কানের দুল পরানোর পরিচিত অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও আরামদায়ক করে তুলতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জনপ্রিয় খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ক্লেয়ার্স। নতুন প্রশিক্ষণব্যবস্থা, আরও বিস্তৃত গয়নার সংগ্রহ এবং উন্নত দোকানভিত্তিক পরিবেশের মাধ্যমে কানে ছিদ্র করার পুরো প্রক্রিয়াটিকেই নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রায় ৯০০টি ক্লেয়ার্স শাখায় ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন চালু করা হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা আনিতা শাখায় ৮ আগস্ট নতুন ধরনের ‘ইনস্পিরেশন বার’ চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের সূচনা হয়েছে।
প্রশিক্ষণেই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন
কানে ছিদ্র করার প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য করতে ক্লেয়ার্স ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দল গঠন করেছে। এই দলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিয়ার্সিং এক্সেলেন্স টিম’। তারা কানে ছিদ্র করার বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন ও বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নতুন প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে শিক্ষা, ডিজিটাল পাঠ, নির্দেশিত অনুশীলন, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর পুনঃসনদ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগের প্রশিক্ষণপদ্ধতির তুলনায় নতুন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত, একীভূত এবং ব্যবহারিক বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্লেয়ার্সের খুচরা কার্যক্রমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যারি ব্রেজলার জানান, মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নিয়ে একদিনের নিবিড় প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। পরে তারা নিজ নিজ দোকানের কর্মীদের সেই প্রশিক্ষণ দেন।
‘পিয়ার্সিং গান’ নিয়ে বিতর্কের পর নতুন ব্যাখ্যা
বছরের পর বছর ধরে ক্লেয়ার্সে কানে ছিদ্র করার পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে হাতে ধরা যন্ত্র ব্যবহার করে কানে ছিদ্র করার বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পেশাদার কানে ছিদ্রকারী বিশেষজ্ঞদের সংগঠনের মতে, স্প্রিংচালিত ছিদ্র করার যন্ত্র জীবাণুমুক্ত রাখা, ত্বক ও টিস্যুর ক্ষতি এবং উপযুক্ত নকশা ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সূঁচ দিয়ে ছিদ্র করার ক্ষেত্রে টিস্যুর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট ও পরিষ্কার একটি পথ তৈরি হয়।
তবে ক্লেয়ার্সের দাবি, তারা প্রচলিত অর্থে ‘পিয়ার্সিং গান’ ব্যবহার করে না। ব্রেজলারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নিবন্ধিত হাতে চাপ প্রয়োগ করে পরিচালিত একটি চিকিৎসা-উপযোগী যন্ত্র ব্যবহার করে। তাদের দাবি, যন্ত্রটি কানে ছিদ্র করার সময় তুলনামূলকভাবে কোমল ও জীবাণুমুক্ত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি।
বাড়ছে গয়নার বৈচিত্র্য
শুধু ছিদ্র করার পদ্ধতিই নয়, কানে পরার গয়নাতেও বৈচিত্র্য আনছে ক্লেয়ার্স। নতুন সংগ্রহে একক দুলের বিভিন্ন নকশার পাশাপাশি পরীক্ষাগারে তৈরি হীরার প্রিমিয়াম গয়নাও রাখা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কানে ছিদ্র করার প্রতিটি প্যাকেজের দাম ৩০ ডলার থেকে শুরু। এর মধ্যে ছিদ্র করার সেবা, গয়না এবং পরবর্তী পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দোকানেই থাকছে নতুন অভিজ্ঞতা
ক্লেয়ার্সের কানে ছিদ্র করার স্থানগুলোর চেহারাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর অন্যতম আকর্ষণ হবে নতুন ‘ইনস্পিরেশন বার’। এখানে গ্রাহকেরা বিভিন্ন ধরনের গয়না দেখে পছন্দ করতে পারবেন।
কানে ছিদ্র করার পর সেখানে ছবি তোলার সুযোগও থাকবে। এমনকি পুরো প্রক্রিয়ার সময় মানসিক চাপ কমাতে হাতে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের আরামদায়ক সামগ্রীও রাখা হবে।
অর্থাৎ, কানে ছিদ্র করানোর বিষয়টিকে শুধু একটি দ্রুত সেবা হিসেবে না দেখে সেটিকে ব্যক্তিগত সাজসজ্জা ও অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেউলিয়াত্বের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

ক্লেয়ার্সের এই পরিবর্তনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয়বারের মতো দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল।
দ্রুতগতির ফ্যাশনভিত্তিক অনলাইন বিক্রেতা, মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার এবং চীন থেকে পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায় চাপ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল।
দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করার এক মাস পর বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যামস ওয়াটসন ১৪ কোটি ডলারে ক্লেয়ার্স অধিগ্রহণ করে। এরপর চলতি বছরের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে ৭ হাজারের বেশি নতুন বিক্রয়কেন্দ্র বা পণ্য পৌঁছানোর স্থান তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
এগুলো কেবল আলাদা ক্লেয়ার্স দোকান নয়। ওয়ালমার্ট, কোলস ও সিভিএসের মতো অন্যান্য খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমেও ক্লেয়ার্সের পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কানে ছিদ্র করার সেবা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আকর্ষণীয় গয়নার সংগ্রহ—সব মিলিয়ে ক্লেয়ার্স এখন পুরোনো পরিচিত সেবাকে নতুনভাবে সাজিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ও ব্যবসা দুটিই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















