১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইমরানকে নিয়ে মুখ খুললেন ওয়াসিম, চাইলেন ‘ন্যায্য আচরণ’ বিরোধ মীমাংসার বৈঠকেই ছুরিকাঘাত, সাতকানিয়ায় প্রাণ গেল ১৯ বছরের হামিমের মার্কিন ডুবো ড্রোন বিকল, জব্দের দাবি ইরানের মার্কিন হামলায় ৫ ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস, পাল্টা জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বারডেম হাসপাতালের ১৬ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ঢাকার যেসব এলাকায় বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না উত্তরার শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট চট্টগ্রামে ট্যাংকের গোলাবর্ষণ অনুশীলনে দুই সেনাসদস্য নিহত, কর্মকর্তা আহত মাধ্যমিক শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত, কিশোর গ্যাং সদস্য আটক

ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আইসল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার আওতায় দেখানো একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেছে। আইসল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভি জানিয়েছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত ওই মানচিত্র নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়।

মানচিত্রে আইসল্যান্ডসহ বিশাল অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের অংশ

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি দেখানো হয়। পুরো ভূখণ্ডকে ‘আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থোরগেরদুর গুনার্সদোত্তির দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেন। গত মাসেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসল্যান্ডে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরইউভিকে জানিয়েছে, বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্পের ওই প্রকাশনা ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পুরোনো উত্তেজনা ফের আলোচনায়

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিক বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা রয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, ইউরোপজুড়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আইসল্যান্ড গত মাসে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। গণভোটের আগে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও আলোচনার পটভূমিতে ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে থাকা কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই গণভোটের ফল নির্ধারণে বেশি ভূমিকা রেখেছে।Iceland summoned the US ambassador after President Donald Trump posted an  image on social media showing the island and other countries covered by the  American flag, local broadcaster RUV says.

গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে ডেনমার্কের কড়া বার্তা

ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় কমিশন দ্বীপটির জন্য ২০ কোটি ইউরোর বিনিয়োগ ঘোষণা করে।

নুক শহরে ডেনমার্কের সংবাদ সংস্থা রিৎসাউকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা আমেরিকান হতে চায় না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কারও যেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ না থাকে—গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ নিজেদের আমেরিকান হিসেবে দেখতে চায় না।

ট্রাম্পের নতুন মানচিত্র প্রকাশের ঘটনায় আইসল্যান্ডের প্রতিবাদ তাই শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে কূটনৈতিক অসন্তোষ নয়; বরং গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরানকে নিয়ে মুখ খুললেন ওয়াসিম, চাইলেন ‘ন্যায্য আচরণ’

ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত

০৯:০৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইসল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার আওতায় দেখানো একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেছে। আইসল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভি জানিয়েছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত ওই মানচিত্র নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়।

মানচিত্রে আইসল্যান্ডসহ বিশাল অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের অংশ

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি দেখানো হয়। পুরো ভূখণ্ডকে ‘আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থোরগেরদুর গুনার্সদোত্তির দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেন। গত মাসেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসল্যান্ডে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরইউভিকে জানিয়েছে, বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্পের ওই প্রকাশনা ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পুরোনো উত্তেজনা ফের আলোচনায়

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিক বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা রয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, ইউরোপজুড়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আইসল্যান্ড গত মাসে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। গণভোটের আগে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও আলোচনার পটভূমিতে ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে থাকা কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই গণভোটের ফল নির্ধারণে বেশি ভূমিকা রেখেছে।Iceland summoned the US ambassador after President Donald Trump posted an  image on social media showing the island and other countries covered by the  American flag, local broadcaster RUV says.

গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে ডেনমার্কের কড়া বার্তা

ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় কমিশন দ্বীপটির জন্য ২০ কোটি ইউরোর বিনিয়োগ ঘোষণা করে।

নুক শহরে ডেনমার্কের সংবাদ সংস্থা রিৎসাউকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা আমেরিকান হতে চায় না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কারও যেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ না থাকে—গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ নিজেদের আমেরিকান হিসেবে দেখতে চায় না।

ট্রাম্পের নতুন মানচিত্র প্রকাশের ঘটনায় আইসল্যান্ডের প্রতিবাদ তাই শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে কূটনৈতিক অসন্তোষ নয়; বরং গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।