পশ্চিম লন্ডনের গয়না-নকশাকার সিসি ফেইন-হিউজ তাঁর নবজাতক মেয়ে পসির জন্য তৈরি করেছেন একেবারেই ছোট্ট একটি নামখচিত আংটি। আকারে ক্ষুদ্র হলেও এই আংটির নকশায় রয়েছে পারিবারিক উত্তরাধিকার, মাতৃত্ব ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের গভীর প্রতীক।
সিসি ফেইন-হিউজ প্রতীক, লোককথা ও রূপকথানির্ভর নকশার জন্য পরিচিত। তাঁর তৈরি গয়না পরেছেন জাস্টিন বিবার, টেলর সুইফট, মার্গট রবি ও জ্যাকব এলর্ডির মতো তারকারাও। তবে নিজের মেয়ের জন্য তৈরি এই আংটিটিকেই তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে অর্থবহ কাজ বলে মনে করছেন।
মা ও মেয়ের জন্য জোড়া আংটি
ঐতিহ্যগতভাবে নামখচিত আংটি কোনো পরিবারের পরিচয় বা প্রতীক বহন করে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে দেওয়া হয়। সেই ঐতিহ্য থেকেই নিজের মেয়ের জন্য আংটি তৈরির ভাবনা আসে ফেইন-হিউজের।
পসির নামের অর্থ ছোট্ট একগুচ্ছ ফুল। তাই মেয়ের আংটির নকশার কেন্দ্রে তিনি রেখেছেন একটি ফুটতে থাকা গোলাপের কুঁড়ি। নিজের জন্য তৈরি আংটিতে রয়েছে একই গোলাপের পূর্ণ প্রস্ফুটিত রূপ।
মা ও মেয়ের দুটি আংটি যেন একই গল্পের দুই অধ্যায়। কুঁড়িটি পসির সামনে থাকা অসংখ্য সম্ভাবনার প্রতীক, আর পূর্ণ ফুলটি একজন মায়ের পরিণত হয়ে ওঠার প্রতীক। তাঁর আশা, মেয়েকে তিনি ভালোবাসা ও নিরাপত্তা দিয়ে এমনভাবে বড় করবেন, যাতে নিজের সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতা নিয়ে সে নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারে।
পসির আংটির মুখ মাত্র ৬ মিলিমিটার বাই ৮ মিলিমিটার এবং এর বৃত্তের প্রস্থ মাত্র ২ মিলিমিটার—অর্থাৎ শিশুর ছোট্ট আঙুলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম অলংকার।
ভিক্টোরীয় ফুলের গোপন ভাষা
গর্ভাবস্থাতেই ফেইন-হিউজ মেয়ের আংটির নকশা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন ভিক্টোরীয় যুগের ফুলের প্রতীকী ভাষার প্রতি। সেই সময়ে ফুলের মাধ্যমে অনেক সময় এমন অনুভূতিও প্রকাশ করা হতো, যা সরাসরি বলা সম্ভব ছিল না।
বিশেষ করে রানি ভিক্টোরিয়া ও প্রিন্স অ্যালবার্টের বিনিময় করা অলংকার তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁদের পারিবারিক জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফুল, ফল ও অন্যান্য প্রতীক অলংকারের নকশায় উঠে এসেছে।
ফেইন-হিউজের কাছে এমন গয়নার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো—প্রথম দেখায় সেগুলো শুধু সুন্দর মনে হলেও প্রতীকের অর্থ বুঝতে পারলে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত গল্পটি প্রকাশ পায়।
প্রজন্ম পেরিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন
আধুনিক সময়ে অনেক কিছুই দ্রুত বদলে যায় এবং পুরোনো জিনিসের জায়গা নেয় নতুন কিছু। কিন্তু ফেইন-হিউজ মনে করেন, এমন কোনো বস্তু তৈরি করার মধ্যে বিশেষ অর্থ রয়েছে, যা বহু প্রজন্ম টিকে থাকতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে একটি পরিবারের গল্প বহন করে যেতে পারে।
তাঁর মেয়ের ছোট্ট আংটিটিও তাই শুধু একটি অলংকার নয়। এটি মা ও মেয়ের সম্পর্ক, বেড়ে ওঠা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের প্রতি এক মায়ের আশার প্রতীক—যা একদিন পসির নিজের সন্তানের কাছেও তাঁর পরিবারের একটি স্মৃতি হয়ে উঠতে পারে।
Sarakhon Report 



















