০৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট অজানা সাইটে অননুমোদিত যোগাযোগ করেছে চীন মোকাবিলায় জাপান ও ফিলিপাইনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাংককে বিরল বিক্ষোভ থাই জনতার পশ্চিমবঙ্গে বাগেশ্বর বাবার মাংস মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে পলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে এলো ভারত ও চীনে কম খরচে হাজার হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ, নতুন চ্যালেঞ্জ মার্কিন অস্ত্রশিল্পে ছোট নৌকার বিক্ষোভ নয়, আসল সংকট ব্রিটেনের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থা ইউরোপে আবাসন সংকট, এয়ারবিএনবির ওপর আরও কড়াকড়ির প্রস্তাব অর্থের বিনিময়ে প্রচার, অথচ বিজ্ঞাপনের পরিচয় গোপন রাখতে বলছে ব্র্যান্ড ৯/১১-এর পর যে পথে বদলে গেল বিশ্বব্যবস্থা

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির কর দাবির বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ।

রায়ের ফলে এনবিআরের কর দাবি বহাল থাকল। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।

কর দাবির বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় এনবিআরের দাবি বহাল রয়েছে।

তিনি জানান, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঁচ অর্থবছরের কর নিয়ে বিরোধ

এনবিআর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কর পুনর্মূল্যায়ন করে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করে। এই কর বিরোধের মূল বিষয় গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ কল্যাণের পাওয়া লভ্যাংশের ওপর উৎসে কাটা কর।

২০১৭ সালে এনবিআরের এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।

এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিটগুলো খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ওই বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মামলাগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে আগের রায় প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে শুনানির জন্য মামলাগুলো নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

গ্রামীণ কল্যাণের বক্তব্য

গ্রামীণ কল্যাণের আরেক আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণফোন গ্রামীণ কল্যাণকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় ১৫ শতাংশ কর উৎসে কেটে রাখে। সেই কর পরিশোধের পরও কেন অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে—এ প্রশ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এর আগে গ্রামীণ কল্যাণের মামলা প্রত্যাহার এবং কর মওকুফের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গত ১৪ জুলাই আবদুল্লাহ আল মামুন এসব প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, মামলাটি বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চেই শুনানির অপেক্ষায় ছিল।

ইউনূসের সঙ্গে মামলার সম্পর্ক

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস একসময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানটির নামেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে বিষয়টি দেখভাল করছেন।

গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ পরিবারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরের নভেম্বরে কোম্পানি আইনের অধীনে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয়। পরে ২০০২ সালের জুলাইয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতেও নিবন্ধন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট অজানা সাইটে অননুমোদিত যোগাযোগ করেছে

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

০৫:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির কর দাবির বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ।

রায়ের ফলে এনবিআরের কর দাবি বহাল থাকল। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।

কর দাবির বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় এনবিআরের দাবি বহাল রয়েছে।

তিনি জানান, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঁচ অর্থবছরের কর নিয়ে বিরোধ

এনবিআর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কর পুনর্মূল্যায়ন করে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করে। এই কর বিরোধের মূল বিষয় গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ কল্যাণের পাওয়া লভ্যাংশের ওপর উৎসে কাটা কর।

২০১৭ সালে এনবিআরের এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।

এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিটগুলো খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ওই বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মামলাগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে আগের রায় প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে শুনানির জন্য মামলাগুলো নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

গ্রামীণ কল্যাণের বক্তব্য

গ্রামীণ কল্যাণের আরেক আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণফোন গ্রামীণ কল্যাণকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় ১৫ শতাংশ কর উৎসে কেটে রাখে। সেই কর পরিশোধের পরও কেন অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে—এ প্রশ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এর আগে গ্রামীণ কল্যাণের মামলা প্রত্যাহার এবং কর মওকুফের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গত ১৪ জুলাই আবদুল্লাহ আল মামুন এসব প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, মামলাটি বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চেই শুনানির অপেক্ষায় ছিল।

ইউনূসের সঙ্গে মামলার সম্পর্ক

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস একসময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানটির নামেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে বিষয়টি দেখভাল করছেন।

গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ পরিবারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরের নভেম্বরে কোম্পানি আইনের অধীনে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয়। পরে ২০০২ সালের জুলাইয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতেও নিবন্ধন করা হয়।