১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মন্টি ডনের উত্তরসূরি হতে হবে বাগানের মানুষ, টেলিভিশনের ‘চরিত্র’ নয় চিপ প্রযুক্তি রক্ষায় গুপ্তচরবৃত্তি আইন কঠোর করল দক্ষিণ কোরিয়া আনোয়ারকে চ্যালেঞ্জ জাহিদের, মালয়েশিয়ায় জোট ভাঙার হুমকি রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকারদের হাতে এআই, নতুন প্রতিবেদনে উদ্বেগ জার্মানিতে উগ্র ডানের বিরুদ্ধে পথে দেড় লাখ মানুষ ভুয়া কর্মকর্তার ফোনে ১০ লাখ হংকং ডলার খোয়ালেন শিক্ষার্থী অন্ধকার সুড়ঙ্গে ১০ দিন, নেপালি শ্রমিকের ফিরে আসার গল্প জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোয় ফাঁক বন্ধ হোক ছয় বছর পর নিজের দেশে ফিরে বুঝলেন, আসলেই কি ‘বাড়ি’ বদলে গেছে? চীনে তৈরি হচ্ছে নতুন ‘অবসর শ্রেণি’, কাজের চেয়ে জীবন উপভোগে আগ্রহী মধ্যবিত্ত

আদানির বিদ্যুৎ কমার সময়েই তারেকের ভারত সফর বাতিল, কাকতালীয় নাকি অন্য কিছু?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কমে গিয়ে সংকট তীব্র হয়েছে। ঘটনাগুলোর সময়গত নৈকট্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হয়েছে।

আগেই চাপে ছিল দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা

আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা সংকটে ছিল। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির ঘাটতিতে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছিল না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আদানি পাওয়ার জানিয়েছিল, ভারতের রেলপথে জট, লোডিং বিধিনিষেধ ও কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে গোড্ডা কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অফ-পিক সময়ে উৎপাদন কমিয়ে সন্ধ্যার চাহিদার সময় সরবরাহ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

১১ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, আগের রাতে কেন্দ্রটি ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করলেও একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। কেন্দ্রটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বয়লারের সমস্যার কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়েছে এবং সেটি ঠান্ডা করতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা প্রয়োজন হতে পারে। পিডিবির একজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি ফিড ইউনিটে সমস্যা ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়; পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।

২০১৭ সালের চুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা

আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয় ২০১৭ সালে। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট। আগের সরকারের সময় করা এই দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এখনো বিদ্যুৎ কিনছে।

চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ, উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কী দায় রয়েছে, তা নির্ভর করবে চুক্তির নির্দিষ্ট ধারার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধ বা চুক্তি লঙ্ঘনের পরিস্থিতিতে পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকতে পারে, তবে সেটিও চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভরশীল।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর বাতিলের পরই আদানির বিদ্যুৎ কমল, উঠছে  নানা প্রশ্ন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণ...

সফর বাতিলের পরই কেন প্রশ্ন উঠছে

ঢাকা-দিল্লির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছিল। ১০ সেপ্টেম্বর জানানো হয়, তিনি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যাচ্ছেন না। বাংলাদেশের অবস্থান ছিল, আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম ভারত সফরটি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ‘অনুকূল পরিবেশ’-এর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিল ঢাকা।

এর পরদিনই গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে। সময়ের এই মিল সন্দেহ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সন্দেহকে প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি দেয় না যে সফর বাতিলের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় বড় প্রশ্ন

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আমদানিনির্ভরতার চাপে রয়েছে। গ্যাস সংকটে দেশের বহু কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। ১১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকার বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। ফলে আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হওয়া বিদ্যমান সংকটকে আরও বড় করেছে।

এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—গোড্ডা কেন্দ্রের ত্রুটির প্রকৃতি কী, মেরামত কত দ্রুত হচ্ছে, কয়লা সরবরাহের সমস্যা কেন দীর্ঘস্থায়ী হলো এবং সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিতে আদানি পাওয়ারের দায় কী। পাশাপাশি বাংলাদেশ কী ধরনের ক্ষতিপূরণ বা চুক্তিগত প্রতিকার পেতে পারে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ কোনো রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার নয়

প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাবেন কি না, সেটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। একইভাবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও চুক্তির শর্ত, আন্তর্জাতিক রীতি ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। বাংলাদেশ আদানির কাছ থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ নেয় না; এটি একটি বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় কেনা বিদ্যুৎ। তাই সরবরাহ ব্যাহত হলে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের অধিকার কী, সেই প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।

