০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
পারি মনির ধর্ষণচেষ্টা মামলা: ৩০ নভেম্বর ফের জেরার মুখোমুখি অভিনেত্রী কিছুই ঘটবে না—এই বাজি কি ফেডের জন্য বিপজ্জনক? ৪৩ বছর বয়সেও ‘চিরকিশোর’ রাজনীতিক! জ্যাক পোলানস্কিকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক হরমুজ ও লোহিত সাগরের ঝুঁকি বাড়তেই বিশ্বজুড়ে তেল পাইপলাইনে বিনিয়োগের হিড়িক চাঁদের মাটিতে রকেট, পৃথিবীতে ধাক্কা—মাস্কের মহাকাশ সাম্রাজ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন শঙ্কা জাপানকে ঘিরে চীনের আগ্রাসী চাপ, আসল লক্ষ্য কি যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় আধিপত্য? দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পে টিএসএমসির কৌশল, যেভাবে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে বিশ্বজয় গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার নয় দ্বৈত কৌশলগত সিদ্ধান্ত: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সংঘাত নয়, শান্তির পথ বেছে নেওয়ার সময় গ্র্যামির ‘এশিয়ান পপ’ খাঁচায় বিটিএসকে বন্দি করা কি সত্যিই স্বীকৃতি?

যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শেয়ারে ধস, তরুণ বিনিয়োগ পরিচালকের ৬৭ শতাংশ পতনে বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে ঘিরে বিনিয়োগের উন্মাদনায় এবার বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। মাত্র বিশের কোঠায় থাকা বিনিয়োগ পরিচালক লিওপোল্ড আশেনব্রেনারের পরিচালিত ‘সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস’ নামের একটি বিনিয়োগ তহবিল জুলাই মাসে প্রায় ৬৭ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধরনের বিনিয়োগই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

ঘটনাটি শুধু একটি বিনিয়োগ তহবিলের বড় ক্ষতির গল্প নয়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও শেয়ারবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত প্রত্যাশা, ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারীদের বিচারবোধ নিয়েও বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মাত্র বিশের কোঠায় থাকা এবং দীর্ঘ পেশাগত বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা না থাকা একজন তরুণের হাতে এত বিপুল অর্থ তুলে দেওয়া হলো কেন?

একটি প্রবন্ধ থেকে বিপুল অর্থের দায়িত্ব

লিওপোল্ড আশেনব্রেনার ২০২৪ সালে ‘সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস’ নামে প্রায় ১৬৫ পৃষ্ঠার একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি যুক্তি দেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সমাজ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির সম্ভাবনাও তিনি তুলে ধরেন।

লেখাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী বিশ্লেষণ অনেক বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করে।

এরপর তিনি একই নামে একটি বিনিয়োগ তহবিল চালু করেন।

তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২২ বছর। পেশাদারভাবে শেয়ার বা বিনিয়োগ তহবিল পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা তাঁর হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিতে শুরু করেন।

কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর তহবিল কয়েক শ কোটি ডলারের সম্পদ পরিচালনা করতে থাকে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর ব্যবস্থাপনায় থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে জানা যায়।

একজন তরুণ বিনিয়োগ পরিচালকের জন্য এটি ছিল অসাধারণ দ্রুত উত্থান।

কিন্তু এই দ্রুত সাফল্যের মধ্যেই ছিল বড় ঝুঁকি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের বিনিয়োগের বড় অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে।

তহবিলটির উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ছিল ব্লুম এনার্জি, কোরউইভ ও স্যান্ডিস্কের মতো প্রতিষ্ঠানে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়তে থাকায় এসব কোম্পানির শেয়ারের দামও দ্রুত বাড়ছিল। ফলে তহবিলটির বিনিয়োগ থেকে বড় ধরনের মুনাফা আসতে থাকে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের মুনাফা ৪৩৯ শতাংশে পৌঁছেছিল বলে জানানো হয়।

