০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে এলো ভারত ও চীনে কম খরচে হাজার হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ, নতুন চ্যালেঞ্জ মার্কিন অস্ত্রশিল্পে ছোট নৌকার বিক্ষোভ নয়, আসল সংকট ব্রিটেনের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থা ইউরোপে আবাসন সংকট, এয়ারবিএনবির ওপর আরও কড়াকড়ির প্রস্তাব অর্থের বিনিময়ে প্রচার, অথচ বিজ্ঞাপনের পরিচয় গোপন রাখতে বলছে ব্র্যান্ড ৯/১১-এর পর যে পথে বদলে গেল বিশ্বব্যবস্থা এআইকে নিজের গোপন ভাবনা দিলে সেটাই কি একদিন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে? নাটোরে দিনে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, কমেছে আয়: বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ যাচ্ছে না, আমন্ত্রণ পাননি প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির

মৃত্যুর ৫০ বছর পরও তরুণ চীনাদের জীবনের পরামর্শে মাও সেতুং

বেতন বাড়ছে না, সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা, কিংবা কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতা—জীবনের এমন নানা সংকটে চীনের তরুণদের একাংশ এখন পরামর্শ খুঁজছেন দেশটির সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের লেখায় ও কথায়।

মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর ৫০ বছর পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর চিন্তাভাবনা নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন অনলাইন প্রভাবশালী ব্যক্তি মাওয়ের বক্তব্য ও লেখার অংশ তুলে ধরে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা মোকাবিলায় সেগুলোর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক লাখ।

নতুন প্রজন্মের কাছে পুরোনো পরামর্শ

চীনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সেতুং ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে বুধবার।

রাজনৈতিক ইতিহাসে মাওয়ের ভূমিকা নিয়ে চীনে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক দৃঢ়তা, ব্যর্থতা মোকাবিলা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তরুণদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

অনলাইন প্রভাবশালীরা মাওয়ের বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্যকে বর্তমান জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করছেন। চাকরিতে হতাশা, পারিবারিক চাপ কিংবা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো বিষয়েও তাঁরা মাওয়ের চিন্তাধারা থেকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

Young Chinese turn to Mao Zedong for life advice, 50 years after his death  | South China Morning Post

সরকারি পর্যায়ে নীরবতা

মাওয়ের মৃত্যুর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বড় কোনো সরকারি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়নি।

চীনে সাবেক রাষ্ট্রনেতাদের সাধারণত তাঁদের জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ করা হয়। ফলে মৃত্যুর বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় আয়োজন না থাকাটা দেশটির প্রচলিত রীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আয়োজন সীমিত থাকলেও অনলাইনে মাওকে ঘিরে নতুন করে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা দেশটির তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মানসিকতা ও সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনের দিকটি তুলে ধরছে।

কেন আবার মাও?

চীনের তরুণদের একটি অংশ বর্তমানে চাকরির প্রতিযোগিতা, আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা, সন্তান পালনের ব্যয় এবং সামাজিক চাপের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে অতীতের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির জীবন ও চিন্তা থেকে শক্তি বা দিকনির্দেশনা খোঁজা তাঁদের কাছে নতুন এক প্রবণতা হয়ে উঠেছে।

মাওয়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি এসব অনলাইন আলোচনা মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সংকট মোকাবিলার দৃষ্টিকোণেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে পাঁচ দশক পরও চীনের তরুণদের একটি অংশের কাছে মাও সেতুং নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।

মাওয়ের মৃত্যুর অর্ধশতাব্দী পর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম ও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ হিসেবে তাঁর কথাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে।

Long live Chairman Mao': Supporters pay respects to founder of Communist  China - RTL Today

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে এলো ভারত ও চীনে

মৃত্যুর ৫০ বছর পরও তরুণ চীনাদের জীবনের পরামর্শে মাও সেতুং

০২:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেতন বাড়ছে না, সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা, কিংবা কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতা—জীবনের এমন নানা সংকটে চীনের তরুণদের একাংশ এখন পরামর্শ খুঁজছেন দেশটির সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের লেখায় ও কথায়।

মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর ৫০ বছর পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর চিন্তাভাবনা নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন অনলাইন প্রভাবশালী ব্যক্তি মাওয়ের বক্তব্য ও লেখার অংশ তুলে ধরে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা মোকাবিলায় সেগুলোর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক লাখ।

নতুন প্রজন্মের কাছে পুরোনো পরামর্শ

চীনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সেতুং ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে বুধবার।

রাজনৈতিক ইতিহাসে মাওয়ের ভূমিকা নিয়ে চীনে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক দৃঢ়তা, ব্যর্থতা মোকাবিলা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তরুণদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

অনলাইন প্রভাবশালীরা মাওয়ের বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্যকে বর্তমান জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করছেন। চাকরিতে হতাশা, পারিবারিক চাপ কিংবা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো বিষয়েও তাঁরা মাওয়ের চিন্তাধারা থেকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

Young Chinese turn to Mao Zedong for life advice, 50 years after his death  | South China Morning Post

সরকারি পর্যায়ে নীরবতা

মাওয়ের মৃত্যুর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বড় কোনো সরকারি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়নি।

চীনে সাবেক রাষ্ট্রনেতাদের সাধারণত তাঁদের জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ করা হয়। ফলে মৃত্যুর বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় আয়োজন না থাকাটা দেশটির প্রচলিত রীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আয়োজন সীমিত থাকলেও অনলাইনে মাওকে ঘিরে নতুন করে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা দেশটির তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মানসিকতা ও সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনের দিকটি তুলে ধরছে।

কেন আবার মাও?

চীনের তরুণদের একটি অংশ বর্তমানে চাকরির প্রতিযোগিতা, আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা, সন্তান পালনের ব্যয় এবং সামাজিক চাপের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে অতীতের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির জীবন ও চিন্তা থেকে শক্তি বা দিকনির্দেশনা খোঁজা তাঁদের কাছে নতুন এক প্রবণতা হয়ে উঠেছে।

মাওয়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি এসব অনলাইন আলোচনা মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সংকট মোকাবিলার দৃষ্টিকোণেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে পাঁচ দশক পরও চীনের তরুণদের একটি অংশের কাছে মাও সেতুং নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।

মাওয়ের মৃত্যুর অর্ধশতাব্দী পর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম ও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ হিসেবে তাঁর কথাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে।

Long live Chairman Mao': Supporters pay respects to founder of Communist  China - RTL Today