০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে বড় পরিবর্তন, একসঙ্গে ১৫ দিনের স্লট রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত, ২০ আগস্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি পৃথিবীর বাইরে জীবনের খোঁজে নতুন আশার আলো, বায়ুমণ্ডলসহ সম্ভাবনাময় গ্রহের সন্ধান ইউক্রেনের যুদ্ধের মানবিক চিত্র বদলে দিচ্ছে মার্কিন ধর্মপ্রচারকদের মনোভাব পারি মনির ধর্ষণচেষ্টা মামলা: ৩০ নভেম্বর ফের জেরার মুখোমুখি অভিনেত্রী কিছুই ঘটবে না—এই বাজি কি ফেডের জন্য বিপজ্জনক? ৪৩ বছর বয়সেও ‘চিরকিশোর’ রাজনীতিক! জ্যাক পোলানস্কিকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক হরমুজ ও লোহিত সাগরের ঝুঁকি বাড়তেই বিশ্বজুড়ে তেল পাইপলাইনে বিনিয়োগের হিড়িক চাঁদের মাটিতে রকেট, পৃথিবীতে ধাক্কা—মাস্কের মহাকাশ সাম্রাজ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন শঙ্কা জাপানকে ঘিরে চীনের আগ্রাসী চাপ, আসল লক্ষ্য কি যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় আধিপত্য?

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পে টিএসএমসির কৌশল, যেভাবে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে বিশ্বজয়

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্প বিশ্ববাজারে যে দ্রুত উত্থান ঘটিয়েছে, তার পেছনে শুধু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং কিংবা কোরিয়ান সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী প্রভাব কাজ করছে না। এর বড় শক্তি হয়ে উঠেছে একটি বিশেষ উৎপাদনব্যবস্থা—চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ও গবেষণার ওপর নির্ভরশীল শ্রমবিভাজন। এই কাঠামো অনেকটা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির অনুসরণ করা মডেলের সঙ্গে তুলনীয়।

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় সৌন্দর্যপণ্য রপ্তানিকারক দেশ। নতুন নতুন প্রসাধনী পণ্য খুব দ্রুত বাজারে আনা, ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো এবং ছোট ব্র্যান্ডগুলোকেও উৎপাদনের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির এই শিল্পব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্র্যান্ড নয়, উৎপাদনের পেছনের শক্তি

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পে কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামে ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির পরিবর্তে অন্য ব্র্যান্ডের জন্য গবেষণা, পণ্যের উন্নয়ন ও উৎপাদনের কাজ করে থাকে।

কোলমারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার উদাহরণ। তারা নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরির পরিবর্তে বিভিন্ন প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের জন্য গবেষণা ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে মনোযোগ দেয়। ফলে একটি ব্র্যান্ডকে নিজস্ব গবেষণাগার, উৎপাদনকেন্দ্র ও বিশাল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয় না।

একটি ব্র্যান্ড নতুন পণ্যের ধারণা তৈরি করার পর বিশেষায়িত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেই ধারণাকে বাস্তব পণ্যে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় গবেষণা, উপাদান নির্বাচন, ফর্মুলা তৈরি এবং উৎপাদনের কাজ করতে পারে।

এর ফলে বাজারে নতুন পণ্য পৌঁছানোর সময় অনেক কমে যায়।

K-beauty's rise mirrors TSMC contract manufacturing playbook - Nikkei Asia

দ্রুততার সঙ্গে নতুন পণ্য

প্রসাধনী বাজারে ভোক্তার পছন্দ দ্রুত বদলে যায়। কোনো নতুন উপাদান, ত্বকের যত্নের পদ্ধতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কোনো পণ্য অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল চাহিদা তৈরি করতে পারে।

এই বাজারে তাই শুধু ভালো পণ্য তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। সেই পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা এই জায়গাতেই বড় সুবিধা তৈরি করেছে। একটি নতুন ধারণা তৈরি হওয়ার পর তা দ্রুত পরীক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে বাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে।

ফলে কোনো নতুন প্রবণতা জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চাহিদা ধরতে পারছে।

ছোট ব্র্যান্ডের জন্য বড় সুযোগ

এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছোট ও নতুন ব্র্যান্ডের জন্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়া।

নিজস্ব কারখানা ও গবেষণাগার তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ না করেও একটি নতুন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত উৎপাদনকারীর সঙ্গে কাজ করে নিজস্ব পণ্য বাজারে আনতে পারে।

এর ফলে প্রসাধনী বাজারে নতুন ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়ে। একই সঙ্গে নতুন ধারণা ও পণ্যের বৈচিত্র্যও বাড়তে থাকে।

কোনো পণ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সুযোগ থাকায় ব্র্যান্ডগুলো বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে আরও সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

টিএসএমসির সঙ্গে মিল কোথায়

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি মূলত অন্য প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুযায়ী চিপ উৎপাদন করে। এতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের বিশাল ও ব্যয়বহুল উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয় না।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পেও একই ধরনের ধারণা দেখা যাচ্ছে।

