০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকার যেসব এলাকায় বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না উত্তরার শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট চট্টগ্রামে ট্যাংকের গোলাবর্ষণ অনুশীলনে দুই সেনাসদস্য নিহত, কর্মকর্তা আহত মাধ্যমিক শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত, কিশোর গ্যাং সদস্য আটক আবারও কমল স্বর্ণের দাম, তিন দিনে ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়, হাইকোর্টে রিট খারিজ ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনকে হংকংয়ের মতো সমাধানের প্রস্তাব মৃত্যুর ৫০ বছর পরও তরুণ চীনাদের জীবনের পরামর্শে মাও সেতুং বিটিএস আসছে লাস ভেগাসে, ৯৪ ডলারেই মিলছে উৎসবের টিকিট

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনকে হংকংয়ের মতো সমাধানের প্রস্তাব

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে হংকং হস্তান্তরের আদলে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার প্রস্তাব সামনে এসেছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ১৯৮৪ সালের চীন-ব্রিটেন যৌথ ঘোষণাকে একটি সম্ভাব্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনার কথা বলেছেন।

মিলের প্রস্তাবের মূল কথা হলো, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষকে সামরিক বা জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা। হংকংয়ের ক্ষেত্রে যেমন চীন ও ব্রিটেন দীর্ঘ আলোচনার পর সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছিল, তেমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ফকল্যান্ডের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা যেতে পারে—এমন ধারণাই প্রস্তাবটির কেন্দ্রে রয়েছে।

আর্জেন্টিনার দাবি কী

আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। দেশটিতে দ্বীপগুলো ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত।

Argentina calls for Hong Kong-style handover of Falklands

আর্জেন্টিনার যুক্তি হলো, ১৮১৬ সালে স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর স্পেনের অধীন থাকা ভূখণ্ডের উত্তরাধিকারসূত্রে দ্বীপগুলোর ওপরও তাদের অধিকার তৈরি হয়। আর্জেন্টিনা আরও দাবি করে, ১৮২০ থেকে ১৮৩৩ সালের মধ্যে তারা দ্বীপপুঞ্জে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল, সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিল এবং সেখানে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেছিল।

তবে এসব ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে আর্জেন্টিনার মতপার্থক্য রয়েছে।

ব্রিটেনের অবস্থান

ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছে। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্বীপগুলো ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।

১৯৮২ সালে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়। যুদ্ধে ব্রিটেন বিজয়ী হওয়ার পর দ্বীপগুলোতে তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকে।

ব্রিটেনের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো দ্বীপবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার। দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকতে চান—এমন অবস্থান ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরে আসছে।

ভৌগোলিক দূরত্বও আলোচনায়

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে। বিপরীতে ব্রিটেন থেকে দ্বীপগুলোর দূরত্ব প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।

এই ভৌগোলিক বাস্তবতাকে আর্জেন্টিনা নিজেদের দাবির পক্ষে একটি যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, দক্ষিণ আটলান্টিকে আর্জেন্টিনার উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত দ্বীপগুলোর সঙ্গে দেশটির ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপবাসীদের রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নিজেদের অবস্থানের ভিত্তি হিসেবে দেখায়।

UK's David Cameron to visit Falklands, says islands' sovereignty 'not up  for discussion' | South China Morning Post

হংকংয়ের উদাহরণ কেন

১৯৮৪ সালে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে হংকংয়ের সার্বভৌমত্ব ভবিষ্যতে চীনের কাছে হস্তান্তরের পথ নির্ধারিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৭ সালে হংকংয়ের সার্বভৌমত্ব চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মিলের প্রস্তাবে সেই অভিজ্ঞতাকে সরাসরি একইভাবে প্রয়োগ করার কথা বলা হচ্ছে না; বরং দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে একটি সময়সীমা, রাজনৈতিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নির্ধারণের ধারণাটিকে ফকল্যান্ড বিরোধে প্রয়োগ করার কথা বলা হচ্ছে।

তবে ফকল্যান্ড ও হংকংয়ের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি এক নয়। ফলে হংকংয়ের মডেল হুবহু প্রয়োগ করা সম্ভব কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

সামনে কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার অবস্থান বহু বছর ধরেই পরস্পরবিরোধী। আর্জেন্টিনা সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করছে, আর ব্রিটেন দ্বীপবাসীদের মতামত ও বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।

