ভারতের তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, বর্তমান ভারতে শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। তাঁর দাবি, শিক্ষাগত সনদের মূল্য কমে গেছে, কারণ তা তরুণদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।
শনিবার উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ‘ছাত্রদের কণ্ঠ’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রাতভর বৃষ্টির কারণে কায়স্থ পাঠশালা মাঠের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদা জমলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হন।
তরুণদের ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’
রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের প্রায় ৪০ কোটি তরুণই দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ভারতের তরুণদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তরুণদের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি ‘দুঃখ, তথ্য ও সম্পদ’—এই তিনটি বিষয় সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, তরুণদের ব্যক্তিগত তথ্য ও তাদের নানা সমস্যার সুবিধা অন্যরা নিচ্ছে, অথচ তরুণরা নিজেরাই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
‘ডিগ্রি মানেই চাকরি নয়’
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, বর্তমান ভারতে একটি ডিগ্রি সনদের আর আগের মতো মূল্য নেই, কারণ ডিগ্রি অর্জনের পরও অনেক তরুণ চাকরি পাচ্ছেন না।
তিনি দাবি করেন, দেশে কর্মসংস্থানের দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, তরুণদের কঠোর পরিশ্রম করে ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা থাকলেও চাকরির বাজারে পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
তথ্য, সামাজিক মাধ্যম ও তরুণদের কর্মজীবন
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা বড় কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির দিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে তরুণদের রিল ও কনটেন্ট তৈরিতে ব্যস্ত থাকতে বলা হচ্ছে, অন্যদিকে স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্যে দ্রুত সরবরাহ ও পরিবহনভিত্তিক বিভিন্ন কাজের উদাহরণও উঠে আসে। এসব কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট তৈরির পরামর্শ দেওয়া হলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়ার সুযোগ সীমিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃষ্টির মধ্যেও বড় আয়োজন
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের আগে প্রয়াগরাজ বিমানবন্দরে তাঁকে দলীয় নেতা-কর্মীরা স্বাগত জানান। তাঁদের মধ্যে এলাহাবাদ লোকসভা আসনের সংসদ সদস্য উজ্জ্বল রমন সিংও ছিলেন।
অনুষ্ঠানের মাঠটি আগের রাতের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। আয়োজন সফল করতে দলীয় কর্মীরা বালতি দিয়ে পানি সরানোর কাজ করেন। পানি জমে থাকা অংশে চুনাপাথর ও বালি ছড়িয়ে দিতে জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা হয় এবং মাঠ সমতল করতে রোড রোলারও নামানো হয়।
এর আগে শুক্রবার প্রয়াগরাজ সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, তাঁর আলোচনার মূল বিষয় হবে বেকারত্ব, নিয়োগে বিলম্ব এবং শিক্ষার্থীদের নানা সংকট। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকা এবং জবাবদিহির ঘাটতিতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভারতের তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট এবং শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তিনি শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন।
ভারতের তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য
ভারতে ডিগ্রি থাকলেও চাকরির নিশ্চয়তা নেই—প্রয়াগরাজে শিক্ষার্থীদের সামনে কর্মসংস্থান, তথ্য ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















