কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের প্রতি ন্যায্য আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। ইমরানকে শুধু নেতা হিসেবে নয়, বন্ধু ও পরামর্শদাতা হিসেবেও মিস করেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার।
‘তিন বছর ধরে তার কোনো ছবি দেখিনি’
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ান বোথামের সঙ্গে পরিচালিত একটি ক্রিকেটবিষয়ক অনুষ্ঠানে ইমরান খান প্রসঙ্গে কথা বলেন ওয়াসিম। ১৯৯২ সালে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
ইমরানের পক্ষে সম্প্রতি আবেদন করা সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের ধন্যবাদ জানিয়ে ওয়াসিম বলেন, ইমরানের জন্য তিনি কষ্ট অনুভব করেন।
ওয়াসিম বলেন, ‘আমি অধিনায়কের জন্য কষ্ট অনুভব করি। একজন বন্ধু হিসেবে তাকে মিস করি, একজন পরামর্শদাতা হিসেবে তাকে মিস করি, একজন নেতা হিসেবেও তাকে মিস করি। আমরা তিন বছর ধরে তার কোনো ছবি দেখিনি।’

পাকিস্তান সরকারের প্রতি ওয়াসিমের আবেদন, অন্য রাজনীতিকদের মতো ইমরানের প্রতিও যেন ন্যায্য আচরণ করা হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো জাতি ইমরানের পাশে রয়েছে এবং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় শিগগিরই তিনি মুক্তি পাবেন।
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার ঘিরে উত্তেজনা
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে একটি অনুষ্ঠানে ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলায়মানের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তারা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের হাতে তাদের বাবার সঙ্গে আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এমনকি বিরতির পর পাকিস্তান দলকে মাঠে নামতে না দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে খবর ছড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বর্জন হয়নি এবং ম্যাচ যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়।
ওই ম্যাচে পাকিস্তান ১৯৪ রানে হেরে যায়। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা।
২১ সাবেক অধিনায়কের আবেদন
এর আগে আগস্টে মাইকেল অ্যাথারটনসহ বিশ্বের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের প্রতি মানবিক ও ন্যায্য আচরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবও ছিলেন।

ইমরান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতির মামলায় তাকে ও তার স্ত্রীকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুজনই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে ইমরান
ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ইমরান খান রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। তবে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।
এরপর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা হয়। ইমরান ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২০২৩ সালে ইমরানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয় এবং শত শত মানুষ গ্রেপ্তার হন।
ইমরানের মুক্তি ও তার প্রতি ন্যায্য আচরণের দাবি এরই মধ্যে পাকিস্তানের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















