স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময় তিন বছর পেছাতে জাতিসংঘে শেষ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালও এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে। আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান।
সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা
বাংলাদেশের আবেদন ইতোমধ্যে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির সুপারিশ পেয়েছে। এরপর জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে পাঠাতে সম্মত হয়। বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। সরকার সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে চায়।
বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জি৭৭ এবং আফ্রিকার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সমর্থন চেয়েছে। বাণিজ্যসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জি৭৭-এর সদস্যরা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সর্বসম্মত অনুমোদন না হলে সাধারণ পরিষদে ভোট হবে এবং বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
রপ্তানি হারানোর বড় আশঙ্কা
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারে ঘাটতিকে সময় বাড়ানোর প্রধান যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দেশটি উত্তরণের তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেও বাণিজ্যসুবিধা হারানো, আর্থিক দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ঘাটতিসহ উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উত্তরণের পর বাংলাদেশ বছরে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় বাড়লেও রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য চুক্তি, ব্যাংক ও কর খাতের সংস্কার এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