ঘটনাগুলো পরপর ঘটেছে—এটি তথ্য। কিন্তু একটি ঘটনা অন্যটির কারণে ঘটেছে—এটি এখনো প্রমাণিত নয়। তাই উত্তর খুঁজতে হবে রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, চুক্তি, নথি, উৎপাদনের তথ্য এবং আদানি পাওয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায়। যদি এটি নিছক কারিগরি ত্রুটি হয়, দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ। আর যদি রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক চাপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিষয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে পরিণত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্টি ডনের উত্তরসূরি হতে হবে বাগানের মানুষ, টেলিভিশনের ‘চরিত্র’ নয়

আদানির বিদ্যুৎ কমার সময়েই তারেকের ভারত সফর বাতিল, কাকতালীয় নাকি অন্য কিছু?

০৬:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কমে গিয়ে সংকট তীব্র হয়েছে। ঘটনাগুলোর সময়গত নৈকট্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হয়েছে।

আগেই চাপে ছিল দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা

আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা সংকটে ছিল। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির ঘাটতিতে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছিল না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আদানি পাওয়ার জানিয়েছিল, ভারতের রেলপথে জট, লোডিং বিধিনিষেধ ও কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে গোড্ডা কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অফ-পিক সময়ে উৎপাদন কমিয়ে সন্ধ্যার চাহিদার সময় সরবরাহ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

১১ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, আগের রাতে কেন্দ্রটি ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করলেও একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। কেন্দ্রটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বয়লারের সমস্যার কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়েছে এবং সেটি ঠান্ডা করতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা প্রয়োজন হতে পারে। পিডিবির একজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি ফিড ইউনিটে সমস্যা ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়; পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।

২০১৭ সালের চুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা

আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয় ২০১৭ সালে। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট। আগের সরকারের সময় করা এই দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এখনো বিদ্যুৎ কিনছে।

চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ, উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কী দায় রয়েছে, তা নির্ভর করবে চুক্তির নির্দিষ্ট ধারার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধ বা চুক্তি লঙ্ঘনের পরিস্থিতিতে পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকতে পারে, তবে সেটিও চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভরশীল।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর বাতিলের পরই আদানির বিদ্যুৎ কমল, উঠছে  নানা প্রশ্ন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণ...

সফর বাতিলের পরই কেন প্রশ্ন উঠছে

ঢাকা-দিল্লির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছিল। ১০ সেপ্টেম্বর জানানো হয়, তিনি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যাচ্ছেন না। বাংলাদেশের অবস্থান ছিল, আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম ভারত সফরটি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ‘অনুকূল পরিবেশ’-এর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিল ঢাকা।

এর পরদিনই গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে। সময়ের এই মিল সন্দেহ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সন্দেহকে প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি দেয় না যে সফর বাতিলের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় বড় প্রশ্ন

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আমদানিনির্ভরতার চাপে রয়েছে। গ্যাস সংকটে দেশের বহু কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। ১১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকার বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। ফলে আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হওয়া বিদ্যমান সংকটকে আরও বড় করেছে।

এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—গোড্ডা কেন্দ্রের ত্রুটির প্রকৃতি কী, মেরামত কত দ্রুত হচ্ছে, কয়লা সরবরাহের সমস্যা কেন দীর্ঘস্থায়ী হলো এবং সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিতে আদানি পাওয়ারের দায় কী। পাশাপাশি বাংলাদেশ কী ধরনের ক্ষতিপূরণ বা চুক্তিগত প্রতিকার পেতে পারে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ কোনো রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার নয়

প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাবেন কি না, সেটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। একইভাবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও চুক্তির শর্ত, আন্তর্জাতিক রীতি ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। বাংলাদেশ আদানির কাছ থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ নেয় না; এটি একটি বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় কেনা বিদ্যুৎ। তাই সরবরাহ ব্যাহত হলে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের অধিকার কী, সেই প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।

ঘটনাগুলো পরপর ঘটেছে—এটি তথ্য। কিন্তু একটি ঘটনা অন্যটির কারণে ঘটেছে—এটি এখনো প্রমাণিত নয়। তাই উত্তর খুঁজতে হবে রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, চুক্তি, নথি, উৎপাদনের তথ্য এবং আদানি পাওয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায়। যদি এটি নিছক কারিগরি ত্রুটি হয়, দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ। আর যদি রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক চাপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিষয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে পরিণত হবে।