এই সংখ্যা বিনিয়োগ দুনিয়ায় প্রায় অবিশ্বাস্য। এত অল্প সময়ে এত বেশি মুনাফা সাধারণ বিনিয়োগ কৌশলে অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।

এর অর্থ হতে পারে, তহবিলটি অত্যন্ত বড় ঝুঁকি নিয়েছিল, অথবা বিপুল পরিমাণ ধার করা অর্থ ব্যবহার করেছিল।

বাজার যতক্ষণ অনুকূলে ছিল, সেই কৌশল অসাধারণ ফল দিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতেই পুরো চিত্র পাল্টে যায়।

Exclusive | The Investing Heavyweights That Backed Situational Awareness  Before It Blew Up - WSJ

জুলাইয়ে শুরু হয় ভয়াবহ পতন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত কয়েকটি শেয়ারের দাম হঠাৎ করে দ্রুত কমতে শুরু করে। সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য অর্ধেকেরও বেশি পড়ে যায়।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ওপর।

জুলাই মাসে তহবিলটির মূল্য প্রায় ৬৭ শতাংশ কমে যায়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের বাজার পরিবর্তন একটি তহবিলের বিশাল মুনাফাকে বড় ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়।

৩০ জুলাই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তহবিলটি তার তালিকাভুক্ত শেয়ারের বড় একটি অংশ দ্রুত বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিটাডেলের কাছে হস্তান্তর করে।

বাজারে বড় ধরনের সম্পদ দ্রুত বিক্রি করা সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত তখনই নেওয়া হয়, যখন একটি তহবিলের সামনে দ্রুত ক্ষতি মেনে নিয়ে বেরিয়ে আসা অথবা আরও বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি নেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

আশেনব্রেনার তাঁর বিনিয়োগকারীদের জানান, তিনি ভবিষ্যতে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন।

কিন্তু ততক্ষণে বড় ধাক্কা লেগে গেছে।

প্রশ্ন উঠছে বিনিয়োগকারীদের নিয়েও

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতনের পর স্বাভাবিকভাবেই এর পরিচালকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কিন্তু শুধু আশেনব্রেনারকে দায়ী করলেই কি পুরো ঘটনাটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব?

একজন তরুণ বিনিয়োগ পরিচালক ভুল করতে পারেন। বাজার সম্পর্কে তাঁর হিসাব ভুল হতে পারে। তিনি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসীও হতে পারেন।

কিন্তু তাঁকে এত বিপুল অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অন্যরা।

তাহলে তাঁদের সিদ্ধান্তের মূল্যায়নও জরুরি।

একজন প্রায় ২২ বছর বয়সী ব্যক্তি, যার দীর্ঘ পেশাগত বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা ছিল না, কীভাবে এত দ্রুত হাজার হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেলেন?

তাঁর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা কি যথেষ্ট যাচাই করা হয়েছিল?

নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে তাঁরা ঝুঁকির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি?

যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতন শুধু একজন পরিচালকের ব্যর্থতা নয়। এটি বিনিয়োগকারীদের বিচারবোধেরও একটি বড় পরীক্ষা।

৪৩৯ শতাংশ মুনাফাই কি ছিল সতর্কবার্তা?

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪৩৯ শতাংশ মুনাফা অর্জনের তথ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এত দ্রুত এত বড় মুনাফা অর্জন সাধারণত বড় ধরনের ঝুঁকি ছাড়া সম্ভব নয়।

বিনিয়োগে ঋণ বা ধার করা অর্থ ব্যবহার করলে সামান্য বাজার ওঠানামাও বড় মুনাফা তৈরি করতে পারে। কিন্তু একই কারণে বাজার বিপরীত দিকে গেলে ক্ষতিও বহুগুণ বেড়ে যায়।

অর্থাৎ বাজারের উত্থানের সময় উচ্চ ঝুঁকির কৌশল অসাধারণ সাফল্য মনে হতে পারে। পতনের সময় সেটিই বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ক্ষেত্রে জুলাইয়ের ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের শিক্ষা