তাই মিলের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু দুই দেশের মধ্যে সমঝোতাই নয়, ফকল্যান্ডের বাসিন্দাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধ সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কোনো পথ তৈরি করতে পারে কি না, এখন সেটিই মূল প্রশ্ন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার যেসব এলাকায় বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনকে হংকংয়ের মতো সমাধানের প্রস্তাব

০৩:০০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে হংকং হস্তান্তরের আদলে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার প্রস্তাব সামনে এসেছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ১৯৮৪ সালের চীন-ব্রিটেন যৌথ ঘোষণাকে একটি সম্ভাব্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনার কথা বলেছেন।

মিলের প্রস্তাবের মূল কথা হলো, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষকে সামরিক বা জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা। হংকংয়ের ক্ষেত্রে যেমন চীন ও ব্রিটেন দীর্ঘ আলোচনার পর সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছিল, তেমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ফকল্যান্ডের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা যেতে পারে—এমন ধারণাই প্রস্তাবটির কেন্দ্রে রয়েছে।

আর্জেন্টিনার দাবি কী

আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। দেশটিতে দ্বীপগুলো ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত।

Argentina calls for Hong Kong-style handover of Falklands

আর্জেন্টিনার যুক্তি হলো, ১৮১৬ সালে স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর স্পেনের অধীন থাকা ভূখণ্ডের উত্তরাধিকারসূত্রে দ্বীপগুলোর ওপরও তাদের অধিকার তৈরি হয়। আর্জেন্টিনা আরও দাবি করে, ১৮২০ থেকে ১৮৩৩ সালের মধ্যে তারা দ্বীপপুঞ্জে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল, সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিল এবং সেখানে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেছিল।

তবে এসব ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে আর্জেন্টিনার মতপার্থক্য রয়েছে।

ব্রিটেনের অবস্থান

ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছে। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্বীপগুলো ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।

১৯৮২ সালে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়। যুদ্ধে ব্রিটেন বিজয়ী হওয়ার পর দ্বীপগুলোতে তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকে।

ব্রিটেনের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো দ্বীপবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার। দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকতে চান—এমন অবস্থান ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরে আসছে।

ভৌগোলিক দূরত্বও আলোচনায়

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে। বিপরীতে ব্রিটেন থেকে দ্বীপগুলোর দূরত্ব প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।

এই ভৌগোলিক বাস্তবতাকে আর্জেন্টিনা নিজেদের দাবির পক্ষে একটি যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, দক্ষিণ আটলান্টিকে আর্জেন্টিনার উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত দ্বীপগুলোর সঙ্গে দেশটির ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপবাসীদের রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নিজেদের অবস্থানের ভিত্তি হিসেবে দেখায়।

UK's David Cameron to visit Falklands, says islands' sovereignty 'not up  for discussion' | South China Morning Post

হংকংয়ের উদাহরণ কেন

১৯৮৪ সালে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে হংকংয়ের সার্বভৌমত্ব ভবিষ্যতে চীনের কাছে হস্তান্তরের পথ নির্ধারিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৭ সালে হংকংয়ের সার্বভৌমত্ব চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মিলের প্রস্তাবে সেই অভিজ্ঞতাকে সরাসরি একইভাবে প্রয়োগ করার কথা বলা হচ্ছে না; বরং দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে একটি সময়সীমা, রাজনৈতিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নির্ধারণের ধারণাটিকে ফকল্যান্ড বিরোধে প্রয়োগ করার কথা বলা হচ্ছে।

তবে ফকল্যান্ড ও হংকংয়ের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি এক নয়। ফলে হংকংয়ের মডেল হুবহু প্রয়োগ করা সম্ভব কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

সামনে কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার অবস্থান বহু বছর ধরেই পরস্পরবিরোধী। আর্জেন্টিনা সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করছে, আর ব্রিটেন দ্বীপবাসীদের মতামত ও বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।

তাই মিলের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু দুই দেশের মধ্যে সমঝোতাই নয়, ফকল্যান্ডের বাসিন্দাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধ সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কোনো পথ তৈরি করতে পারে কি না, এখন সেটিই মূল প্রশ্ন।