এখানে ব্র্যান্ডগুলো বাজার, বিপণন ও ভোক্তার চাহিদার দিকে মনোযোগ দেয়। অন্যদিকে বিশেষায়িত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গবেষণা, পণ্যের উন্নয়ন ও উৎপাদনের জটিল কাজ সামলায়।

অর্থাৎ পুরো শিল্পে কাজ ভাগ হয়ে গেছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব দক্ষতার জায়গায় মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে সময় কমছে, উৎপাদনক্ষমতা বাড়ছে এবং নতুন পণ্য তৈরির গতি দ্রুত হচ্ছে।

K-beauty's rise mirrors TSMC contract manufacturing playbook - Nikkei Asia

কোরিয়ান সৌন্দর্যপণ্যের বৈশ্বিক সাফল্য

দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন, সংস্কৃতি ও জনপ্রিয় তারকাদের আন্তর্জাতিক প্রভাব দেশটির সৌন্দর্যপণ্যের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু শুধু জনপ্রিয়তা দিয়ে দীর্ঘদিন বিশ্ববাজার ধরে রাখা সম্ভব নয়।

চাহিদা তৈরি হওয়ার পর সেই চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন দক্ষ উৎপাদনব্যবস্থা।

দক্ষিণ কোরিয়া সেই জায়গায় বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। একটি নতুন পণ্য জনপ্রিয় হওয়ার পর দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন ধরনের পণ্যের দিকে দ্রুত ঝুঁকে পড়ার সক্ষমতা দেশটির প্রসাধনী শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে।

বৈশ্বিক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা

কোরিয়ান প্রসাধনীর সাফল্য এখন বিশ্বের অন্য দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে।

বিশ্বের সৌন্দর্যপণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে গবেষণা, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মধ্যে সমন্বয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল দেখাচ্ছে, একটি শিল্পে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সব কাজ নিজে করার প্রয়োজন নেই। বরং দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ ভাগ করে দিলে পুরো শিল্প আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

শুধু প্রসাধনী নয়, বড় শিল্পশিক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পের এই সাফল্য শুধু সৌন্দর্যপণ্যের গল্প নয়। এটি আধুনিক শিল্পব্যবস্থায় বিশেষায়িত উৎপাদন ও শ্রমবিভাজনের গুরুত্বও তুলে ধরছে।

একদিকে ব্র্যান্ডগুলো ভোক্তার চাহিদা, বিপণন ও পরিচিতি তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উৎপাদনের দায়িত্ব নিচ্ছে।

এই সমন্বয়ের ফলে নতুন পণ্য দ্রুত তৈরি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন যেভাবে প্রযুক্তি খাতের কাঠামো বদলে দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পও দেখাচ্ছে যে একই ধরনের উৎপাদন কৌশল ভোক্তাপণ্যের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় শুধু শক্তিশালী ব্র্যান্ড নয়, তার পেছনে দ্রুত, নমনীয় এবং দক্ষ উৎপাদনব্যবস্থাও প্রয়োজন।

যে শিল্প ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদা দ্রুত বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে পারে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনাও তত বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে বড় পরিবর্তন, একসঙ্গে ১৫ দিনের স্লট

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পে টিএসএমসির কৌশল, যেভাবে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে বিশ্বজয়

০৭:২৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্প বিশ্ববাজারে যে দ্রুত উত্থান ঘটিয়েছে, তার পেছনে শুধু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং কিংবা কোরিয়ান সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী প্রভাব কাজ করছে না। এর বড় শক্তি হয়ে উঠেছে একটি বিশেষ উৎপাদনব্যবস্থা—চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ও গবেষণার ওপর নির্ভরশীল শ্রমবিভাজন। এই কাঠামো অনেকটা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির অনুসরণ করা মডেলের সঙ্গে তুলনীয়।

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় সৌন্দর্যপণ্য রপ্তানিকারক দেশ। নতুন নতুন প্রসাধনী পণ্য খুব দ্রুত বাজারে আনা, ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো এবং ছোট ব্র্যান্ডগুলোকেও উৎপাদনের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির এই শিল্পব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্র্যান্ড নয়, উৎপাদনের পেছনের শক্তি

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পে কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামে ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির পরিবর্তে অন্য ব্র্যান্ডের জন্য গবেষণা, পণ্যের উন্নয়ন ও উৎপাদনের কাজ করে থাকে।

কোলমারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার উদাহরণ। তারা নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরির পরিবর্তে বিভিন্ন প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের জন্য গবেষণা ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে মনোযোগ দেয়। ফলে একটি ব্র্যান্ডকে নিজস্ব গবেষণাগার, উৎপাদনকেন্দ্র ও বিশাল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয় না।

একটি ব্র্যান্ড নতুন পণ্যের ধারণা তৈরি করার পর বিশেষায়িত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেই ধারণাকে বাস্তব পণ্যে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় গবেষণা, উপাদান নির্বাচন, ফর্মুলা তৈরি এবং উৎপাদনের কাজ করতে পারে।