এই ঘটনার সঙ্গে ১৯৯৮ সালে ধসে পড়া লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের তুলনা করা হচ্ছে।

সেই তহবিলও অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এর পতন এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পরিচালকদের দীর্ঘদিনের বাজার অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁদের মধ্যে বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ছিলেন। তহবিলটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি আর্থিক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কাজও করেছিলেন।

অর্থাৎ তাঁদের কৌশল ভুল হতে পারে, কিন্তু সেটি পুরোপুরি অভিজ্ঞতাহীন বা ভিত্তিহীন ছিল না।

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ক্ষেত্রে তাই প্রশ্নটি আরও কঠিন।

মাত্র কয়েক বছর আগে যিনি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে লিখছিলেন, তিনি এত দ্রুত কীভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শেয়ার কি অতিরিক্ত মূল্যায়িত?

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শেয়ারবাজারের আরও একটি বড় বাস্তবতা সামনে এনেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার কারণে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেক কোম্পানির মূল্যায়ন দ্রুত বেড়েছে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো, চিপ, তথ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য সহায়ক খাতের কোম্পানিগুলোও বিপুলভাবে লাভবান হবে।

এই প্রত্যাশা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন বাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী একই ধারণায় বিশ্বাস করে একই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন।

একটি সাম্প্রতিক জরিপে ৮০ শতাংশের বেশি তহবিল ব্যবস্থাপক বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি ভিড় করা বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

অর্থাৎ একই জায়গায় বিপুল অর্থ জমা হচ্ছে।

যতক্ষণ বাজার বাড়ছে, এটি লাভজনক। কিন্তু হঠাৎ প্রত্যাশা বদলে গেলে একই বিনিয়োগকারীরা একসঙ্গে বিক্রি করতে চাইতে পারেন।

তখন পতন আরও দ্রুত হতে পারে।

Fortunes Changed for Situational Awareness CEO Leopold Aschenbrenner, an AI  Stock Picker - WSJ

বড় বাজার ধসের আগে কি এমন ঘটনাই দেখা যায়?

ইতিহাসে বড় বাজার সংকটের আগে কিছু উচ্চাভিলাষী ও অত্যন্ত সফল বিনিয়োগ তহবিলের পতন দেখা গেছে।

১৯৯৮ সালে লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পতন ছিল একটি বড় উদাহরণ। ২০০৭-০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের আগে আমেরিকার কয়েকটি বড় তহবিলও গুরুতর সমস্যায় পড়েছিল।

তবে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতনকে সরাসরি নতুন বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পূর্বাভাস বলা যাবে না।

একটি তহবিলের ব্যর্থতা পুরো বাজারের পতন নিশ্চিত করে না।

তবু ঘটনাটি সতর্কবার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি এবং একই ধরনের প্রযুক্তি শেয়ারে বিপুল অর্থ জমা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় শিক্ষা

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ভালো ধারণা এবং ভালো বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এক বিষয় নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিশাল।

কিন্তু কোনো প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি কোম্পানির শেয়ার সবসময় বাড়বে।

একইভাবে, কোনো তরুণ পরিচালকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা মানেই তিনি বিপুল অর্থ নিরাপদে পরিচালনা করতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণের পরিমাণ, সম্পদের বৈচিত্র্য এবং সম্ভাব্য ক্ষতি সামলানোর সক্ষমতা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আসল প্রশ্ন আশেনব্রেনারকে নিয়ে নয়

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি সম্ভবত আশেনব্রেনারকে নিয়ে নয়।

প্রশ্নটি হলো—তাঁকে এত বড় পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল কেন?

তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তাঁর সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হয়েছে। বাজার তাঁর বিপক্ষে গেছে।

কিন্তু বিনিয়োগকারীরা যদি একজন তরুণ ও তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ পরিচালকের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দেন, তাহলে তাঁদেরও সেই সিদ্ধান্তের দায় নিতে হবে।

একজন বিনিয়োগকারী ভুল করতে পারেন। কিন্তু শত শত অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী একই ভুল করলে সেটি আর শুধু ব্যক্তিগত ভুল থাকে না। তখন সেটি বাজারের আচরণ সম্পর্কে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ঘটনা তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বিনিয়োগের উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ যত উজ্জ্বলই হোক, বাজারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কখনো নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হতে পারে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, জুলাইয়ের এই ধস সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তব ঝুঁকির পার্থক্যটিই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পারি মনির ধর্ষণচেষ্টা মামলা: ৩০ নভেম্বর ফের জেরার মুখোমুখি অভিনেত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শেয়ারে ধস, তরুণ বিনিয়োগ পরিচালকের ৬৭ শতাংশ পতনে বড় প্রশ্ন

০৬:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে ঘিরে বিনিয়োগের উন্মাদনায় এবার বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। মাত্র বিশের কোঠায় থাকা বিনিয়োগ পরিচালক লিওপোল্ড আশেনব্রেনারের পরিচালিত ‘সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস’ নামের একটি বিনিয়োগ তহবিল জুলাই মাসে প্রায় ৬৭ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধরনের বিনিয়োগই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

ঘটনাটি শুধু একটি বিনিয়োগ তহবিলের বড় ক্ষতির গল্প নয়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও শেয়ারবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত প্রত্যাশা, ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারীদের বিচারবোধ নিয়েও বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মাত্র বিশের কোঠায় থাকা এবং দীর্ঘ পেশাগত বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা না থাকা একজন তরুণের হাতে এত বিপুল অর্থ তুলে দেওয়া হলো কেন?

একটি প্রবন্ধ থেকে বিপুল অর্থের দায়িত্ব

লিওপোল্ড আশেনব্রেনার ২০২৪ সালে ‘সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস’ নামে প্রায় ১৬৫ পৃষ্ঠার একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি যুক্তি দেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সমাজ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির সম্ভাবনাও তিনি তুলে ধরেন।

লেখাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী বিশ্লেষণ অনেক বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করে।

এরপর তিনি একই নামে একটি বিনিয়োগ তহবিল চালু করেন।

তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২২ বছর। পেশাদারভাবে শেয়ার বা বিনিয়োগ তহবিল পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা তাঁর হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিতে শুরু করেন।

কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর তহবিল কয়েক শ কোটি ডলারের সম্পদ পরিচালনা করতে থাকে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর ব্যবস্থাপনায় থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে জানা যায়।

একজন তরুণ বিনিয়োগ পরিচালকের জন্য এটি ছিল অসাধারণ দ্রুত উত্থান।

কিন্তু এই দ্রুত সাফল্যের মধ্যেই ছিল বড় ঝুঁকি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের বিনিয়োগের বড় অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে।

তহবিলটির উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ছিল ব্লুম এনার্জি, কোরউইভ ও স্যান্ডিস্কের মতো প্রতিষ্ঠানে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়তে থাকায় এসব কোম্পানির শেয়ারের দামও দ্রুত বাড়ছিল। ফলে তহবিলটির বিনিয়োগ থেকে বড় ধরনের মুনাফা আসতে থাকে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের মুনাফা ৪৩৯ শতাংশে পৌঁছেছিল বলে জানানো হয়।

এই সংখ্যা বিনিয়োগ দুনিয়ায় প্রায় অবিশ্বাস্য। এত অল্প সময়ে এত বেশি মুনাফা সাধারণ বিনিয়োগ কৌশলে অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।

এর অর্থ হতে পারে, তহবিলটি অত্যন্ত বড় ঝুঁকি নিয়েছিল, অথবা বিপুল পরিমাণ ধার করা অর্থ ব্যবহার করেছিল।

বাজার যতক্ষণ অনুকূলে ছিল, সেই কৌশল অসাধারণ ফল দিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতেই পুরো চিত্র পাল্টে যায়।

