দিষ্ট সীমার বেশি কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনে ভবিষ্যতে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চালুর সুযোগ থাকতে পারে। সরকার বলেছে, এ ধরনের ফি আরোপ করা হলেও তা হবে সীমিত পরিসরে এবং নামমাত্র হারে। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের এমডিআরের তুলনায় এই হার অনেক কম হবে।
এমডিআর হলো ডিজিটাল বা কার্ডের মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ীর কাছে পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে আরোপিত ফি। ইউপিআই চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের লেনদেনে সাধারণভাবে ব্যবসায়ীদের কোনো এমডিআর দিতে হয় না।
সবার ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা নেই
সরকার স্পষ্ট করেছে, এমডিআর চালু হলেও তা সব ধরনের লেনদেনের ওপর একসঙ্গে আরোপ করা হবে না। নির্দিষ্ট সীমা বা থ্রেশহোল্ড অতিক্রম করা কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে এ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগে ২০২৬ সালের ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পাস হতে হবে। ওই বিলের মাধ্যমে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭-এর ১০এ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। সংশোধনটি কার্যকর হলে এমডিআর আরোপ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন ইউপিআই অ্যান্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি।

‘বাহ্যিক চাপের’ খবরও নাকচ
ইউপিআই লেনদেনে সম্ভাব্য ফি আরোপের সুযোগ তৈরির পেছনে কোনো ‘বাহ্যিক চাপ’ কাজ করেছে—এমন প্রতিবেদনও সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এসব দাবি ভিত্তিহীন, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে।
সরকারের বক্তব্য, বাহ্যিক চাপ থাকলে ২০১৬ সালে ইউপিআই চালু করা এবং ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বিনা খরচে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হতো না। একই সঙ্গে ইউপিআইকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিয়েল-টাইম আন্তঃপরিচালনযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেছে কেন্দ্র।
ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউপিআই অবকাঠামোকে টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনী রাখার বৃহত্তর লক্ষ্য থেকেই আইনি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
ভারতে ইউপিআই লেনদেনে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। তবে নির্দিষ্ট সীমার বেশি কিছু ব্যবসায়িক পেমেন্টে ভবিষ্যতে নামমাত্র এমডিআর বসতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















