ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তির আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার পাঠকদের মধ্যে হোমারের প্রাচীন মহাকাব্য ‘ওডিসি’ নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিনেমাটি স্থানীয়ভাবে মুক্তির অপেক্ষায় থাকতেই ‘ওডিসি’ নামের বইগুলোর বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বড় বই বিক্রয়কেন্দ্র কিয়োবো বুক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ‘ওডিসি’ শব্দটি শিরোনামে থাকা বইগুলোর বিক্রি মাসে মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে হোমারের মূল মহাকাব্যের বিভিন্ন কোরীয় অনুবাদও রয়েছে।
এক বছরের ব্যবধানে মার্চে এসব বইয়ের বিক্রি বেড়েছিল ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ। এপ্রিলে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশে। মে মাসে বিক্রি বাড়ে ১৯৪ শতাংশ এবং জুনে ২৯১ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাইয়ে এসে পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে—বই বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। অর্থাৎ প্রায় সাত গুণ বেশি বই বিক্রি হয়েছে।
সিনেমার আগ্রহে পুরোনো মহাকাব্যে নতুন পাঠক
কিয়োবো বুক সেন্টারের হিসাবে, চলতি বছরে ‘ওডিসি’–সম্পর্কিত বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে হোমারের মূল গ্রিক রচনার পূর্ণাঙ্গ কোরীয় অনুবাদ ‘দ্য ওডিসি’। বইটি প্রকাশ করেছে হুন্দাই জিসং।

বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ বলছে, এই আগ্রহ শুধু ধ্রুপদি সাহিত্য সম্পর্কে আগে থেকেই আগ্রহী পাঠকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পূর্ণাঙ্গ অনুবাদের পাশাপাশি সহজবোধ্য পরিচিতিমূলক বই ও পাঠ-সহায়ক গ্রন্থও সমানভাবে বিক্রি হচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নোলানের সিনেমাকে কেন্দ্র করে অনেক নতুন পাঠকও হোমারের মহাকাব্যের জগতে প্রবেশ করছেন।
হোমারের ‘ওডিসি’ প্রাচীন গ্রিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাব্য। দীর্ঘ যুদ্ধের পর নিজের রাজ্যে ফিরে যেতে নায়ক ওডিসিউসের দীর্ঘ ও বিপদসংকুল যাত্রাই এই মহাকাব্যের মূল কাহিনি। নোলানের চলচ্চিত্র সেই প্রাচীন গল্পকে আধুনিক চলচ্চিত্রের ভাষায় নতুনভাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।
মধ্যবয়সী পাঠকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি
‘ওডিসি’–সম্পর্কিত বই কেনার ক্ষেত্রে মধ্যবয়সী পাঠকদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে কিয়োবো। ক্রেতাদের মধ্যে ৪০ বছর বয়সীরা ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। এরপর ৫০ বছর বয়সীরা ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ৩০ বছর বয়সীরা ২২ দশমিক ১ শতাংশ, ২০ বছর বয়সীরা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা ১২ শতাংশ।
ফলে বোঝা যাচ্ছে, চলচ্চিত্রটি শুধু তরুণ দর্শকদের মধ্যেই নয়, বরং দীর্ঘদিনের সাহিত্যপাঠকদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

মুক্তির পর আগ্রহ আরও বাড়ার প্রত্যাশা
ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ দক্ষিণ কোরিয়ায় বুধবার মুক্তি পাওয়ার কথা। সিনেমাটি মুক্তির পর হোমারের মহাকাব্য নিয়ে পাঠকের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে কিয়োবো বুক সেন্টার।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ চলচ্চিত্রের সরকারি চিত্রনাট্য আগামী ১৯ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার কথা। ফলে সিনেমা দেখা এবং মূল সাহিত্যকর্ম পড়ার মধ্যে নতুন একটি সেতু তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একটি বহু শতাব্দী পুরোনো মহাকাব্যকে কেন্দ্র করে বই বিক্রির এমন উল্লম্ফন দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় পর্দার জনপ্রিয় সংস্কৃতি কীভাবে নতুন প্রজন্ম ও নতুন পাঠকদের পুরোনো সাহিত্যকর্মের দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে। নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তির আগেই কোরিয়ার বইবাজারে তার প্রভাবের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা চলচ্চিত্রটির সাংস্কৃতিক প্রভাবেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