Exclusive | The Investing Heavyweights That Backed Situational Awareness  Before It Blew Up - WSJ

জুলাইয়ে শুরু হয় ভয়াবহ পতন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত কয়েকটি শেয়ারের দাম হঠাৎ করে দ্রুত কমতে শুরু করে। সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য অর্ধেকেরও বেশি পড়ে যায়।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ওপর।

জুলাই মাসে তহবিলটির মূল্য প্রায় ৬৭ শতাংশ কমে যায়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের বাজার পরিবর্তন একটি তহবিলের বিশাল মুনাফাকে বড় ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়।

৩০ জুলাই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তহবিলটি তার তালিকাভুক্ত শেয়ারের বড় একটি অংশ দ্রুত বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিটাডেলের কাছে হস্তান্তর করে।

বাজারে বড় ধরনের সম্পদ দ্রুত বিক্রি করা সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত তখনই নেওয়া হয়, যখন একটি তহবিলের সামনে দ্রুত ক্ষতি মেনে নিয়ে বেরিয়ে আসা অথবা আরও বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি নেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

আশেনব্রেনার তাঁর বিনিয়োগকারীদের জানান, তিনি ভবিষ্যতে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন।

কিন্তু ততক্ষণে বড় ধাক্কা লেগে গেছে।

প্রশ্ন উঠছে বিনিয়োগকারীদের নিয়েও

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতনের পর স্বাভাবিকভাবেই এর পরিচালকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কিন্তু শুধু আশেনব্রেনারকে দায়ী করলেই কি পুরো ঘটনাটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব?

একজন তরুণ বিনিয়োগ পরিচালক ভুল করতে পারেন। বাজার সম্পর্কে তাঁর হিসাব ভুল হতে পারে। তিনি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসীও হতে পারেন।

কিন্তু তাঁকে এত বিপুল অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অন্যরা।

তাহলে তাঁদের সিদ্ধান্তের মূল্যায়নও জরুরি।

একজন প্রায় ২২ বছর বয়সী ব্যক্তি, যার দীর্ঘ পেশাগত বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা ছিল না, কীভাবে এত দ্রুত হাজার হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেলেন?

তাঁর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা কি যথেষ্ট যাচাই করা হয়েছিল?

নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে তাঁরা ঝুঁকির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি?

যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতন শুধু একজন পরিচালকের ব্যর্থতা নয়। এটি বিনিয়োগকারীদের বিচারবোধেরও একটি বড় পরীক্ষা।

৪৩৯ শতাংশ মুনাফাই কি ছিল সতর্কবার্তা?

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪৩৯ শতাংশ মুনাফা অর্জনের তথ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এত দ্রুত এত বড় মুনাফা অর্জন সাধারণত বড় ধরনের ঝুঁকি ছাড়া সম্ভব নয়।

বিনিয়োগে ঋণ বা ধার করা অর্থ ব্যবহার করলে সামান্য বাজার ওঠানামাও বড় মুনাফা তৈরি করতে পারে। কিন্তু একই কারণে বাজার বিপরীত দিকে গেলে ক্ষতিও বহুগুণ বেড়ে যায়।

অর্থাৎ বাজারের উত্থানের সময় উচ্চ ঝুঁকির কৌশল অসাধারণ সাফল্য মনে হতে পারে। পতনের সময় সেটিই বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ক্ষেত্রে জুলাইয়ের ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের শিক্ষা

এই ঘটনার সঙ্গে ১৯৯৮ সালে ধসে পড়া লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের তুলনা করা হচ্ছে।

সেই তহবিলও অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এর পতন এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পরিচালকদের দীর্ঘদিনের বাজার অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁদের মধ্যে বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ছিলেন। তহবিলটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি আর্থিক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কাজও করেছিলেন।

অর্থাৎ তাঁদের কৌশল ভুল হতে পারে, কিন্তু সেটি পুরোপুরি অভিজ্ঞতাহীন বা ভিত্তিহীন ছিল না।

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ক্ষেত্রে তাই প্রশ্নটি আরও কঠিন।

মাত্র কয়েক বছর আগে যিনি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে লিখছিলেন, তিনি এত দ্রুত কীভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শেয়ার কি অতিরিক্ত মূল্যায়িত?

