চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে ছাড়া পেয়ে মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেন ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু। রাধা-কৃষ্ণের মূর্তির পায়ে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙে পড়া তাঁর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় স্থানেই আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া ভক্তরাও তাঁর এই সংক্ষিপ্ত উপস্থিতির প্রতিটি মুহূর্ত মোবাইলে ধারণ করে রাখেন।
প্রায় দুই বছর ধরে কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মা সন্ধ্যা রানী ধর দীর্ঘদিন ছেলেকে একবার দেখার আশায় ছিলেন, কিন্তু সেই ইচ্ছা অপূর্ণ রেখেই তিনি মারা যান। পরিবারের প্রাথমিক প্যারোল আবেদন প্রথমে প্রত্যাখ্যাত হলেও পরে প্রশাসন সীমিত সময়ের অনুমতি দেয়। তাঁর ভাই রঞ্জন কুমার ধরের বরাতে জানা গেছে, মন্দিরেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিবারের অনুরোধেই কারা কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে সময়সূচি নমনীয় করে।
সনাতনী জাগরণ জোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। একটি সমাবেশে জাতীয় পতাকার ওপরে গৈরিক পতাকা তোলার অভিযোগে তাঁকে ও আরও ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ২৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে গ্রেপ্তারের পর জামিন নাকচ হলে আদালত চত্বরে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়িয়েছে, যদিও তিনি এখনও দোষী সাব্যস্ত হননি। মোট ৬টি মামলায় তিনি অভিযুক্ত, আর প্রতিটি মামলার শুনানিতেই তাঁর মুক্তির দাবিতে আদালত চত্বরে জড়ো হন সমর্থকরা।
এই ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিও সরগরম হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের বাম ও তৃণমূল সরকারগুলো বাঙালি হিন্দুদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের চেষ্টা করেছে, এবং নিজের বক্তব্যে তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর দুর্দশার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। বিজেপি বিধায়করা ঢাকার উপ-হাইকমিশনের দিকে মিছিলের ঘোষণাও দিয়েছেন, ফলে ঘটনাটি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনাতেও উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলোও এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিচারবহির্ভূত হয়রানির অভিযোগ নতুন করে সামনে আনছে।
মন্দিরের চত্বরে তিনি যে পাঁচ ঘণ্টা কাটিয়েছেন, তার প্রতিটি মুহূর্ত এখন ক্যামেরাবন্দি হয়ে সীমান্তের দুই পারেই আলোচনার কেন্দ্রে থেকে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