এর ফলে বাজারে নতুন পণ্য পৌঁছানোর সময় অনেক কমে যায়।

K-beauty's rise mirrors TSMC contract manufacturing playbook - Nikkei Asia

দ্রুততার সঙ্গে নতুন পণ্য

প্রসাধনী বাজারে ভোক্তার পছন্দ দ্রুত বদলে যায়। কোনো নতুন উপাদান, ত্বকের যত্নের পদ্ধতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কোনো পণ্য অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল চাহিদা তৈরি করতে পারে।

এই বাজারে তাই শুধু ভালো পণ্য তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। সেই পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা এই জায়গাতেই বড় সুবিধা তৈরি করেছে। একটি নতুন ধারণা তৈরি হওয়ার পর তা দ্রুত পরীক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে বাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে।

ফলে কোনো নতুন প্রবণতা জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চাহিদা ধরতে পারছে।

ছোট ব্র্যান্ডের জন্য বড় সুযোগ

এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছোট ও নতুন ব্র্যান্ডের জন্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়া।

নিজস্ব কারখানা ও গবেষণাগার তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ না করেও একটি নতুন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত উৎপাদনকারীর সঙ্গে কাজ করে নিজস্ব পণ্য বাজারে আনতে পারে।

এর ফলে প্রসাধনী বাজারে নতুন ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়ে। একই সঙ্গে নতুন ধারণা ও পণ্যের বৈচিত্র্যও বাড়তে থাকে।

কোনো পণ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সুযোগ থাকায় ব্র্যান্ডগুলো বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে আরও সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

টিএসএমসির সঙ্গে মিল কোথায়

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি মূলত অন্য প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুযায়ী চিপ উৎপাদন করে। এতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের বিশাল ও ব্যয়বহুল উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয় না।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পেও একই ধরনের ধারণা দেখা যাচ্ছে।

এখানে ব্র্যান্ডগুলো বাজার, বিপণন ও ভোক্তার চাহিদার দিকে মনোযোগ দেয়। অন্যদিকে বিশেষায়িত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গবেষণা, পণ্যের উন্নয়ন ও উৎপাদনের জটিল কাজ সামলায়।

অর্থাৎ পুরো শিল্পে কাজ ভাগ হয়ে গেছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব দক্ষতার জায়গায় মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে সময় কমছে, উৎপাদনক্ষমতা বাড়ছে এবং নতুন পণ্য তৈরির গতি দ্রুত হচ্ছে।

K-beauty's rise mirrors TSMC contract manufacturing playbook - Nikkei Asia

কোরিয়ান সৌন্দর্যপণ্যের বৈশ্বিক সাফল্য

দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন, সংস্কৃতি ও জনপ্রিয় তারকাদের আন্তর্জাতিক প্রভাব দেশটির সৌন্দর্যপণ্যের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু শুধু জনপ্রিয়তা দিয়ে দীর্ঘদিন বিশ্ববাজার ধরে রাখা সম্ভব নয়।

চাহিদা তৈরি হওয়ার পর সেই চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন দক্ষ উৎপাদনব্যবস্থা।

দক্ষিণ কোরিয়া সেই জায়গায় বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। একটি নতুন পণ্য জনপ্রিয় হওয়ার পর দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন ধরনের পণ্যের দিকে দ্রুত ঝুঁকে পড়ার সক্ষমতা দেশটির প্রসাধনী শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে।

বৈশ্বিক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা

কোরিয়ান প্রসাধনীর সাফল্য এখন বিশ্বের অন্য দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে।

বিশ্বের সৌন্দর্যপণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে গবেষণা, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মধ্যে সমন্বয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল দেখাচ্ছে, একটি শিল্পে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সব কাজ নিজে করার প্রয়োজন নেই। বরং দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ ভাগ করে দিলে পুরো শিল্প আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

শুধু প্রসাধনী নয়, বড় শিল্পশিক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পের এই সাফল্য শুধু সৌন্দর্যপণ্যের গল্প নয়। এটি আধুনিক শিল্পব্যবস্থায় বিশেষায়িত উৎপাদন ও শ্রমবিভাজনের গুরুত্বও তুলে ধরছে।

একদিকে ব্র্যান্ডগুলো ভোক্তার চাহিদা, বিপণন ও পরিচিতি তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উৎপাদনের দায়িত্ব নিচ্ছে।

এই সমন্বয়ের ফলে নতুন পণ্য দ্রুত তৈরি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন যেভাবে প্রযুক্তি খাতের কাঠামো বদলে দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী শিল্পও দেখাচ্ছে যে একই ধরনের উৎপাদন কৌশল ভোক্তাপণ্যের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় শুধু শক্তিশালী ব্র্যান্ড নয়, তার পেছনে দ্রুত, নমনীয় এবং দক্ষ উৎপাদনব্যবস্থাও প্রয়োজন।

যে শিল্প ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদা দ্রুত বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে পারে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনাও তত বেশি।