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শেয়ারবাজারের আরও একটি বড় বাস্তবতা সামনে এনেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার কারণে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেক কোম্পানির মূল্যায়ন দ্রুত বেড়েছে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো, চিপ, তথ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য সহায়ক খাতের কোম্পানিগুলোও বিপুলভাবে লাভবান হবে।

এই প্রত্যাশা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন বাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী একই ধারণায় বিশ্বাস করে একই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন।

একটি সাম্প্রতিক জরিপে ৮০ শতাংশের বেশি তহবিল ব্যবস্থাপক বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি ভিড় করা বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

অর্থাৎ একই জায়গায় বিপুল অর্থ জমা হচ্ছে।

যতক্ষণ বাজার বাড়ছে, এটি লাভজনক। কিন্তু হঠাৎ প্রত্যাশা বদলে গেলে একই বিনিয়োগকারীরা একসঙ্গে বিক্রি করতে চাইতে পারেন।

তখন পতন আরও দ্রুত হতে পারে।

Fortunes Changed for Situational Awareness CEO Leopold Aschenbrenner, an AI  Stock Picker - WSJ

বড় বাজার ধসের আগে কি এমন ঘটনাই দেখা যায়?

ইতিহাসে বড় বাজার সংকটের আগে কিছু উচ্চাভিলাষী ও অত্যন্ত সফল বিনিয়োগ তহবিলের পতন দেখা গেছে।

১৯৯৮ সালে লং-টার্ম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পতন ছিল একটি বড় উদাহরণ। ২০০৭-০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের আগে আমেরিকার কয়েকটি বড় তহবিলও গুরুতর সমস্যায় পড়েছিল।

তবে সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতনকে সরাসরি নতুন বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পূর্বাভাস বলা যাবে না।

একটি তহবিলের ব্যর্থতা পুরো বাজারের পতন নিশ্চিত করে না।

তবু ঘটনাটি সতর্কবার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি এবং একই ধরনের প্রযুক্তি শেয়ারে বিপুল অর্থ জমা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় শিক্ষা

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ভালো ধারণা এবং ভালো বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এক বিষয় নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিশাল।

কিন্তু কোনো প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি কোম্পানির শেয়ার সবসময় বাড়বে।

একইভাবে, কোনো তরুণ পরিচালকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা মানেই তিনি বিপুল অর্থ নিরাপদে পরিচালনা করতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণের পরিমাণ, সম্পদের বৈচিত্র্য এবং সম্ভাব্য ক্ষতি সামলানোর সক্ষমতা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আসল প্রশ্ন আশেনব্রেনারকে নিয়ে নয়

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের পতনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি সম্ভবত আশেনব্রেনারকে নিয়ে নয়।

প্রশ্নটি হলো—তাঁকে এত বড় পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল কেন?

তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তাঁর সিদ্ধান্ত ব্যর্থ হয়েছে। বাজার তাঁর বিপক্ষে গেছে।

কিন্তু বিনিয়োগকারীরা যদি একজন তরুণ ও তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ পরিচালকের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দেন, তাহলে তাঁদেরও সেই সিদ্ধান্তের দায় নিতে হবে।

একজন বিনিয়োগকারী ভুল করতে পারেন। কিন্তু শত শত অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী একই ভুল করলে সেটি আর শুধু ব্যক্তিগত ভুল থাকে না। তখন সেটি বাজারের আচরণ সম্পর্কে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের ঘটনা তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বিনিয়োগের উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ যত উজ্জ্বলই হোক, বাজারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কখনো নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হতে পারে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, জুলাইয়ের এই ধস সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তব ঝুঁকির পার্থক্যটিই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।